রংপুরে বন্যায় ৫ লাখ ৩৭ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত

Feature Image

জেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

রংপুর: রংপুর বিভাগে বন্যায়  পাঁচ লাখ ৩৬ হাজার ৯৮৭টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভাগীয় প্রশাসন প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির একটি খসড়া করেছে। সেই হিসাবেই চলছে ত্রাণ বিতরণ।

জানা গেছে, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, ধরলা, দুধকুমার, আত্রাই, করতোয়া পূণর্ভবা, রত্মাইসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় দ্বিতীয় দফা বন্যা শুরু হয়েছে। কোথাও কোথাও বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা ও রংপুরের অনেক স্থান এখনো নিমজ্জিত রয়েছে। এবারের বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে দিনাজপুর ও কুড়িগ্রাম জেলায়। এর পরের অবস্থানে রয়েছে লালমনিরহাট জেলা। বন্যায় একাধিক স্থানে নদী রক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে। শত শত কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। বন্যায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক কোটির বেশি মানুষ। এই বন্যায় ফসলহানি সমগ্র দেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক শাহ আলম জানান, বন্যায় কৃষিতে কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে তথ্য আসলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত বিভাগের ৮ জেলায় পাঁচ লাখ ৩৬ হাজার ৯৮৭টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ৬৫ লাখ ১৪ হাজার টাকা এবং দুই হাজার ১২০ মেট্টিন টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে ৯ হাজার ৭০০ প্যাকেট। সেই হিসাবে পরিবার প্রতি বরাদ্দ হয়েছে ১২ টাকা ১৫ পয়সা এবং চাল বরাদ্দ পেয়েছে ৩ কেজি। ৮ জেলায় বন্যায় এ পর্যন্ত মারা গেছে ৪৭ জন। দুইজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

রংপুরের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিনু শীল জানান, বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। দুই একটি এনজিও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। তারা বন্যার্তদের পাশে এখনো দাঁড়ায়নি।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »