ফয়সাল হাবিব সানি’র কবিতা `পাহাড়’

Feature Image

প্রেমজন্ম থেকেই অাজন্ম সাধ অামার তোমাকে নিয়ে একদিন পাহাড়ে উঠবো। তবে কি জানো, পাহাড় চিনিনি বলে কখনো তোমাকে নিয়ে পাহাড়ে যেতে পারিনি!
তাতে কি হয়েছে? না হয় বুকের ভেতরের জমানো পাথরগুলো দিয়েই একদিন পাহাড় বানাবো; তারপরও দেখে নিও তোমায় পাহাড়ে উঠাবোই।

 

তোমার পায়ে নুপূর পরিয়ে দেবো। তুমি নুপূর পায়ে যখন পাথর বেয়ে পাহাড়ে উঠতে থাকবে তখন তোমার নুপূরের শব্দে সমস্ত পাথরের ঘুম ভেঙে যাবে, তারাও গভীর ধ্যান ও মগ্নে শ্রবণ করবে তোমার মুগ্ধ পদধ্বনি।
পাহাড়ে অবতরণের পর অাকাশও দু’টি হয়ে যাবে; মাটির বুকেও জন্ম নেবে অারেক অাকাশ, নিচে তাকালেই সে অাকাশ দেখা যায়। তবে এতো দূর থেকে তাকে ছোঁয়া যায়না, কেবলই অামার ভেতর সে অাকাশ ভীষণভাবে অনুভূত হয়। সে অাকাশ হাতছানি দিয়ে কাছে ডাকে অামাদের; হয়তো অামাকেই!

 

পাহাড়ে দাঁড়িয়ে অামরা দু’জন চোখ বন্ধ করব, তারপর…
তুমি চোখ খুলে অামায় অার দেখতে পাবে না!
দেখবে অামি ওই নিচের অাকাশের কাছে চলে গেছি, ঘুমিয়ে অাছি অঘোর!
তুমি চিৎকার করে করে ডাকবে…
তবু অামার ঘুম ভাঙবে না। অামার চোখে তখন অনাদিকালের ঘুম, ক্লান্তির সব ঘুমরা চোখে ঘুমিয়ে পড়েছে যে অামার!
তুমি অাকাশ ভালোবাসতে বলে অামি নিজেই অাকাশ হয়ে গেলাম অার তুমি অাজীবন রয়ে গেলে ওই পাহাড়ের বুকেই;
তুমি হাজার চেষ্টা করলেও এখন অার নিচে নামতে পারো না, এখন তোমাকে পাহারা দেয় কেবলই উপরের অাকাশ।

তুমি বলেছিলে, মাটির বুকেও যেদিন অাকাশ তৈরি করতে পারবে সেদিন নাকি তুমি বুঝবে তোমার অাকাশ অামার কাছে কতোটা প্রিয় ছিলো! অামি তো সত্যিই মাটির বুকে অাকাশ তৈরি করেছিলাম অার তুমি অাকাশ ভালোবাসতে বলে অাজ অামি নিজেই এক অাকাশ হয়ে গেছি!
তুমি অারও বলেছিলো দূরত্ব তোমার প্রিয়, কাছে অাসলেই সে তো হারাবার ভয়!
তাই অামি দূরত্ব বজায় রেখে হয়তো অাজ অনেক অনেক দূরে চলে গেলাম…
অার বুঝলাম, দূরত্ব যতোটা কাছে টানে ঠিক ততোটাই দূরে সরিয়ে রাখে!

আরো খবর »