ট্রাকচালককে পেটানোয় পুলিশ সার্জেন্টকে অবরুদ্ধ মহাসড়ক অবরোধ, শাস্তি দাবি

Feature Image

নাটোর থেকে অমর ডি কস্তাঃ নাটোরের বড়াইগ্রামের আহম্মেদপুর এলাকায় ট্রাকচালককে প্রকাশ্যে পিটিয়েছে এক পুলিশ সার্জেন্ট। এ ঘটনার পর ট্রাক শ্রমিকরা ওই পুলিশ সার্জেন্টকে অবরুদ্ধ করে নাটোর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে। পরবর্তীতে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ ২৪ ঘন্টার মধ্যে অভিযুক্ত সার্জেন্টের বিচারের আশ্বাস দিলে দুই ঘন্টা পর অবরোধ তুলে নেয়া হয় এবং সার্জেন্ট অবরুদ্ধমুক্ত হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টা থেকে পৌনে সাতটা পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ করা হলে দুই দিকে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও পরিবহন শ্রমিকরা জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে রংপুর থেকে কুষ্টিয়াগামী তামাক বোঝায় একটি ট্রাককে নাটোর জেলা পুলিশের সার্জেন্ট মো. রুহুল আমিন ধাওয়া করে আহম্মেদপুর এলাকায় এসে আটকায়। পুলিশ সার্জেন্ট ও তার সহযোগী (সড়কে চাঁদা আদায়কারী জনৈক ব্যাক্তি/দালাল) ট্রাকচালককে টেনে-হেঁচড়ে নামিয়ে প্রথমে কিল-ঘুষি ও পরে ট্রাকের ভিতর থেকে লোহার রড বের করে বেধড়ক মারপিট করে।

 

এসময় ট্রাক চালকের আত্মচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ রাহেলা মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনা জানাজানি হলে ট্রাক পরিবহন শ্রমিকরা এসে সার্জেন্ট রুহুল আমিনকে একটি দোকান ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখে ও তার বিচারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে। খবর পেয়ে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহরিয়ার খান ও বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুন নূর সহ দুই প্লাটুন পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরবর্তীতে নাটোর জেলা ট্রাক-ট্যাংক-লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোস্তারুল আলম সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে অভিযুক্ত পুলিশ সার্জেন্টের বিচার নিশ্চিত করা হবে এই মর্মে প্রতিশ্রæতি পাওয়ার পর অবরোধ তুলে নেয়া হয় ও সার্জেন্ট অবরুদ্ধম্ক্তু হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ট্রাক চালক মো. নিজাম উদ্দিন (৩৫) জানান, নাটোর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে ট্রাকটিকে থামিয়ে কাগজ-পত্র দেখতে চাইলে সার্জেন্টকে ৭’শ টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু সার্জেন্ট এতে রাজী না হয়ে ৫ হাজার টাকা দিতে বলেন। এ টাকা না দিয়ে ট্রাকটি নিয়ে চলে আসলে ওই সার্জেন্ট ও সহযোগী মোটরসাইকেল নিয়ে ধাওয়া করে আহম্মেদপুর এলাকায় ট্রাকটিকে আটকায় ও নির্মমভাবে তাকে পেটায়। ট্রাকচালক আরও জানায়, ট্রাক না থামিয়ে চলে আসায় তার ভ‚ল হয়েছে। কিন্তু এই কারণে এমন নির্মমভাবে পেটানো সার্জেন্টের ঠিক হয়নি। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। ট্রাকচালক নিজামউদ্দিন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদরগা এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে।

হাসপাতালের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. মো. হাফিজুর রহমান জানান, ওই ট্রাক চালকের বাঁ পা ও বাঁ হাতে আঘাতের চিহ্ন অনেকটা মারাতœক। তবে কোথাও কোন হাড় ভেঙ্গেছে বলে মনে হয় না।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামসুন নূর জানান, ট্রাক চালক সার্জেন্টের নির্দেশ না মানায় এ ঘটনা ঘটেছে। তবে সার্জেন্ট যদি ওই চালককে পিটিয়ে থাকেন তাহলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরো খবর »