সৈয়দপুর শহর রক্ষা বাঁধের ১’শ মিটার বিলিন, সেনা মোতায়েন

Feature Image

নীলফামারী থেকে আব্দুর রাজ্জাকঃ  টানা বর্ষণে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহর রক্ষা বাঁধের ১০০ মিটার ভেঙ্গে গিয়ে শহরে পানি ঢুকে পড়েছে। খড়খড়িয়া নদীর বাম তীরে পশ্চিম পাটোয়ারীপাড়া ও বসুনিয়া পাড়া নামক দুটি স্থানে শহর রক্ষা বাঁধে বিলীন হয়েছে। আজ রোববার ১৩ আগস্ট সকালে বাঁধ বিলিন হওয়ায় সৈয়দপুর সেনানিবাস শহরের কুন্দল, পাটোয়ারীপাড়া, নয়াবাজার, সুড়কিমিল, কাজীপাড়া, হাতিখানা, নতুন বাবুপাড়া, মিস্ত্রীপাড়া, বাঁশবাড়ি মহল­ায় হু হু করে পানি ঢুকে পড়ে। সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র আমজাদ হোসেন সরকার জানান, গত চার দিনের বর্ষণে শহরের অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তার উপর শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় সেনানিবাস এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পানি ঢুকে পড়েছে।

 

তাৎক্ষণিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী বন্যার তোড়ে রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। সৈয়দপুর বিমানবন্দরেও যে কোনো সময় বন্যার পানি ঢুকতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সৈয়দপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী (পাউবো) শহীদুল ইসলাম জানান, শহর রক্ষা বাঁধের দুইটি স্থানে প্রায় ১০০ মিটার বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। ভাঙ্গনরোধে সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পৌরসভা, সেনাবাহিনী সহ সম্মিলিতভাবে কাজ করছি। সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বজলুর রশীদ জানান, বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মোখছেদুল মোমিন। এর আগে গত ২৪ ঘন্টায় সৈয়দপুর উপজেলার কাশীরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের চিকলী নদীর চওড়া পালপাড়া ব্রীজ হইতে মাদ্রাসা পর্যুন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এ বাধটি ঝুকিপুর্ন অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে একটানা চব্বিশ ঘন্টা সিমেন্ট’র বস্তায় বালু ভর্তি করে বাধ রক্ষায় চেষ্টা করে।

 

এ সময় সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন এলাকাবাসীর সাথে হাত মিলিয়ে বাঁধ রক্ষায় উৎসাহ যোগান এবং তাৎক্ষনিক বাঁধ নির্মানে প্রয়োজনীয় সিমেন্ট ও ব্যাগ সরবরাহ করেন। এলাকাবাসী উক্ত বাঁধটি কমপক্ষে চার ফুট উচু, পাকা রাস্তা সহ ব্লক দ্বারা নদীর তীর নির্মানের দাবী জানালে তিনি এলাকাবাসীর দাবী পূরণে আশ্বাস দেন। তবে সব চেষ্টা ব্যার্থ হয়ে যায় বাধটি ধসে গিয়ে।

আরো খবর »