অপরেশনাল কার্যক্রমের এক বছরে পায়রা সমুদ্র বন্দর

Feature Image

কলাপাড়া(পটুয়াখালী) থেকে মো.ইমরানঃ  সীমিত অবকাঠামোয় নৌ পথে পন্য পরিবহনের মাধ্যমে অপরেশনাল কার্যক্রমের এক বছর পূর্ণ করলো দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রা। ২০১৬ সালের ১৩ আগষ্ট স্বল্প পরিসরে পায়রা বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতিমধ্যে এ বন্দরে পন্য খালাস করেছে পন্যবাহী ১৫টি বিদেশী জাহাজ। সরকার রাজস্ব আয় করেছে প্রায় ২১ কোটি টাকা। যাকে সফলতার নতুন হাতছানি মনে করছেন বিনিয়েগকারী এবং বন্দর সংশ্লিস্টরা।

২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মহা পরিকল্পনা নিয়ে কলাপাড়ার রাবনাবাদ চ্যানেলের মোহনায় পায়রা বন্দরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। এরই মধ্যে ১৬ একর জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে জেটি ও অত্যাধুনিক কনটেইনার ক্যারিয়ার, রাজস্ব বোর্ড শুল্ক স্টেশন, নিরাপত্তা ভবন। চলছে চার লেন রাস্তা, অফিসসহ বিভিন্ন ভবন নির্মানের কাজ। নিয়োগ দেওয়া হয়েছে শিপিং এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডও। বন্দর উন্নয়নে মুল চ্যানেলের গভীরতা ৮ মিটার থেকে ১২ মিটারে বৃব্দির জন্য বেলজিয়াম হারবার ইতিমধ্যে শুরু করেছে সমীক্ষার কাজ। লাইটারেজ জাহাজের নির্বিঘেœ চলাচলের জন্য বরিশালের হিজলা পর্যন্ত ৫মিটার ড্রেজিং সম্পন্ন হয়েছে। এলএমজি টার্মিনাল নির্মানের সমীক্ষার কাজ করবে জাপানের একটি দল। ধুলাসার থেকে প্রায় সাত হাজার একর জমি অধিগ্রহনের কাজও প্রায় সম্পন্নের পথে।

 

রেলপথ, বিমান বন্দর নির্মানসহ বন্দর নিরাপত্তায় নৌ-বাহিনীর ঘাটি নির্মান কাজ এগিয়ে চলছে দ্রæত গতিতে। পর্যায়ক্রমে এটি গভীর সমুদ্রবন্দরের রূপ নিয়ে চার লেনের মহাসড়ক ও ডাবল গেজ রেললাইনে যুক্ত হয়ে পরিপূর্ণভাবে চালু হবে ২০২৩ সালে। ২০২৩ সালে পূর্নাঙ্গ বন্দর হিসাবে চালুর পাশাপাশি বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডর বিসিআইএমের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠবে পায়রা বন্দর এমন পরিকল্পনা নিয়ে বন্দর এলাকায় চলছে মহা কর্মযজ্ঞ।

বন্দরের নিরাপত্তা এবং দ্রæত পন্য খালাস প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বিদেশী জাহাজের প্রতিনিধিরা। বন্দর ব্যবহারকারী আমদানীকারকরাও একই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন । তবে চার লেন সড়কসহ পদ্মা সেতুর নির্মান কাজ সম্পন্ন হলে পন্য পরিবহনে আরো বেশি বন্দরের গতিশীলতা আসবে বলে মনে করছেন আমদানীকারকরা।

চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে পারে না এমন বড় জাহাজ জোয়ার-ভাটার অপেক্ষা না করে সারা বছরই ভিড়তে পারবে পায়রা বন্দরে। নেপাল ও ভুটান খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারবে এই বন্দর।
পটুয়াখালী জেলা রাজস্ব কর্মকর্তা ভূদেব চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, শুধুমাত্র নৌ-পথকে ব্যবহার করে এর মাধ্যমে সরকার রাজস্ব আয় করেছে প্রায় ২১ কোটি টাকা। যা থেকে বন্দরের আয় হয়েছে প্রায় ৮৪ লক্ষ টাকা।

আরো খবর »