দাউদখালী গ্রামের একটি সড়কে  ৪ কিলোমিটার কাঁদা

Feature Image

জেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) থেকে এস.এম. আকাশ: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার দাউদখালী ইউনিয়নে গ্রামীন জন-গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তায় বর্ষা মৌসুমে হাটু সমান কাঁদা হওয়ায় এলাকার তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার এলাকাবাসী চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। প্রায় অর্ধশত বছর পেড়িয়ে গেলেও সড়কটিতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এব্যাপারে স্থানীয় জন-প্রতিনিধিদের কাছে রাস্তাটি সংস্কার করার জন্য বহুবার আবেদন- নিবেদন করা হলেও রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ।

ভুক্তভোগীরা জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে আশ্বাস পেতে পেতে আশা ছেড়ে দিয়ে বর্ষা মৌসুমে প্রায় হাঁটু সমান কাদার মধ্য দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, দাউদখালী ইউনিয়নের তেতুলতলা বাজার থেকে হাউদের কাচারি হয়ে হারজীনলবুনীয়া রবিন ঠাকুর বাড়ির সামনে থেকে পশ্চিম চালিতাবুনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তাটি পাকা না করায় বর্ষা মৌসূমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে ওই রাস্তা দিয়ে স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বয়স্করা কোনোমতে চলাচল করতে পারলেও  প্রাথমিকে পড়–য়া কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী এবং জরুরি রোগীদের পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। বিশেষ করে প্রসূতি রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে পড়তে হয় সীমাহীন দুর্ভোগে। এছাড়াও এ অঞ্চলের উৎপাদিত কৃষি পন্য বাজারজাত করার জন্য কৃষকদের কষ্টের সীমা নেই।

নবম শ্রেনীর শিক্ষার্থী মাহামুদা আক্তার জানান, বৃষ্টির সময় প্রতিদিনই জামাকাপড় কাদা পানিতে মাখামাখি হয়ে যায়। ফলে আমাদের লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটে। বাধ্য হয়ে স্কুলে যেতে হলে সাথে আলাদা পোষাক নিতে হয়।

নুরজাহান মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন জানান, এখানে দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। বর্ষার মৌসুমে রাস্তায় কাদা হওয়ায় স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার কমে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা আনিসুর রহমান জমাদ্দার অনেক দুঃখ করে বলেন, এই রাস্তাটির জন্য দীর্ঘ দিন যাবত কষ্টে আছি। বর্ষার দিনে ছেলেমেয়েদের নৌকা করে স্কুলে পৌছে দিতে হয়। বর্ষা মৌসুম এলেই ওই রাস্তায় রিকসা, ভ্যান ও মটরসাইকেলসহ সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ থাকে।

দাউদখালী ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক রাহাত রাস্তাটির দূর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, রাস্তাটির পাকা করণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বরাদ্ধের চেষ্টা চলছে।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »