প্রতিযোগিতা করে পাটের আঁশ ছাড়ান নারীরা

Feature Image

মহম্মদপুর (মাগুরা)  থেকে মাহাববু ইসলাম উজ্জ্বলঃ পাটকে বলা হয় সোনালী আঁশ। কারন বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল হলো পাট। পাটের আঁশ যেমন সোনালী চুলের মতো, তেমনি এর মূল্যে সোনার মতোই দামি। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় পাট কাটা ও আঁশ ছাড়ানোর ধুম পড়েছে। সেই সাথে কৃষকরা পার করছেন ব্যস্ত সময়। পুরুষের পাশাপাশি থেমে নেই মধ্যেম ও নি¤œ আয়ের ঘরের নারীরাও। পুরুষের মত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নারীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। মহম্মদপুরের ৮ টি ইউনিয়নের মধ্যে বাবুখালী দীঘা বিনোদপুর পলাশবাড়িয়া বালিদিয়া নহাটা রাজাপুর ও মহম্মদপুর সদরের নারীরা পাট পঁচার পর আঁশ ছাড়িয়ে অথনৈতিকভাবে বেশ লাভবান হচ্ছে।

জানা গেছে, উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের মধ্যেম ও নি¤œ আয়ের ঘরের নারীরা প্রতি আটি পাটের আঁশ ১ টাকা দরে ছারাচ্ছেন। একজন নারী প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ আটি পাটের আঁশ ছাড়াতে পারেন। যার বর্তমান মূল্যে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। যেখানে গত ৩/৪ বছর আগেও ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে ১০০ আটি পাটের আঁশ ছাড়িয়েছেন নারীরা। মহম্মদপুরের সাধারন নারীরা পাটের মৌসুমে পর্যাপ্ত পরিমান টাকা আয় করেন। তারা বছরের এ সময়টা অর্থনৈতিক ভাবে হয়ে ওঠে স্বাবলম্বী। পুরুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পরির্বতে নারীরা বাড়ির কর্তাদের অর্থনৈতিক ভাবে টাকা দিয়ে সাহায্য করে থাকে।

মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর উপজেলায় পাট চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। সেই তুলনায় এ বছর ১৩ হাজার ৪’শ ২৬ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। গত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর অনেক বেশি পাট উৎপাদন বেড়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, সঠিক সময়ের মধ্যে পাট চাষিরা পর্যায়ক্রমে পাট কাটা ও পাট পঁচানোর কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি নারীরা রাস্তার ধারে, খালের পাড়ে ও বাড়ির উঠানে বসে খোঁশ গল্পে মেতে মনের অনন্দে পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছেন। তারা প্রতিযোগিতা করে । কে কত আটি পাটের আঁশ ছাড়াতে পারেন। কিছু সংখ্যক নারীকে পাটের আঁশ ছাড়ানোর স্থানেই বাড়ি থেকে দুপুরের খাবার আনতে দেখাও গেছে।

উপজেলার বাবুখালী গ্রামে পাটের আঁশ ছাড়াতে আসা রহিমা বেগম বলেন, আগে বাচক ছোট পাট ৬ টাকা কুড়িঁ ও বড় গাছ পাট ১২ টাকা কুড়ি আঁশ ছাড়াতাম। কিন্তু এখন ১০০ আটি পাটের আঁশ ছাড়ালে ১০০ থেকে ১১০ টাকা দেয় আমাদের। দিনে ১’শ থেকে ১৫০ আটি পাটের আঁশ ছাড়াতে পারি। বছরের এই সময় হাতে কিছু টাকা পয়ঁসা থাকে। ছেলে মেয়েরা বই, খাতা ও কলম কিনতে টাকা চাইলে সময় মত দিতে পারি। নিজেও আর্থিক ভাবে হয়েছি স্বচ্ছল।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আতিকুল ইসলাম বলেন, মহম্মদপুর উপজেলায় অন্য বছরের তুলনায় এ বছর পাটের আশানুরুপ ভালো ফলন হয়েছে। সেই সাথে পাটের আঁশ ছাড়িয়ে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হচ্ছে নারীরা।

আরো খবর »