ফুচকা পর্ব ৭

Feature Image

আজ ফুচকার ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরি হয়ে গেছে । গত রাতে ছৌ নাচ দেখে ফিরতে প্রায় ১১ টা বেজে গেছে । তিন দিন ধরে লোকসংস্কৃতি মঞ্চে বিশাল অনুষ্ঠান হচ্ছে । কাল পুরুলিয়ার ছৌ নাচের দল এসেছিল । বাবা তিনটে গেস্ট কার্ড পেয়েছিল, তাই ফুচকা তার ঠাম্মা আর মায়ের সাথে গেছিল সেই নাচ দেখতে । কোন দিন এরকম নাচ সে দেখে নি । ঠাকুর দেবতার মুখোশ পরে , তাঁদের ভূমিকায় অভিনয় করে নাচছিল সবাই । নাচ শুরু হবার আগে চার দিক অন্ধকার করে দেওয়া হয়েছিল, তারপর খোল,কর্তাল,ঝুনঝুনি সব বেজে উঠতেই মঞ্চে নাচতে নাচতে প্রবেশ করে বিভিন্ন চরিত্ররা । কখনো মাদুর্গা , কখনো শিব কখনো বা অশুর । সবাই কি সুন্দর নেচে নেচে অভিনয় করছিল । অসুররা আবার শূন্যে ডিগবাজী খাচ্ছিল । সব শেষে মা অসুর বধ করবেন । অশুর বধের দৃশ্যটা ফুচকা জীবনেও ভুলবে না । মাদুর্গা মঞ্চে কি সুন্দর নেচে নেচে কেঁপে কেঁপে উঠছিল, যেন কত রেগে আছেন মা । অশুর বধের সময় ঠাম্মারা উলু দিয়ে মা দুর্গাকে করজোড়ে প্রণাম করল ।

ফেরার পথে এলোমেলো ক্লাবের সামনে ধনা স্যারের কুকুর বাহিনীর হেড ডেলোর সাথে দেখা হয়েছিল ফুচকার । ডেলোকে এই প্রথম খুব হ্যান্ডসাম লাগল ফুচকার । ঠিক যেন হিন্দি সিনেমার নায়ক । ডেলোকে দু হাত তুলে দাঁড় করিয়ে দিলে ডেলো ফুচকার বাবার সমান লম্বা হবে । পোস্টের হলুদ আলো ডেলোর কমলা লোমের ওপর পরে সোনালী রঙের আভা বেরিয়ে আসছিল ওর শরীর থেকে । ঠাম্মার হাত ধরে যেতে যেতে ফুচকা একবার তাকিয়ে দেখলো , ডেলোর চোখ দুটো খুব গভীর , মনে হল যেন কুকুরের মুখোশের ভেতর কালো দুটো গভীর চোখ । ডেলো যেন মানুষ, কুকুরের ছদ্মবেশে ও কারুকে খুঁজছে । ফুচকাকে অনেক ক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে, ডেলোর মনে কিছু একটা সন্দেহ হয়েছে, কারন দিন কাল ভালো না । এরকম একটা ট্যাপা পটলের মতন চেহারার ছেলে, ভুঁড়ি ভাসিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে, ব্যাপারটা যথেষ্ট সন্দেহ জনক । ডেলো কথা না বাড়িয়ে ওদের পিছু নিলো । ডেলোর এই বিচক্ষণতার জন্য ও ধন্যা স্যারের কুকুর বাহিনীর ক্যাপ্টেন হতে পেরেছে । মাঝে মধ্যে একটু চমক দেখাতে হয়, না হলে পোস্ট টিকিয়ে রাখা মুশকিল । আজকাল টমটম নামে যে নতুন কুকুরটা এসেছে, ওর হাবভাব সুবিধের ঠেকছে না । অন্য কুকুররাও ওকে বেশ মান্যি করে । নিজের জায়গা বাঁচাতে ডেলো ফুচকাকে তার নতুন খোঁড়াক পেলো ।

