দৌলতপুরে ৩০ হাজার বাড়ি-ঘর পানির নিচে

Feature Image

মানিকগঞ্জ থেকে জালাল উদ্দিন ভিকু : পদ্মা-যমুনাসহ জেলার অভ্যন্তরীন নদ-নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মানিকগঞ্জে বন্যার পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বন্যার পানি প্রবেশ করেছে হরিররামপুর উপজেলা পরিষদ চত্তরে। পানির স্রোতে রাস্তা ভেঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে জেলার সাথে হরিরামপুর উপজেলার।

এছাড়া জেলার শিবালয়, হরিরামপুর, ঘিওর, সাটুরিয়া, দৌলতপুরসহ ৫টি উপজেলার অন্তত ৩০টি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। দৌলতপুর উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার বানভাসি মানুষের বাড়ি-ঘরে হাটু ও কোমড় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গৃহ বন্দি পড়েছে ।বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যে জেলার ৮১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে সরেজমিনে ঘুরে দেখা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ ও যমুনা নদীর বন্যার পানি বৃদ্ধির ফলে যমুনা নদীর তীরবর্তী দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারী ইউনিয়নের নদীর পাড়ের চরকাটারী সবুজ সেনা উচ্চ বিদ্যালয়, চরকাটারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ,মাদ্রাসা, কমিউনিটি ক্লিনিক, চরকাটারী বাজার সহ শত শত মানুষের বাড়ি=ঘর আবাদি জমি-জমা হঠাৎ ডেবে নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে । এই ভয়ে চরকাটারী ইউনিয়নের নদীর পাড়ের মানুষ বাড়ি-ঘরে পানি তার পরেও ঘর ভেঙ্গে জিনিস পত্র নিয়ে নৌকা যোগে আশ্রযের খোজে অন্যত্র চলে যাচ্ছে ্ বন্যার পানিতে দৌলতপুরের চরকাটারী, বাচামারা, বাঘুটিয়া, জিয়নপুর, খলসী, চকমিরপুরএই ৬ টি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার বানভাসি মানুষের বাড়ি-ঘরে হাটু ও কোমড় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গৃহ বন্দি পড়েছে । চরা রের বানভাসি মানুষ লাকড়ির অভাবে রান্না-বান্না করতে না পেরে অর্ধাহারে অনাহারে ঘরে ও বাড়ির উঠানে মাঁচা পেতে মানুষ, গরু -ছাগল এক সাথে বসবাস করছে ।

চরকাটারী গ্রামের নদী ভাঙ্গনের শিকার আহাম্মদ আলী জানান-বর্ষাার শুরুতে বাড়ি নদীতে যাওয়ায় নদী থেকে ১ মাইল দুরে চরের উপর বাড়ি করেছি । এখানেও নদী কাছে চলে এসেছে বাড়ি-ঘরে কোমড় পানিতে তলিয়ে গেছে । লাকড়ি অভাবে রান্না-বান্না করতে খুব কষ্ট হচ্ছে । এক বেলা চিরা-মুড়ি ও এক বেলা ভর্তা ভাত খেয়ে কোন রকম ছোট-ছোট নাতি-পুতি নিয়ে বেচে আছি ।

চরকাটারী মন্ডল পাড়ার শফিক মন্ডল ও জাকির শেক জানান- নদীতে বাড়ি ভেঙ্গে এখানে বাড়ি করেছি নদী কাছে চলে এসেছে বাড়ি-ঘরে কোমড় পানিতে তলিয়ে গেছে । লাকড়ি অভাবে রান্না-বান্না করতে খুব কষ্ট হচ্ছে বাড়ি-ঘরে পানি অন্য দিকে গতকয়েক দিনের বৃষ্টি ও বন্যার পানি বৃদ্ধির ফলে দুর্ভোগ শুরু হয়েছে ।

জিয়নপুর ইউনিয়নের বৈন্যা গ্রামের মালতী রাজবংশী জানান-এক সপ্তাহ যাবৎ বৃষ্টি ও বন্যার পানি বাড়ি-ঘরে পানি কেও খোজ খবর নিতে আসে নাই । প্রতি বছর বন্যার পানি এলে সাংবাদিকরা ছবি তুলে নেয় পেপারে ছাপে-টিভিতে দেখায় কিন্তু মেম্বার -চেয়ারম্যানদের পেট ভোরে আমাগো ভাগ্যে দুই কেজি চাল জুটে ।

এবিষয়ে চরকাটারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক মন্ডল জানান- চরকাটারী ইউনিয়নে শত শত বাড়ি-ঘর বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে । কয়েক হাজার বানভাসি মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে । এদিকে যমুনা নদীর ভাঙ্গনে ইতিমধ্যে চরকাটারী ইউনিয়ন পরিষদ,ভূমি অফিস,চরকাটারী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কল্যান কেন্দ্র, চরকাটারী সবুজ সেনা উচ্চ বিদ্যালয়, ২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ ১২ শতাধিক বাড়ি-ঘর, আবাদি জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। সরকারী ভাবে ৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ হয়েছে । বরাদ্দকৃত ত্রান চাহিদার তুলনায় খুবই অপুতুল।

এদিকে বাচামারা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ জানান-আমার ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারন করেছে । প্রায় ৬ হাজার বাড়ি- ঘরে হাটু-কোমড় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বানভাসি মানুষের চরম দুর্ভোগ শুরু হয়েছে । সরকারী ভাবে পাঁচ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পেয়েছি । এসব অ লের রাস্থা ঘাট ও ঘর- বাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ সর্ম্পূণ বন্ধ হয়ে গেছে। দৌলতপুর -বাচামারা পাকা সড়কটির সমেতপুর নামক স্থানে পানির তোরে ভেঙ্গে গেছে । পানিতে তলিয়ে গেছে বোনা রোপা আমন ধানসহ বিভিন্ন প্রকার ফসলি জমি। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংঙ্কট ।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: মোজাম্মেল হক জানান-এপর্যন্ত চলতি বর্ষার পানি আসার পর এক হাজার নযশত পচাশি পরিবারে বাড়ি-ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে হয়েছে । বন্যার পানিতে চরকাটারী,বাচামারা,বাঘুটিয়া, জিয়নপুর, খলসী, চকমিরপুর এই ৬ টি ইউনিয়নের জন্য সরকারী ভাবে ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কানিজ ফাতেমা জানান- চরকাটারী ইউনয়নে ভাঙ্গন রোধে ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগে বালি ভর্তি যমুনা নদী ভাঙ্গন রোধ কল্পে অস্থায়ী প্রতিরক্ষা মুলক কাজ করা হয়েছিল পানির তোরে তা নদী গর্ভে চলে গেছে । বন্যায় প্লাবিত ৬ টি ইউনিয়নে সরকারী ভাবে ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ।

এছাড়া বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যে জেলার ৮১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুত্র মতে যমুনা নদীর আরিচা পয়েন্টে ১৭ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যা বিপদসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ।
বন্যার্তদের সাহায়্যের জন্য ইতিমধ্য জেলা ও উপজেল পর্য়য়ায়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

 

আরো খবর »