আমাদের দল সবার মন জয় করেছে

Feature Image

বিনোদন প্রতিবেদক : পুরো নাম ফারজানা হৃদি শেখ। সেরা নাচিয়ে সিজন ২ চ্যাম্পিয়ন। ‘ক্লোজআপ কাছে আসার অফলাইন গল্প’ বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে তারক্যাখাতি পেয়েছেন। বাংলাদেশে কদিন আগেও হৃদি শেখ খুব একটা পরিচিত মুখ ছিলেন না। তবে বিদেশে তার জনপ্রিয়তা বেশ। বিভিন্ন দেশে তার কাজের ফিরিস্তিও বেশ লম্বা। বেলারুশ, ইউক্রেন, ভারত, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া, সুইডেন ও পর্তুগালে নাচের শো, মডেলিং ও কোরিওগ্রাফির মাধ্যমে তুলে ধরেছেন দেশের সংস্কৃতি। সম্প্রতি তিনি সবার নজর কেড়েছেন ভারতের বিখ্যাত ড্যান্স রিয়েলিটি শো ‘ড্যান্স প্লাস সিজন থ্রি’তে অংশ নিয়ে। এই বিষয়টি নিয়ে মুম্বাই থেকে স্বাধীনবাংলা২৪.কম এর সঙ্গে কথা হয়  হৃদির।

ড্যান্স প্লাসে সুযোগ পেলেন কিভাবে?
আমি যেহেতু ইন্টারন্যাশনালি অনেক নাচের অনুষ্ঠান করে ইউটিউবে পরিচিত তাই ড্যান্স প্লাসের গত ২ সিজনেও আমাকে তারা আমন্ত্রণ জানায়। কারণ, যে কোম্পানি এটা আয়োজন করছে তারা এর আগে ‘ড্যান্স ইন্ডিয়া ড্যান্স সিজন ৫’ আয়োজন করেছিল। সেখানেও আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল আগেই, কিন্তু যাওয়া হয়নি। এবার যখন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকার বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী কুমারী সুরাজের সঙ্গে আমাকে নাচের প্রস্তাব দেওয়া হয় তখন না করতে পারিনি। কারণ, সুরাজের সঙ্গে আমার এর আগেও ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপে কথা হতো। আমি তার নাচের ভক্ত। সুতরাং, এ বছর চলেই এলাম বাংলাদেশ আর রাশিয়ার প্রতিনিধি হয়ে।

আপনার দলে আর কে কে আছে?
‘হাউজ অব সুরাজ’ নামে আমাদের দলটাই সবচেয়ে বড় মহিলা নৃত্যশিল্পীর দল। তাছাড়া আমাদের দলটি খুবই স্বকীয়। কারণ এখানে সাতটি দেশের ৭ জন প্রতিনিধি রয়েছেন যারা ৭টি ভিন্ন স্টাইলে নাচ করে থাকেন। সবগুলো নাচ মিশিয়ে আমরা নতুন একটা নাচের স্টাইল তৈরি করেছি যেটা আজ পর্যন্ত বিশ্বের কোথাও কেউ করেনি। এখানে আমি ছাড়াও আছে কুমারী সুরাজ (দলনেতা, আমেরিকা), শ্রী টেভেটার (থাইল্যান্ড ও নরওয়ে), মেঘলা বোস (কলকাতা ভারত), সিমি তালসানিয়া (মুম্বাই, ভারত) ও জোয়া কাজী (আমেরিকা, ভারত)।

ড্যান্স প্লাস সিজন থ্রি কি নিয়মে চলছে জানতে চাই?
এই শোতে তিনটি টিমের মধ্যে প্রতিযোগিতা হচ্ছে। তিনটি টিম হলো টিম ধর্মেশ, টিম শক্তি ও টিম পুতিন। ধর্মেশ, শক্তি ও পুতিন এরা তিনজনই বিজয়ী হয়েছিলেন ‘ড্যান্স ইন্ডিয়া ড্যান্স সিজন-২ এ’। বর্তমানে তারা ভারতের নাচে জনপ্রিয় মুখ। আমি নির্বাচিত হয়েছি পুতিনের টিমে। তিনি ‘ড্যান্স ইন্ডিয়া ড্যান্স সিজন-৫’ এর বিচারক হওয়া ছাড়াও অভিনয় করেছেন বলিউডের বিখ্যাত কোরিওগ্রাফার রেমো ডি সুজার ‘এবিসিডি’ সিরিজের ছবিতে। প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন দেশ থেকে ভিন্ন ভিন্ন ড্যান্স স্টাইলের তারকা শিল্পীরা আসছেন। তাদের সঙ্গেও আমাদের প্রতিযোগিতা করতে হবে। বর্তমানে আমাদের দল ‘হাউজ অব সুরাজ’ সেরা ১২ তে আছে। এখান থেকে শিগগিরই সেরা ৬ নির্বাচিত হবে। আমরা সেরা ছয়ে থাকব কিনা এখন বলতে পারব না, কারণ ওই পর্বটি টিভিতে দেখাবে আরও কয়েক সপ্তাহ পরে। তবে আশা করছি আমরা ফাইনাল রাউন্ড পর্যন্ত যাব ও বিজয় নিয়ে দেশে ফিরব।

ড্যান্স প্লাস সিজন থ্রি-তে নাচের অভিজ্ঞতা কেমন?
আমি দারুণ উচ্ছ্বসিত। ভীষণ মেধাবী সব নৃত্যশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করছি। প্রতিটি দল খুবই শক্তিশালী। তাদের থেকে এগিয়ে যাওয়াটা অনেক চ্যালেঞ্জিং। তবুও আমাদের দল সবার মন জয় করেছে নিজেদের দক্ষতায়। আমরা এরইমধ্যে পণ্ডিত বিরজু মহারাজ, শাহরুখ খান, হৃত্বিক রোশন, ইমতিয়াজ আলী, রেমো ডি’সুজার মতো তারকাদের সামনে নাচার সুযোগ পেয়েছি। অনেক নতুন কিছু শিখতে পেরেছি।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালে মস্কোর ‘মিনি মিস প্রেসনা’, ২০১১ সালে ‘বলিউড ড্যান্স স্টার’ চ্যাম্পিয়ন, একই বছর ‘মিস প্লেখানোভ ইউনিভার্সিটি’ ও পরের বছর ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’, ইউক্রেনের নাচের বিখ্যাত রিয়ালিটি শো ‘সো ইউ থিংক ইউ ক্যান ড্যান্স সিজন-৫’, কোরিওগ্রাফার অব রাশিয়ান সেলিব্রেটি ও ফেস অব রাশিয়ান ব্র্যান্ড ‘মিডিয়া মার্কেট’ হয়েও কাজ করেছি।

আরো খবর »