ফুচকা পেছনে তাকিয়ে দেলো মায়ের পেছন , পেছন ডেলো আসছে । এখন ডেলোকে সিংহের মতন দেখাচ্ছে, মাদুর্গার সাথে সিংহ যেমন চলে, মায়ের সাথে ডেলো ঠিক সেই ভাবে যাচ্ছে । ফুচকাকে পেছন ফিরতে দেখে ডেলোর চোখ দুটো চকচক করে উঠল, সন্দেহ আর ঘনীভূত হয়ে গেলো । আজকাল পাড়া থেকে বহু কুকুর নিরুদ্দেশ হয়ে যাচ্ছে । টমটম খবর এনেছে রাতে একটা ট্রাক এসে থামে দুইসতিনের পুকুরের ধারে, সেই ট্রাকে করে বহু কুকুরকে পাচার করা হয়েছে । এই ছোকরা পাচারকারী দলের লোক বলে মনে হচ্ছে ।

রাত ১১ টা বেজে গেছে, আজ এ বাড়ির কারুর ডিনার খাওয়া হয় নি, আশেপাশের সব বাড়িতে থালাবাসনের আওয়াজ হচ্ছে, অনেক ক্ষণ দাদুর ঘরের মেঝেতে শুয়ে থেকে খিদের জ্বালায় বাইরের গেটের সামনে এসে বসেছিল ফুচকাদের বেড়ালটা । দূর থেকে সে দেখল ঠাম্মা, মা আর ফুচকা আসছে , সঙ্গে আবার একটা গোদা কুকুর । ডেলোকে দেখে বেড়ালটা একও লাফে ভেতরে ঢুকতে গিয়ে গ্রিলের মধ্যে পয়া আটকে একবার মুখ থুবড়ে পড়তে গিয়ে কোন ক্রমে ছুট দিলো । মা গেটের সামনে এসে বলল, মা, দেখেছেন কুকুরটা সেই কোথা থেকে আমাদের পিছু নিয়েছে । ঠাম্মা বলল, ধর্মরাজ কুকুরের ছদ্মবেশে পাণ্ডবদের রাস্তা দেখিয়েছিল । কে যে কিসের বেশে আসে বৌমা কেউ বলতে পাড়ে না । ঠাম্মা ডেলোকে বলল, তুই এখানে থাক, আমি আসছি । সকালের কিছু রুটি আছে, বেচারার মনে হয় খিদে পেয়েছে । সবাই ভেতরে চলে গেলে ডেলো এক ছুটে ধন্যা স্যারের বাড়ির দিকে রউনা দেয় । ঠাম্মা এসে যখন দেখে কুকুর নেই, ঠাম্মা একটা প্রণাম করে দরজা দিয়ে ভেতরে চলে আসে । রাতে খাবার টেবিলে কুকুরের হঠাৎ নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া নিয়েই কথা হতে থাকে । ঠাম্মা বলে, কয়েক সেকেন্ডের কথা, সাধারণ কুকুর এই ভাবে নিরুদ্দেশ হতে পাড়ে না ।

রাতে শুতে গিয়ে ঘুমের মধ্যে ফুচকা অনেক গুলো স্বপ্ন দেখে । সেই স্বপ্ন গুলো সব আলাদা হলেও, তাঁদের মধ্যে একটাই মিল যে তাঁরা প্রত্যেকে ছৌ নৃত্য করছিল । ঘুম আসার সাথে সাথে চারদিক কিরকম অন্ধকার হয়ে যায়, তার পর অন্ধকারের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসতে থাকে নানা রকম চরিত্ররা । কে নেই, পাড়া প্রতিবেশী, বাবা, মা, ঠাম্মা,, দাদু, ডেলো এমন কি বাড়ির বেড়ালটা পর্যন্ত ছৌ নৃত্যের কলা কুশলী । বাবা অশুর সেজে শূন্যে দুটো ডিগবাজী খেয়ে নেমে এলো ।তারপর মঞ্চে মায়ের প্রবেশ, মা দুর্গা সেজে মাথা ঝাঁকিয়ে শরীর কাঁপিয়ে হাতে ত্রিশূল নিয়ে প্রবেশ করলেন, সঙ্গে ডেলো সিংহ সেজে মাথা নাড়িয়ে নাড়িয়ে মঞ্চে আসলো । বাবার দিকে ডেলো তেড়ে যাচ্ছে, বাবা শূন্যে ঝাপ দিচ্ছে । তারপর অশুর বধের সেই সময় । ডেলোর শরীরটা হঠাৎ বেড়ে গিয়ে বিশাল বড় হয়ে গেলো । মা ডেলোর পিঠে উঠে অসুর বধ করছে । ঠাম্মা দাদু পার্বাতী আর শিব সেজে বসে আছে । অসুর বধের সময় ঠাম্মা উলু দিয়ে উঠল । সব শেষে ফুচকা নিজেকে দেখতে পেলো । সে গণেশ সেজে বসে আছে, তার পয়ায়ের সামনে বসে আছে বেড়ালটা । বেড়ালটাকে ইঁদুরের মতন দেখাচ্ছে ।

আজ রবিবার সবাই খাবার টেবিলে বসে এক সাথে চা জলখাবার খাচ্ছে । দাদু বাজার থেকে বেকারির বিস্কুট এনেছে । বাবা সেই বিস্কুট হাতে নিয়ে ঘুড়িয়ে ঘুড়িয়ে দেখছে আর বলছে উফফ এক সময় লম্বু কত খেয়েছি । নন্দ দার দোকানে দশ পয়সা করে লম্বু বিক্রি হত । বাবার মুখে কোন কিছুর প্রশংসা শোনা মানে ডুমুর গাছে ফুল দেখার সমান । লম্বু নামটা কিরকম অদ্ভুত, একটা গোল মোটা বিস্কুটের নাম লম্বু কি করে যে হয়, টেপু হতে পারে । ফুচকা চেয়ারে বসে দেখল বাবার কোদালের মতন দাঁত গুলোকে কি ভয়ঙ্কর দেখাচ্ছে । লম্বু চিবোনার সময় বাবার চোখ দুটো নন্দ দার দোকানের পাঁচ টাকা দামের লাড্ডুর মতন বেরিয়ে আসছে ,আর তা বনবন করে ঘুরছে । মা কখন দুধের গ্লাস দিয়ে গেছে ফুচকা লক্ষ্য করে নি , সে বাবার খাবার খাওয়ার মুদ্রার সাথে ছৌ নাচের মুদ্রার মিল খুঁজতে খুঁজতে বিভোর হয়ে গেছিল । এমন সময় বেড়ালটা ফুচকার পা ঘেঁষে টেবিলের তলায় ঢুকতে যায় আর ফুচকা এমন চমকে ওঠে যে তার ডান হাত লেগে দুধের গ্লাস যায় পরে । সেই দুধ ফুচকার পা দিয়ে গড়িয়ে হুলোর গায়ে গিয়ে পড়তেই হুলোটা টেবিলের তলা থেকে দিকবিধিক জ্ঞান শূন্য হয়ে ছুটতে গিয়ে ফুচকার বাবার পায়ে দেয় খামচে । এক দিকে গরম দুধ পায়ে পরে ফুকার চীৎকার অন্য দিকে বেড়ালটা টেবিলের তলা থেকে বেরিয়ে সামনে বেরোনর রাস্তা না পেয়ে সামনে ঠাম্মাকে পেয়ে ঠাম্মার গাইয়ে ঝাপ দিলো । ঠাম্মার শাড়ির মধ্যে বেড়ালের নখ গেলো আটকে , সে ঝুলতে থাকল । বাবা বেড়ালের খামচানি খেয়ে মাথা বিগড়ে ছুটে গেলো ফুকার দিকে । ফুচকা তখন লাফাচ্ছিল যন্ত্রণায় । হঠাৎ ফুকার দৃষ্টি গেলো বাবার দিকে । বাবা লাড্ডু লাড্ডু চোখ করে হাথটা মাথার ওপর সোজা তুলে কাঠের পুতুলের মতন ছুটে আসছে ফুকার দিকে । ফুচকার বাবাকে দেখে খুব হাসি পেলো , ফুকা সব যন্ত্রণা ভুলে গিয়ে হাসতে লাগল , বাবা যত মারছে, ফুচকার হাসিও বেড়ে চলেছে । এক সময় বাড়ির সবাই শুনতে পেলো রাস্তা থেকে কুকুরের চীৎকার আসছে । আর সেই চীৎকারটা বেশ তীব্র । মনে হচ্ছে যেন কুকুরদের মিছিল বেরিয়েছে রাস্তায় । বেড়ালটা কুকুরের চীৎকার শুনে ঠাম্মার কাপড় থেকে এক লাফে নেমে রান্না ঘরের পাশের দরজা দিয়ে পালাল । পাড়া প্রতিবেশীরা সবাই বারান্দায় এসে দেখে ফুচকাদের বাড়ির সামনে ডেলো, টমটম সহ গোটা পাঁচেক ষণ্ডা গুণ্ডা কুকুর এসে দাঁড়িয়ে চীৎকার করছে । ফুচকা হাসতে হাসতে ডাইনিং এর জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখল গত রাতের সেই কুকুরটা এসে দাঁড়িয়ে আছে । ফুচকা ঠাম্মাকে বলল , ও ঠাম্মমা দেখো তোমার ধর্মরাজ এসে গেছে । ফুচকার গলার আওয়াজ পেয়ে ডেলো তাকিয়ে দেখল জানালার দিকে । ফুচকাকে দেখে ডেলো জোড়ে চীৎকার করে উঠল । ডেলোর ইঙ্গিত পেয়ে টমটম সহ অন্য কুকুর গুলো সমস্বরে চেঁচিয়ে উঠল ।

ব্যাপারটা পুরোটাই প্রিপ্লান্ড । গত রাতে ডেলো ফিরে গিয়ে টমটমদের ডেকে একটা নৈশ মিটিং করে । সেখানে ঠিক হয় সকাল সকাল তাঁরা আক্রমণ চালাবে । যদি সব ঠিকঠাক হয় তবে ডেলোর প্রেসিডেন্ট হওয়া কেউ আটকাতে পারবে না । গোটা কুকুর সমাজ তাঁকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেনে নেবে । এত বড় একটা কাজ , পাচার চক্রের পাণ্ডাকে সে ধরতে পেরেছে ।

সবাই যখন কুকুরের কিত্তি দেখতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় চিনি এক গামলা গরম জল সদর দরজা খুলে ছুঁড়ে দিলো কুকুর গুলোর দিকে । ব্যাস, সব কুকুর গুলো যে যেদিকে পেলো ছুট দিলো । কিন্তু ডেলো সরল না, সে গা ঝাড়া দিয়ে আর শক্তপোক্ত ভাবে দাঁড়িয়ে থাকল । ফুচকাদের হুলোটার এই পাড়ায় বেশ কদর, কুকুর থেকে বেড়াল সবাই ওকে বেশ সমীহ করে চলে । কিন্তু এই কুকুরটাকে ওর সহ্য হচ্ছে না । সমীহ করা তো দূরের কথা, গত রাত থেকে যে ভাবে কুকুরটা ওকে তেড়ে আসছে , অন্য সবাই দেখে ফেললে কেউ আর ওকে পাত্তা দেবে না । হুলোটার জবর দখল পছন্দ না । গণ্ডগোল যখন চলছে, সে চুপিসারে অন্য বেড়ালদের খবর দেয় যে এই পাড়ায় আতঙ্কবাদী হামলা হয়েছে , যেভাবেই হোক এই আতঙ্কবাদীটাকে তাড়াতেই হবে । হুলোর পরামর্শ মতন আক্রমন দুই দিক থেকে চালানো হবে বলে স্থির হয় । তারপর পাঁচিলের দুই পাশ থেকে বেড়াল পার্টি ম্যাউ ম্যাউ করে তারস্বরে চেঁচিয়ে ঝাঁপিয়ে পরে ডেলোর ওপর । ডেলোর বেড়ালের খামচানই খেয়ে অন্ধ হবার উপক্ররম হয় । সে বাবা গো মা গো বলে ঘেউ ঘেউ করতে করছে ছুট দেয় ধন্যা স্যারের বাড়ির দিকে । বেড়াল পার্ট এই পাড়ার বর্ডার পর্যন্ত গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, যাতে আতঙ্কবাদীটা আর ফিরে না আসে ।

এই ঘটনার পর ফুচকাদের বেড়ালটা এই পাড়ার হিরো হয়ে গেলো । সব বাড়ি থেকে ওকে পাত পেরে মাছ মাংস খাওয়ানো হল , ওর সাথে দরিদ্র কিছু বেড়ালও ভালো মন্দ খাবার সুযোগ পেলো । ওই দিকে ডেলোর নেতৃত্ব গেলো , তার প্রেসিডেন্ট হবার স্বপ্ন সাড়া জীবনের মতন মুছে গেলো । ধন্যা স্যারের বাড়ি থেকে তার স্থান হল এলোমেলো ক্লাবের বারান্দা । একদিন ডেলো মনের দুঃখে বসেছিল দুইসতিনের পুকুর ধারে । চিনি কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিল , অত কুকুরের মধ্যে তার ডেলোর মুখটা ঠিক মনে নেই, কিন্তু ডেলোর মনে আছে চিনির মুখ । এই মেয়েটা যত নষ্টের গোঁড়া । এর জন্য আজ ডেলোর এই অবস্থা । না এঁকে কিছুতেই ছাড়া যাবে না । ডেলো বহু দিন ধরে সুযোগের অপেক্ষায় ছিলো । আজ যেন সুযোগ ওর মুখের কাছে এসে ধরা দিলো । ডেলো ঘুম ঘুম চোখে দেখে একটা মেয়ে রাস্তা দিয়ে আসছে , মেয়েটাকে খুব চেনা চেনা লাগছে । ডেলো ভালো করে চোখ চেয়ে দেখল, হ্যাঁ সেই মেয়েটা না । ডেলো দাঁত খিঁচিয়ে কিছুক্ষণ গো গো শব্দ করল, তারপর এক ছুট দিলো , চিনি দেখল একটা কুকুর ওর দিকে ছুটে আসছে, চিনিও ছুট দিলো । কিন্তু কুকুরের সাথে কি ও পেরে ওঠে চিনি ঝাঁপ দিলো পুকুরে । কুকুরটাও ঝাঁপ দিলো । চিনি সাঁতরে পুকুর প্রদক্ষিণ করছে, ওর পেছনে ডেলো সাঁতরে চলেছে, সে আজ ছাড়ার পাত্র না । অনেকক্ষণ এরকম চলার পর এলোমেলো ক্লাবের মেম্বার পল্টুদা আর ওর বন্ধুরা চিনিকে উদ্ধার করল । ডাঙ্গায় তোলার পর চিনি জ্ঞান হারায় ।

এই ঘটনার এক সপ্তাহ পর যখন কাজের বাড়ি থেকে ওকে প্রশ্ন করা হয় কি হয়েছিল সেদিন । চিনি উত্তরে বলে, ওই যে ফুচকাদের বাড়িতে সুনীল শেঠঠির মতন দেখতে যে কুকুরটা সেদিন এসেছিল না, ওই কুকুরটা আমাকে সেদিন রাস্তায় একা পেয়ে, আর কি বলবো । সেদিনের পর থেকে ফুচকার মাথায় এক নতুন ব্যামো শুরু হয়, সে শুধু হেসেই চলে , সাড়া দিন এক মনে তাঁকে হাসতে দেখে ঠাকুমা একদিন বলে বসে, আমার ঠাকুমা শ্বাশুড়ির মাথার ব্যামো ছিলো । রক্ত আর কোথায় যাবে । দাদু বলল, দোষ তোমার ছেলের, মাথায় মারলে এই হয় । যে যাই বলুক, ফুচকার সারাদিন শুধু মনে হয় তার বাবার হাত তুলে তাঁকে মাড়তে আসার সেই দৃশ্য । মাঝে মধ্যে মনে হয় বাবা যেন ছৌ নাচের সেই অশুরটার মতন শূন্যে ডিগবাজি খাচ্ছে ।

এই ঘটনার পর থেকে ডেলো হঠাৎ করে নিরুদ্দেশ হয়ে যায় । কুকুর পার্টির তরফ থেকে টমটম এই কেশের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয় ।

আরো খবর »