কঠিন সমীকরণের সামনে মাশরাফি

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ক্রীড়া ডেস্ক: কন্ডিশন বিচারে সফরকারী দলের জন্য কঠিন জায়গা সাউথ আফ্রিকা। সেখানে আগামী সেপ্টেম্বরে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে যাবে বাংলাদেশ দল। সফরে রয়েছে দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টুয়েন্টি। ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দেখছেন প্রোটিয়াদের মাটিতেই।

মাশরাফী ওয়ানডে দলের অধিনায়ক হওয়ার পর থেকে দেশ ও দেশের বাইরে একের পর এক সাফল্য দেখিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সাফল্যের এই ধারা সাউথ আফ্রিকায়ও ধরে রাখতে চায় টাইগাররা। সম্প্রতি একটি টিভি চ্যানেলের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় টাইগার অধিনায়ক বললেন, সেই কাজটা খুবই কঠিন।

মাশরাফীর মতে, ‘সম্ভবত সবচাইতে চ্যালেঞ্জিং ট্যুর হতে যাচ্ছে এটাই। টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টুয়েন্টি- সব ফরম্যাটেই। সাউথ আফ্রিকা একমাত্র জায়গা যেখানে বিশ্বের সেরা সেরা দলেরও ভাল করা কঠিন। অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড সবার কঠিন সময় যায় সেখানে। কারণ প্রোটিয়ারা যখন ব্যাটিং করে, উইকেট খুব ভাল বুঝতে পারে। বোলাররা যখন করে, তারাও পারে। ঘরের মাঠের সুবিধা আফ্রিকার চেয়ে কেউ ভাল নিয়ে পারে না! এমনকি ভারতও পারে না। অনেক চ্যালেঞ্জিং সিরিজ হবে সেখানে।’

কঠিন কন্ডিশনে গিয়ে যদি কিছুটা ভাল করা যায় সেটি বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে বলে মনে করছেন মাশরাফী, ‘আমি মনে করি এটাও আমাদের জন্য ভাল। আমরা যদি সাউথ আফ্রিকায় মোটামুটি ভালও করে আসতে পারি, সেটা আমাদের আরেক ধাপ উপরে তুলে নেবে। ওখানে ভাল করতে পারা মানে খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস আসবে যে, পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় গিয়েই পার্থক্য গড়তে পারব।’

সামনের কথা বলতে বলতে উঠে এল পেছনের প্রসঙ্গও। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে যখন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান মাশরাফী, সময়টাতে হারের বৃত্তে বন্দী মুশফিক-সাকিবরা। মাশরাফী অধিনায়ক হয়ে ফিরতেই দেখা গেল নতুন এক বাংলাদেশকে। ঘরের মাটিতে একের পর এক সিরিজ জয়। বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজেদের সেরা সাফল্য।

এত সাফল্য আসবে সেটি নাকি ভাবেননি মাশরাফী নিজেও। সেপথে ‘ম্যাচ বাই ম্যাচ’ ধরে খেলার চিন্তাটাই কাজে লেগেছে বলে জানালেন, ‘এগুলো ভেবে হয় না। তবে ক্যাপ্টেন্সি যখন পেয়েছি তখন প্রথমে একেকটা করে সিরিজ টার্গেট করেছি। তারপর একেকটা করে ম্যাচ। কোনও সিরিজে হয়ত তিনটা ম্যাচ ছিল, সবসময় ‘ম্যাচ বাই ম্যাচ’ খেলার চেষ্টা করেছি। যদি চিন্তা করতাম সামনে এতগুলো চ্যালেঞ্জ, তখন কাজটা কঠিন হত। আমি আসলে ছোট ছোট করে চিন্তা করেছি।’

একটু একটু করে এগিয়ে গেলেও অধিনায়কত্ব পেয়ে দ্রুতই দলে ছড়িয়েছেন আক্রমণাত্মক খেলার মন্ত্র। যে মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন সিনিয়র-জুনিয়র ক্রিকেটাররা। মাশরাফীর ভাষায়, ‘আমর আসলে তখন এমনিতেও পারছিলাম না। তাই হারানোরও কিছু ছিল না। একটাই রাস্তা ছিল সামনে, আত্মবিশ্বাস নিয়ে উইকেটে গিয়ে শট খেলা। বোলাররা ডিফেন্স বোলিং না করে আক্রমণাত্মক বোলিং করা। আক্রমণাত্মক বলতে, অ্যাটাক ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স, এই মন্ত্রটা অনেক সাহায্য করেছে।’

আক্রমণাত্মক খেলার মন্ত্রে কতটা বদলেছে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের ধরন? সেটি একজনের উদাহরণ টেনে বুঝিয়ে দিলেন মাশরাফী, ‘এখন খেলোয়াড়দের দেখেন, শেষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে রিয়াদের (মাহমুদউল্লাহ) ব্যাটিং দেখেন। চাপের সময়ও বোলারদের উপর অ্যাটাক করেছে, কাউন্টার অ্যাটাক দিয়েছে। খেলা দেখলেই বোঝা যায়। আমি কী বললাম সেটা বিষয় না। সবার নিজস্ব বিবেচনা থাকা উচিত। দেখলে বোঝা উচিত কে কতটা বদলেছে।’

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »