যার মা নাই তার আবার স্কুলে লেখা পড়া

Feature Image

হুমায়ুন কবির: বাবা মা’র আদরের নাম তুর্জ। ফুটফটে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ৮ বছরের শিশু। সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়েছে। ঘড়ির কাটা প্রায় আড়ায়টা। তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত নির্ধারিত ধহ্য সিমার বাহিরে এখন। বাড়ি থেকে কি দিয়েছে দিদি মনি কিছুই জানিনে। হটেলের করিডরে কেওবা খাচ্ছে মাছ মাংস আবার কেওবা সিঙ্গাড়া পুরি ইত্যাদি।

 

টিফিন বাটি ( দু’ বাটি ওয়ালা) নিয়ে হটেলে ডুকতেই মেসিয়ার বলল, এখানে নয় ঐ খানে বসে খা। শিশু তুর্জ দুই টেবিল পরে একটি টেবিলে বসে টিফিন বাটিটা খোলার চেষ্টা করছে। ভাতের বাটি টা কষ্টে খুললেও তরকারী বাটি খুলতে পারছে না। আমি পাশের টেবিলে বসে জলপান করছিলাম। তুর্জর এমন অবস্থা দেখে মেসিয়ার কে বললাম, ঐ ছেলেটার বাটি টা খুলে দাওতো। আমার দিকে অপলোক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল তুর্জ। তুর্জ সম্পর্কে জানার খুব ইচ্ছা জাগল আমার। প্রশ্ন করলাম তুমি কি কর? উত্তোরে বলল, কষ্টের মানুষের আর কি জানবেন। বেশ অনুরোধে জানতে পারলাম ওর কষ্ট ও আক্ষেপের কথাগুল। জন্মের ৬ মাস বয়সে মা মারা যায় বিষ পানে।

 

৩ ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট তুর্জ। ওর বড় দু’বোন আছে তিথি, ও বিথি। ওরা দু’জনেই মানুষের বাড়ি গৃহকর্মী হিসাবে কাজ করে। বাবা গড়াই নদীতে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে যা পাই তাদিয়ে কোন মত জীবন চলে। বাড়িব কথা জানতে চাইলে বলে, কুষ্টিয়ার খোকসা হেলালপুর মন্ডল পাড়া খালের পাশে বাড়ি। সকল ৭ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত কাজ করি খোকসা বাজারের নিবাস এর সাইকেল সারার দোকানে। প্রত্যহ দিনে আমার হাজিরা ৫০ টাকা। স্কুলের কথা বললে বলে, যার মা নাই তার আবার স্কুলে লেখা পড়া। ৩ ভাই-বোন কেও লেখাপড়া করতে স্কুলে যায় নি। ছোট বেলা থেকে মানুষের দোয়ারে কাজ করে জিবন সংসার চালাতে হয়। যে বয়সে ওর হাতে থাকার কথাছিল বই খাতা কলম আর খেলনা সেই বয়সে পেটে খেয়ে জিবন বাঁচাতে হবে তাই এই রেঞ্চ দিয়ে মানুষের সাইকেল সারতে হয়। উল্টো আমারে প্রশ্ন করল, মা না থাকলে কে আমারে স্কুলে পাঠাবে ? বাবা কোন খরচের টাকা দিতে চায়না। বাধ্য হয়ে নিবাস এর দোকানে কাজ করে খাই। অন্যায় তো করি না।

 

শতভাগ প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামুলক সরকারের এমন কর্মসুচী সম্পূর্ণ ভেস্তে গেছে তুর্জর মত হাজারও শিশু শ্রমের গ্যাড়াকলে। বাজারের বিভিন্ন বিপনি বিতানে ঘুরে দেখাগেছে শিশু শ্রম এ যেন সকলের দোকানে ফ্যাশন। কে বা দেখবে নিরক্ষর শিশু তুর্জের বাল্য শিক্ষা বা অক্ষর জ্ঞান দিতে। তুর্জর আক্ষেপ কেও ভালবেসে আদর করে না, আবার কেও স্কুলে পাঠায় না। দেখছেন তো দিদির দেওয়া ডাউল ভাত আর বাবার হাতে মারা মাছ ভাজা দিয়ে খাচ্ছি দুপুরে খাওয়া। সকালে না খেয়ে এসেছিলাম দোকানে। নিবাস কাকা আমারে পরাটা খাওয়ায়ছে।

 

দোকানে প্রচুর কাজের চাপ সময় পায়নি একটু দোম নেওয়ার। তুর্জর কষ্টের পাশে দাডাতে চাইলে বলে, এখন তো টাকা চিনেগেছি। টাকার উপর নেশা এসে গেছে। কাজ আর টাকা ছাড়া অন্য কিছু পাইনা। শৈশবে সঠিক দিক নির্দেশক না থাকায় আমাদের সমামাজে হাজার ও তুর্জ অকালেই ঝরে যায়। হারায় একটি সুন্দর জিবন।

আরো খবর »