‘তিন তালাক’ অবৈধ ঘোষণা করে ভারতে ঐতিহাসিক রায়

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মুসলিমদের মধ্যে মৌখিকভাবে ‘তিন তালাক’ বলে স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর সম্পর্ক ছিন্ন করার রেওয়াজকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

ভারতের পাঁচ ধর্মের পাঁচ জন জ্যেষ্ঠ বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত সাংবিধানিক বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে মঙ্গলবার এ রায় দেন। একে ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিন তালাক অবৈধের পক্ষে তিন বিচারপতি রায় দিয়েছেন। তারা হলেন- বিচারপতি রোহিন্তন নারিমান, উদয় ললিত ও জোসেফ কুরিয়েন। কিন্তু প্রধান বিচারপতি জে এস খেহার ও বিচারপতি আবদুল নাজির বলেছেন, তালাক দেওয়ার বিষয়টি ব্যক্তির মৌলিক অধিকার।

মুখে তিনবার তালাক উচ্চারণ করে স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর সম্পর্ক ছিন্ন করার ওপর ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছেন আদালত। এ সময়ের মধ্যে রায়ের আলোকে আইন প্রণয়ন করতে পার্লামেন্টের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন বিচারপতিরা। যদি আইন তৈরি না হয়, তাহলে আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

আল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সনাল ল বোর্ড এ রায়কে অপ্রত্যাশিত বলে অভিহিত করেছে। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে তারা। অন্যদিকে, ভারতীয় মুসলিম মহিলা আন্দোলন রায়কে স্বাগত জানিয়ে যত দিন না আইন তৈরি হচ্ছে, তত দিন লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ইসলামি বিধান ও শরিয়্যাহ আইন বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিচারপতিরা। তবে প্রধান বিচারপতির মতে, তালাক-ই-বিদাত ভারতীয় সংবিধানের লঙ্ঘন নয়। এটি নাগরিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। মুসলিমরা হাজার বছর ধরে এই প্রথা মেনে আসছে। মুসলিমদের জন্য বিবাহ ও তালাক আইন তৈরির জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

চলতি বছরের ১২ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হয়। এরপর রায়ের দিন ধার্য করা হয় ২২ আগস্ট।

২০১৬ সালে সায়েরা বানু নামে ৩৫ বছর বয়সি এক নারী আদালতে তিন তালাকের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন। ১৫ বছর সংসার করার পর মুখে তালাক বলে বিয়ে ভেঙে দেন তার স্বামী। স্বামীর এ খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি তিনি। তার মতো বঞ্চনার শিকার আরো চার নারী- আফরিন রহমান, গুলশান পারভিন, ইসরাত জাহান ও আতিয়া সাব্রির পিটিশনও সায়েরা বানুর পিটিশনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়।

মুসলিমদের অনেক গোষ্ঠী মনে করে, তিন তালাক বৈধ। কিন্তু ভারতের কেন্দ্র সরকার থেকে নারীবাদী মুসলিমরা মনে করে, এ ধরনের প্রথা সংবিধান পরিপন্থি। তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এনডিটিভি অনলাইন

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »