লালপুরে পদ্মায় ধ্বসে পড়ছে সিসি ব্লক হুমকীর মুখে ছয় গ্রামের মানুষ

Feature Image

উপজেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

লালপুর (নাটোর) থেকে মাজহারুল ইসলাম: নাটোরের লালপুর উপজেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহমান প্রমত্তা পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে তীব্র ভাঙ্গন না থাকলেও নদীর বাম তীর রক্ষায় নির্মিত সিসি ব্লকের তৈরী নদী ভাঙ্গন রোধ ব্যবস্থা ৪ টি পয়েন্টের সিসি ব্লক ধ্বসে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে হুমকীর মুখে পড়েছে নদী তীরবর্তী এ এলাকার ছয় গ্রামের মানুষ। ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্থ ব্লক পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাডঃ আবুল কালাম আজাদ, লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নাটোরের নির্বাহী প্রোকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার ও লালপুর উপজেলা পরিষরে চেয়ারম্যান হারুনর রশিদ পাপ্পু।

বুধবার (১৬ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদী তীরবর্তি পালিদেহা, গৌরীপুর, নুরুল্লাপুর, লক্ষীপুর, তিলকপুর ও নবীনগর পয়েন্টে সিসি ব্লক নির্মিত তীর রক্ষা বাধে ছোট বড় ধ্বস নেমেছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শুধু মাত্র নুরুল্লাপুর পয়েন্টে ব্লক ধ্বসে যাওয়ার চিত্র দৃশ্যমান আছে। বাকি গুলো পানির মধ্যে ডুবে গেছে। নুরুল্লাপুর গ্রামের ৮০ বছরের বৃদ্ধ নুরুল ইসলাম জানান, গত কয়েক বছর আগে নির্মিত এই ব্লক পানি বাড়ার সাথে সাথে ধ্বসে গেছে। দুদিন আগে ধ্বসের পরিমান প্রায় ৫০ মিটার ছিল কিন্তু আজ তা প্রায় ১০০ মিটার ছাড়িয়ে গেছে। এটি ছাড়াও পার্শবর্তী লক্ষীপুর ও তিলকপুর পয়েন্টেও ধ্বস নেমেছে, তবে পানি বৃদ্ধির কারনে তা এখন দেখা যাচ্ছেনা। ওই এলাকার তথা ২ নং ঈশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জয় জানান, উপজেলার নদী তীরবর্তী পালিদেহা, গৌরীপুর, নুরুল্লাপুর, লক্ষীপুর, তিলকপুর ও নবীনগর পয়েন্টে সিসি ব্লকে ফাটল ও ধ্বস নেমেছে। পানি কমতে থাকলে তা বিকট আকার ধারন করবে। ফলে উক্ত এলাকার বাসিন্দারা ভাঙ্গনের হুমকিতে রয়েছে। এদিকে পালিদেহা, গৌরীপুর, নুরুল্লাপুর, লক্ষীপুর, তিলকপুর ও নবীনগর গ্রামের নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বাসিন্দারা অবৈধ্যভাবে বালু উত্তোলনকে সিসি ব্লকের এ ধ্বসের মূল কারন সিসাবে দেখছেন। তারা জানান ‘বালু মহল ইজারা না থাকলেও প্রতি বছর নদীর এ এলাকা থেকে ড্রেজিংএর মাধ্যমে বালু  উত্তোলন করে থাকে প্রভাবশালীরা,নদীর তলদেশ থেকে বালি উত্তোলনের ফলে ব্লকের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে সিসি ব্লক নদীতে ধ্বসে পড়ছে।’

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, বালু মহাল নিয়ে মামলা থাকায় ২০০৯ সাল থেকে লালপুরের বালু মহাল ইজারা দেওয়া হয়নি। এছাড়া পালিদেহা, নবীনগর, লক্ষীপুর এসব এলাকা বালু মহল হিসেবে ঘোষণা হয়নি। ফলে ইজারা দেওয়ার কোন সুযোগ নেই।

এদিকে গত ১৩ আগস্ট বিকেলে নদীর পানি ও তীর সংরক্ষনে সিসি ব্লক নির্মিত বাধ সরেজমিনে পরিদর্শনে যান স্থানীয় তথা নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডঃ আবুল কালাম আজাদ। তিনি সিসি ব্লক ধ্বসে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় ভুমি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে ফোনে কথা বলেন। এর পরের দিন  ১৪ আগস্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নাটোরের নির্বাহী প্রোকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম এবং ১৫ আগস্ট উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনর রশিদ পাপ্পু বাধ পরিদর্শনে যান। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নাটোরের নির্বাহী প্রোকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার জানান, নুরুল্লাপুর পয়েন্টে প্রায় ৪৫ মিটার ব্লক নদীগর্ভে ধ্বসে গেছে, সেখানে বালির বস্তা দিয়ে রক্ষার চেষ্টা করা হবে এবং পানি কমে গেলে স্থায়ী ভাবে সেটি সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে। এ ব্যাপারে লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম ধ্বসের পরিমান বেড়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, বৃহস্পতিবার ১৭ আগস্ট থেকে পনি উন্নয়ন বোর্ড ক্ষতিগ্রস্থ স্থানে বালির বস্তা ফেলে  তীর রক্ষার চেষ্টা চালাবে এবং পানি নেমে গেলে আবার সিসি ব্লক দিয়ে বাধ দেয়া হবে।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »