দৌলতপুরে নদী ভাঙ্গনে আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে মানুষ

Feature Image

জেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

মানিকগঞ্জ থেকে জালাল উদ্দিন ভিকু: পদ্মা-যমুনাসহ অভ্যন্তরীন নদ-নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মানিকগঞ্জে দৌলতপুর উপজেলার বন্যার পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের সৃস্টি হচ্ছে। দৌলতপুর উপজেলায় ৫০ হাজার বানভাসি মানুষের বাড়ি-ঘরে হাটু ও কোমড় পানিতে গৃহ বন্দি ও প্রায় ১ লক্ষ মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে ।বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যে ৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে গতকাল সরেজমিনে ঘুরে দেখা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ ও যমুনা নদীর বন্যার পানি বৃদ্ধির ফলে যমুনা নদীরতীরবর্তীদৌলতপুরউপজেলারচরকাটারীবন্যার পানিতে দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারী ইউনিয়নের লাল পুর,চরকাটারী মন্ডল পাড়া,শেক পাড়া,করিম মোল্যার পাড়া,বোর্ডঘর বাজার,বাচামারা ইউনিয়নের  কৈল,বাগসাস্টা,কল্যানপুর,হাসদিয়া,চুয়াডাঙ্গ,বাচামারা উত্তর খন্ড,রেইাদুগাপুর,বাঘুটিয়া ইউনিয়নের রাহাতপুর,শ্যামগঞ্জ,মুন্সিকান্দি,ইসলামপুর,পারুরিয়া,চরকালিকাপুর,বাঘুটিয়া,ব্রামনদি,জিয়নপুর লাউতারা,আবুডাঙ্গ,বৈন্যা,পনতিরছা,বড়টিয়া,আমতুলি,বিলপাড়া,খলসী বিষ্ণুপুর,পারমাস্তল,বিনোতপুর,রৌহা,খলসী,বড়জুলা,চকমিরপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর,সমেতপুর,দৌলতপুর সদরের পাল পাড়া,কর্মকার পাড়া,চরমাস্তল,নিলুয়া,মানদাতা,এই ৪২ টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার বানভাসি মানুষের বাড়ি-ঘরে হাটু ও কোমড় পানিতে গৃহ বন্দি ও  প্রায় ১ লক্ষ মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে । চরাঞ্চরের বানভাসি মানুষ লাকড়ির অভাবে রান্না-বান্না করতে না পেরে  অর্ধাহারে অনাহারে  ঘরে ও বাড়ির উঠানে মাঁচা পেতে মানুষ,গরু -ছাগল  এক সাথে বসবাস করছে  সেই সাথে মানুষ ও গো-খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে ।

এদিকে চরকাটারী ইউনিয়নের নদীর পাড়ের চরকাটারী সবুজ সেনা উচ্চ বিদ্যালয় ,চরকাটারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,মসজিদ,মাদ্রাসা, কমিউনিটি ক্লিনিক ,চরকাটারী বাজার সহ শত শত মানুষের বাড়ি=ঘর আবাদি জমি-জমা হঠাৎ ডেবে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে । ভাঙ্গন কবলিত এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ বাপ-দাদার ভিটে মাটি বাড়ি-ঘর হারিয়ে এখন নি:স্ব হয়ে আশ্রয়ের খোঁজে পরিবারের সদস্য ও ঘরের জিনিসপত্র,গরু-ছাগল নৌকা যোগে নিয়ে দিকবেদিক ছুটো-ছুটি করছে । নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ লোক জন বাচামারা,জিয়নপুর ইউনিয়নে ও পাশ্ববর্তী  নাগরপুর উপজেলার দপ্তিয়র ইউনিয়নের উচু যমুনা নদীর চরে উপর  অন্যের জমির ভাড়া নিয়ে  বাড়ি ঘর জিনিস পত্র নিয়ে  বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাঁশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে।আর যাদের টাকা পয়সা আছে তারা উপজেলা সদর ও টেপড়া-উথুলী –সাভারের বিভিন্ন স্থানে জায়ড়া জমি কিনে বাড়ি-ঘড় তৈরী করছে ।

চরকাটারী মন্ডল পাড়ার শফিক মন্ডল ও জাকির শেক জানান- নদীতে বাড়ি ভেঙ্গে এখানে বাড়ি করেছি নদী কাছে চলে এসেছে বাড়ি-ঘরে কোমড় পানিতে তলিয়ে গেছে । লাকড়ি অভাবে রান্না-বান্না করতে খুব কষ্ট হচ্ছে বাড়ি-ঘরে পানি অন্য দিকে গতকয়েক দিনের বৃষ্টি ও বন্যার পানি বৃদ্ধির ফলে  দুর্ভোগ শুরু হয়েছে

চরকাটারী গ্রামের  নদী ভাঙ্গনের শিকার আহাম্মদ আলী জানান-বর্ষাার শুরুতে বাড়ি নদীতে যাওয়ায় নদী থেকে ১ মাইল দুরে চরের উপর বাড়ি করেছি । এখানেও নদী কাছে চলে এসেছে বাড়ি-ঘরে কোমড় পানিতে তলিয়ে গেছে । লাকড়ি অভাবে রান্না-বান্না করতে খুব কষ্ট হচ্ছে ।  এক বেলা চিরা-মুড়ি ও এক বেলা ভর্তা ভাত খেয়ে কোন রকম ছোট-ছোট নাতি-পুতি নিয়ে বেচে আছি  ।

জিয়নপুর ইউনিয়নের বৈন্যা গ্রামের মালতী রাজবংশী জানান-এক সপ্তাহ যাবৎ বৃষ্টি ও বন্যার পানি বাড়ি-ঘরে পানি কেও খোজ খবর নিতে আসে নাই । প্রতি বছর বন্যার পানি এলে সাংবাদিকরা ছবি তুলে নেয় পেপারে ছাপে-টিভিতে দেখায় কিন্তু মেম্বার -চেয়ারম্যানদের পেট ভোরে আমাগো ভাগ্যে দুই কেজি চাল জুটে ।

এদিকে বাচামারা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ জানান-আমার ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারন করেছে । প্রায় ৬ হাজার বাড়ি- ঘরে হাটু-কোমড় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বানভাসি মানুষের চরম দুর্ভোগ শুরু হয়েছে । সরকারী ভাবে পাঁচ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পেয়েছি । বাচামারা উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে ।

চরকাটারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক মন্ডল জানান- চরকাটারী ইউনিয়নে শত শত বাড়ি-ঘর বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে । কয়েক হাজার বানভাসি মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে । এদিকে যমুনা নদীর ভাঙ্গনে ইতিমধ্যে চরকাটারী ইউনিয়ন পরিষদ,ভূমি অফিস,চরকাটারী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কল্যান কেন্দ্র , চরকাটারী  সবুজ সেনা উচ্চ বিদ্যালয়, ২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ ১২ শতাধিক বাড়ি-ঘর, আবাদি জমি নদী গর্ভে চলে গেছে । সরকারী ভাবে ৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ হয়েছে ।  বরাদ্দকৃত ত্রান চাহিদার তুলনায় খুবই অপুতুল ।

এবিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: তোজাম্মেল হক তোজা বলেন-জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সমন্বয়ে বানভাসি মানুষের খোজ খবর রাখা হচ্ছে এবং সরকারী ত্রাণের চাল বানভাসি মানুষের মাঝে বিতরন করা হয়েছে । বাচামারা উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে ।

এবিষয়ে  উপজেলা নির্বাহী অফিসার কানিজ ফাতেমা জানান- যমুনা নদীর ভাঙ্গনে ইতিমধ্যে চরকাটারী ইউনিয়ন পরিষদ,ভূমি অফিস,চরকাটারী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কল্যান কেন্দ্র , চরকাটারী  সবুজ সেনা উচ্চ বিদ্যালয়, ২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ এ উপজেলায় ১৮শতাধিক বাড়ি-ঘর, আবাদি জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। বাচামারা উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে ।বন্যায় প্লাবিত ৪ টি ইউনিয়নে সরকারী ভাবে ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ চাল বিতরন করা হয়েছে।

 

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »