বাস্তবায়নের পথে মহম্মদপুরের ‘শেখ হাসিনা’ সেতু

Feature Image

মহম্মদপুর মাগুরা থেকেঃ মাহাবুব ইসলাম উজ্জ্বল:  মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরের মধুমতি নদীর ওপর সেতুর নির্মাণকাজ শেষের পথে থাকায় বাস্তবায়নের পথে মহম্মদপুর উপজেলা বাসীর স্বপ্নের শেখ হাসিনা সেতু। মহম্মদপুর সদরসহ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবি মধুমতি নদীর ওপর একটি সেতুর। শেখ হাসিনা সেতুটি চালু হলে মাগুরা- নড়াইলের সাথে প্রতিবেশী ফরিদপুরের মেলবন্ধন তৈরী হবে। সেতুটির কাজ সম্পন্ন হলে উপজেলা সদরের সঙ্গে ঢাকার দুরত্ব কবে আসবে প্রায় ৪০ কিলোমিটার।

 

বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলের এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমির নামমাগুরার মহম্মদপুর। উপজেলার চারপাশ জুড়েই রয়েছে প্রকৃতির অকৃপণ রুপ- লাবণ্য। কিস্তু মহম্মদপুর সদরের অতি সন্নিকটে মধুমতি নদীতে বেষ্টিত গ্রামগুলোতে সকল ক্ষেত্রে আধুনিকতারছোঁয়া লাগলেও শুধুমাত্র যোগাযোগ ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে তারা। এ জনপদেরবহুবছরের দাবি মধুমতি নদীর ওপরে একটিসেতু তৈরী করে পাশ্ববর্তী জেলা ফরিদপুরসহ রাজধানী শহর ঢাকার সাথে সরাসরি যোগাযোগ ব্যাবস্থা গড়ে তুলতে হবে। স্বাধীনতা সংগ্রামের পর থেকেই মহম্মদপুর বাসীর নদী পারাপার নিয়ে ছিলো চরম ভোগান্তি।মহম্মদপুর বাসীকে দেওয়া নির্বাচনী ওয়াদা রক্ষায় মাগুরা-২ আসনের এমপি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. শ্রী বীরেন শিকদারের প্রচেষ্টায় ও প্রধানমন্ত্রীর উদ্দ্যোগে বর্তমানে বাস্তবায়নের পথে মহম্মদপুর বাসীর স্বপ্নের শেখ হাসিনা সেতুটি। সেতুটির কাজ প্রায় শেষের দিকে। খুব শীঘ্রই সেতুটির কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।মহম্মদপুর উপজেলা স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৭ নভেম্বর উপজেলা সদরের জাঙ্গালিয়ায় মধুমতি নদীর বাশঁতলা খেয়াঘাট এলাকায় ৬০০ দশমিক ৭০ মিটার পিসি গার্ডার সেতুর নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. শ্রী বীরেন শিকদার এমপি।

 

২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর এ সেতু নির্মাণের কার্যদেশ পায় ম্যাক্স-রেনকিন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারীতে মাটি পরীক্ষা ও মার্চে সেতুর মূল কাজ শুরু হয়। ৫৯ কোটি ৯০ লক্ষ ৩৪ হাজার ৭০৫ টাকা ২৫ পয়সা ব্যয়ে১৮ মাসের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে ইতোমধ্যে সেতুর ৯৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শেষ হতে পারে কাজ। সেতুটি বাস্তবায়ন হওয়ায় উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে মহম্মদপুর বাসীর জনমনে। শুধু উদ্ভোধনের অপেক্ষায় রয়েছে বহুল প্রত্যাশিত এ স্বপ্নের শেখ হাসিনা সেতুটি।পুরো কাজ সম্পন্ন হলে মহম্মদপুর বাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থা হবে সহজত। কমবে জনসাধারনের ভোগান্তি।মহম্মদপুর সদরের পাট ব্যবসায়ী হাসান মোল্যা বলেন, আমাদের অনকে দিনের স্বপ্ন পূরণ হবার পথে। মধুমতি নদীর ওপর সেতু হলে পাশ্ববর্তী জেলা ফরিদপুরে পৌছাতে সময় লাগবে মাত্র এক ঘন্টা। ক্রয়কৃত পণ্য স্বল্পসময়ে কম খরচে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতে পারবো।

 

মহম্মদপুর উপজেরা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) চৌধুরী রওশন ইসলাম বলেন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. শ্রী বীরেনশিকদার এমপি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে মধুমতি নদীরওপর ৫৯ কোটি ৯০ লক্ষ ৩৪ হাজার ৭০৫ টাকা ২৫ পয়সা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে শেখ হাসিনা সেতুটি। সেতুটি মহম্মদপুরবাসীর জন্য জনগুরুত্বপূর্ণ। সেই সাথে প্রাশাসনিক দায়-দায়িত্ব পালন করতেও সহজতর হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

আরো খবর »