দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে, ৪৬টির পানি হ্রাস

Feature Image

ঢাকা : দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। নদ-নদীর ৯০টি পয়েন্টের মধ্যে ৪৬টির পানি হ্রাস, ৪৩টির বৃদ্ধি ও ১টি নদীর পানি অপরিবর্তিত অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে দেশের ২৮টি পয়েন্টে নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ঢাকার চতুর্দিকের ৫টি নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সে.মি থেকে ১২০ সে.মি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতলে বৃদ্ধি পেলেও ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি সমতলে হ্রাস পাচ্ছে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি আগামী ৪৮ ঘন্টা সমতলে বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও তা বর্তমানে বিপদসীমার প্রায় ৫৬-১২৩ সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি আগামী ৭২ ঘন্টা এবং সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী ২৪ ঘন্টা সমতলে হ্রাস অব্যাহত থাকতে পারে। তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার অববাহিকার নদীর পানি হ্রাস অব্যাহত রয়েছে, এতে এ অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকবে। মেঘনা অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় উন্নতি অব্যাহত থাকবে।

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি হ্রাস অব্যাহত থাকায় উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। ব্রহ্মপুত্রের চিলমারি পয়েন্টের পানি ২৪ সে.মি. কমে বর্তমানে বিপদসীমার ৪০ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর যমুনা নদীর বাহাদুরাবাদ, সারিয়াকান্দি, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ পয়েন্টের পানি যথাক্রমে ১৯ সে.মি.; ২২ সে.মি.; ১৬ সে.মি. ও ১৪ সে.মি. কমে বর্তমানে বিপদসীমার ১০২ সে.মি.; ১০০ সে.মি.; ১৩৮ সে.মি. ও ১৩৮ সেমি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৭২ ঘন্টা এ দু’নদীর পানি হ্রাস অব্যাহত থাকতে পারে। যমুনা নদীর একমাত্র আরিচা পয়েন্টে পানি ৩ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৭৫ সেমি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি ভারতীয় অংশের আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টায় গড়ে ২১ সেমি. হ্রাস পেতে পারে। বাংলাদেশ অংশের ব্রহ্মপুত্র-যমুনার বিভিন্ন্ পয়েন্টে আগামী ৭২ ঘণ্টায় হ্রাস অব্যাহত থাকবে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি আগামী ৪৮ ঘণ্টায় অব্যাহত থাকবে, তবে এই নদীর পানি বৃদ্ধির হার আগের তুলনায় কমে আসছে এবং বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
আজ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর অবস্থা সংক্রান্ত তথ্য এবং বিশেষ বন্যা সর্তকীকরণ বুলেটিন-৭ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিশেষ বুলেটিনে আরো জানানো হয়েছে, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা এই তিন অববাহিকার মধ্যে গঙ্গার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, ব্রহ্মপুত্রের উজানের ভারতীয় অংশে এবং মেঘনা অববাহিকার ভারতীয় ও বাংলাদেশ অংশে পানি হ্রাস অব্যাহত আছে। বিগত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টা হতে শুক্রবার সকাল ৬ পর্যন্ত) ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর ভারতীয় অংশের গোহাটিতে (বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ১৮০ কি.মি. উজানে) ৩৩ সে.মি, পান্ডুতে (বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ১৬০ কি.মি. উজানে) ২২ সে.মি, গোয়ালপাড়া (বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ৯০ কি.মি. উজানে) ২৭ সে.মি, এবং ধুবরী (বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ২৫ কি.মি. উজানে) ১৮ সে.মি পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সমতল নুয়াখাওয়া, চিলমারী, বাহাদুরাবাদ, সারিয়াকান্দি ও সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে হ্রাস অব্যাহত আছে।
দেশের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মুঞ্জিগঞ্জ ও শরীয়তপরের নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি অবনতিশীল থাকবে। গঙ্গা অববাহিকার পানি বৃদ্ধি পেলেও তা বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মধ্যাঞ্চলের ঢাকার চতুর্দিকের ৫টি নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সে.মি হতে ১২০ সে.মি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ।

Loading...

আরো খবর »