বিচারপতি খায়রুল আ.লীগের চেয়েও বড় আ.লীগার

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঢাকা: আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় আওয়ামী লীগার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বন্যার্তদের জন্য ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন খন্দকার মোশাররফ।

প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরের পর আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদে আসা খায়রুল হক ষোড়শ সংশোধনীর আপিল বিভাগের রায়ের ‘সমালোচনা’ করছেন।

সর্বশেষ তিনি এই রায় বিরাগের বশবর্তী হয়ে দিয়েছেন কি না, তাও বিবেচনার জন্য প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

গত ১ আগস্ট বিচারপতিদের অপসারণ-সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ সাত বিচারপতির স্বাক্ষরের পর ৭৯৯ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়। সব বিচারপতির সর্বসম্মত রায়ে ‘রাজনীতিতে ব্যক্তিবাদ’, সামরিক শাসন, ‘অপরিপক্ব সংসদ’, দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করেন।

এই পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর বিএনপি একে স্বাগত জানালেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নানা সমালোচনা করা হয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিচারপতি খায়রুল হকই সবচেয়ে বড় সমস্যা সৃষ্টিকারী। তিনি আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় আওয়ামী লীগার। তিনি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে যে মন্তব্য করেছেন, তা অনভিপ্রেত। আদালতের উচিত খায়রুল হককে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো। না হলে এ দেশের জনগণই তাঁকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে।’

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, রায়কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে মেতেছে। আওয়ামী লীগ রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তারা প্রধান বিচারপতিকে হুমকি দিচ্ছে। তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যা অনৈতিক কাজ। বাদী ও আসামি বিচারকদের সঙ্গে দেখা করছেন, এমন ঘটনা আগে দেখা যায়নি।

আওয়ামী লীগের দলীয় আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেছেন। এটা অনভিপ্রেত। বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছেন।

বিএনপি নেতা আরো বলেন, প্রধান বিচারপতি বলেছেন, সরকার নিম্ন আদালতকে নিয়ন্ত্রণ করেছে আর উচ্চ আদালতকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। এটা দেশের জন্য অশনিসংকেত। সংবিধান পরিবর্তন হলে সেটা ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়িত্ব আপিল বিভাগের। সরকার তাতে ক্ষুব্ধ হলেও বিরূপ মন্তব্য করতে পারে না।

বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ নেতারা বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের জন্য সাহায্য-সহযোগিতা না করে শুধু মিডিয়া কভারেজ ও ফটোসেশনের জন্য বন্যাকবলিত এলাকায় যাচ্ছেন। আর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সবাইকে আহ্বান করেছেন বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন আরো বলেন, এই সরকার জনগণের সরকার নয়। তাই তাঁরা জনগণের পাশে দাঁড়াতে পারছে না। জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সরকার থাকলে যেভাবে বন্যার্তদের সাহায্যে ঝাঁপিয়ে পড়ার কথা, সেটা দেখা যাচ্ছে না।

বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর চলমান নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিএনপি ফিনিক্স পাখির মতো, একটি পাখিকে খুন করা হলে হাজারটি ফিনিক্স পাখি জন্মগ্রহণ করে।’

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, বিএনপি নেতা শফিউল বারী বাবু, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ প্রমুখ।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »