যে কারণে বাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যা

Feature Image

বাংলাদেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতির জন্য উজানের দেশ ভারতকেই দায়ী করেছে আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি। এদিকে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভারতে যখন ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে, তখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় তার রাজ্যে বন্যার জন্য ঢাকা, দিল্লি ও কাঠমান্ডুকে দোষারোপ করেছেন।

আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি নিউ ইয়র্ক ও বাংলাদেশ কমিটির এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, এবারের বন্যার জন্য উজান থেকে নেমে আসা পানিই মূলতঃ দায়ী। নদী ও পানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যার ৯২ ভাগ পানিই বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত নদীর উজানের অববাহিকা থেকে আসে। বাকি ৮ ভাগ পানি স্থানীয় বৃষ্টিপাত থেকে আসে।

সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি নিউ ইয়র্কের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান সালু বলেন, নদীগুলোর উজানের অববাহিকায় যথেচ্ছ ড্যাম ও ব্যারেজ নির্মাণের ফলে উপমহাদেশের অনেক নদী মরতে শুরু করেছে। কেবলমাত্র বাংলাদেশের গঙ্গাবিধৌত অঞ্চলেই ৩০টি নদীর অকাল মৃত্যু ঘটেছে। আবার নতুন নতুন চর জেগে উঠায় বর্ষায় যথেষ্ট পানি ধারণ করে সাগরে বয়ে নিতে না পারায় নদীর দু’তীর উপচে বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। অপরদিকে শুকনো মৌসুমে পানির অভাবে মরুকরণ দেখা দিচ্ছে। দেখা দিয়েছে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়।

আতিকুর রহমান সালু আরো বলেন, তিস্তার পানি এখন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ওপারে মহানন্দা ও গঙ্গা নদী দিয়ে আরো দক্ষিণে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আর তিস্তা নদীকে বাংলাদেশে মেরে ফেলা হচ্ছে। অপরদিকে, ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রবাহ তার স্বাভাবিক গতিপথ থেকে সরিয়ে নিতে ভারত যে আন্তঃনদী সংযোগ মহাপরিকল্পনা নিয়েছে তা বাস্তবায়ন করলে বাংলাদেশ আর নদীমাতৃক থাকবে না। তাই সমন্বিত, টেকসই ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় নদীগুলো বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক জসিম উদ্দিন আহমাদ বলেন, এ বন্যা মানব সৃষ্ট। শুকনো মৌসুমে সব স্লুইস গেট বন্ধ করা ও বর্ষা এলে খুলে দেয়া হচ্ছে। উজানে এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশে আরো কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে এবার ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের মতো ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী এলাকাগুলোয় বন্যা দেখা দিয়েছে।

আরো খবর »