বন্যায় ফসল হারানো কৃষকের উপর নির্মম নির্যাতন

Feature Image

জেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

লালমনিরহাট থেকে জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না: বন্যায় ফসল হারানো কৃষক সুদের টাকা দিতে না পারায় স্বামী-স্ত্রীকে বেদম মারপিট করে গরু ছাগল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাটের এক দাদন ব্যাবসায়ীর বিরুদ্ধে।

শুক্রবার দিনগত রাত ১১ টার দিকে লালমনিরহাটের আদিতমারী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আহত কৃষক দম্পতি।

আহত কৃষক দম্পতিরা হলেন, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের তিস্তার চরাঞ্চল বারঘড়িয়া গ্রামের আবেদ আলীর ছেলে বর্গাচাষি আলম বাদশা (৪০) ও তার স্ত্রী মৌসুমী বেগম (৩৫)।

হাসপাতাল ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, তিস্তার কড়াল গ্রাসে কয়েক বার ঘর বাড়ি ভেঙ্গে যাওয়ায় ওই ইউনিয়নের বারঘড়িয়া গ্রামে বন্দকি জমিতে বসত বাড়ি তৈরী করেন বর্গাচাষি আলম বাদশা(৪০)। শুস্ক মৌসুমে তিস্তার চরে জেগে উঠা জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে চলে তার সংসার।

গেল পেঁয়াজ মৌসুমে চাষাবাদের জন্য ওই বারঘড়িয়া গ্রামের ছেপত উল্লার ছেলে দাদন ব্যবসায়ী আশরাফ আলীর নিকট ৭ শত টাকা ধার নেন। বন্যায় টানা ৮দিন পানিবন্দি থাকায় সেই ধার নেয়া টাকা পরিশোধ করতে পারেন নি কৃষক আলম বাদশা। ওই সাত শত টাকা ৮ মাসে সুদে আসলে দুই হাজার সাত শত টাকায় দাঁড়িয়েছে দাদন ব্যবসায়ীর খাতায়।

বাড়ি থেকে পানি নেমে গেলে শুক্রবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে দলবলে ওই কৃষকের বাড়িতে সুদের টাকা আদায় করতে যান দাদন ব্যবসায়ী আশরাফ আলী। বন্যায় সবকিছু নষ্ট হওয়ায় কয়েকটা দিন সময় চাইলে কৃষক আলম বাদশা ও তার স্ত্রী মৌসুমি বেগমকে বেদম মারপিট করে তাদের বাড়িতে থাকা বর্গা নেয়া একটি গরু ও একটি ছাগল জোর করে নিয়ে যান ওই দাদন ব্যবসায়ী। পরে আহত কৃষক দম্পতিকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে আদিতমারী হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালের বেডে থাকা কৃষক আলম বাদশার স্ত্রী মৌসুমি বেগম জানান, পেঁয়াজ চাষ করতে ৭ শত টাকা ধার নিয়ে ছিলেন। কিন্তু গেল বন্যায় তাদের সবকিছু নষ্ট হওয়ায় অভাবের কারনে টাকা পরিশোধ করতে পারেন নি তারা। টাকা পরিশোধ করতে কয়েক দিন সময় চাওয়ায় তাদেরকে মারপিট করে বর্গা নেয়া গরু ও ছাগল দুটি নিয়ে যায় আশরাফ আলী।

ওই এলাকার ইউপি সদস্য আজহার আলী জানান, গৃহিনী মৌসুমিকে বেধম মারপিট করেছে শুনেছি। গরু ও ছাগল দুটি বিক্রি করতে নিষেধ করা হয়েছে আশরাফ আলীকে।

আদিতমারী হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্বে থাকা উপ সহকারী মেডিকেল অফিসার সৌরভ কুমার দত্ত জানান, কৃষক দম্পতিকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। মৌসুমী বেগম বেশি আঘাত পেয়েছেন। তবে তারা আশংকামুক্ত বলেও জানান তিনি।

খবর শুনে হাসপাতালে আসা আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) হরেশ্বর রায় জানান, হাসপাতালেই কৃষক দম্পতির কাছে বিষয়টি জেনে তাদের অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। কৃষক দম্পতিকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »