কোরিডোরের ছাড়পত্রের অপেক্ষায় হাজার হাজার গরু-মহিষ- ভোগান্তীতে বিট খাটাল মালিকরা

Feature Image

রাজশাহী থেকে ওবায়দুল ইসলাম রবিঃ  ভারত ও বাংলদেশ সীমান্ত এলাকার পদ্মার চরগুলোতে রয়েছে হাজার হাজার গরু-মহিষ। কোরিডোরের ছাড়পত্রের অপেক্ষায় থাকা ওইসব গরু দুইতিন দিনের মধ্যেই বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী সীমান্তে দিয়ে প্রতিদিন বাংলাদেশে ঢুকছে হাজার হাজার ভারতীয় গরু-মহিষ।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুইটি ও রাজশাহীর একটি বিট খাটালের মাধ্যমে এসব গরু-মহিষ বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এসব গরু ভারতের শুল্ক ফাঁকি দিয়ে নিয়ে এনে চরে রাখা হয়। তবে গরু ব্যবসায়ীরা জানায়, বিট খাটালের যে গরু-মহিষ আসে সেগুলো ভারতে শুল্ক দিয়ে আনা হয়।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর বিট খাটালে সরজমিনে গিয়ে জানাজায়, গরু-মহিষ আমদানীতে বিট খাটাল ও পদ্মার খেয়া ঘাটে সরকারিভাবে নির্ধারন করা নিয়মের চেয়ে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ বলে অভিযোগ করে। সীমান্তের বিট খাটাল থেকে পদ্মা নদী পার করতে ৫০০ টাকা ট্যাক্সসহ গরু-মহিষ প্রতি ৭০০ টাকা খরচ হওয়ার কথা থাকলেও তাদের কাছ থেকে ১২০০ টাকা। এবিষয়ে চর বাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাখের আলী ঘাটের ইজারাদার মকলেচুর রহমান পিন্টু বলেন, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ভারত থেকে গরু গুলো পাচার করে চরে রাখা হয়েছে। কোরিডোরের ছাড়পত্র পর বাংলাদেশে প্রবেশ করবে।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় বিট খাটাল রয়েছে সাতটি, ওয়াদেপুর, রঘুনাথপুর, সাতরোশিয়া, বাখের আলী, চরবাগডাঙা, হাকিমপুর ও ফরিদপুর। কিন্ত এর মধ্যে শুধুমাত্র শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মার পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত ওহায়েদপুর ও রঘুনাথপুর এই দুইটি বিট খাটাল দিয়ে বর্তমানে গরু-মহিষ বাংলাদেশে আসছে। বাকি ঘাট গুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পায়নি। তবে কি কারণে ওই বিট খাটালগুলো অনুমোদন পায়নি তা জানাতে পারেননি বন্ধ বিট খাটালে সংশ্লিষ্টরা।

 

গরু ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, বিট খাটালে গরু-মহিষ প্রতি ৫০ টাকা নেয়ার নিয়ম রয়েছে। এর মধ্যে সার্ভিস চার্জ (রাখাল খরচ) ২০ টাকা এবং অবস্থান ফি ৩০ টাকা। কিন্তু বিট খাটাল মালিকরা আদায় কারছে গরু প্রতি ২৫০ টাকা। এছাড়াও করিডোরের ছাড়পত্র নিতে ৫০০ টাকা ট্যাক্স নেয়ার নিয়ম থাকলেও বিট খাটাল মালিকরা নিচ্ছেন ৫৫০ টাকা। এবং ফেরি ঘটে গরু-মহিষ প্রতি ১৫০ টাকা নেয়ার নিয়ম থাকলেও নেয়া হচ্ছে ২৫০ টাকা। এ জন্য তাদের গরু-মহিষ প্রতি আরও ১৫০ টাকা করে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গরু ব্যবসায়ী। এছাড়াও সীমান্ত থেকে নদী পার করে দেয়া পর্যন্ত প্রতিটি গরুর জন্য রাখালকে দিতে হয় ২০০ টাকা করে বলে জানান তিনি।
চর বাগডাঙ্গা ইউনিয়নের মেম্বার জামাল উদ্দিন বলেন, যে পথগুলো দিয়ে গরু-মহিষ আমদানি সহজ হয় সেগুলোর বিট খাটাল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রহস্যজনক ভাবে সেগুলো বন্ধ করে দুর্গম এলাকার দুইটি বিট খাটাল দিয়ে গরু-মহিষ আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়। এতে গরু-মহিষ আমদানি করতে ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তি পোয়াতে হচ্ছে। তবে রাজশাহী জেলায় ছয়টি বিট খাটাল থাকলেও গরু ঢুকছে শুধুমাত্র একটি দিয়ে। চরমাজারদিয়াড় ওই বিট খাটাল দিয়ে প্রতিদিন ছয়শ’ থেকে এক হাজার গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
গোপনিয়াতা রক্ষা শর্তে বিট খাটাল মালিক জানান, সাধারণত স্থানীয় বিজিবির কর্মকর্তারা নির্ধারণ করে দিতেন কোন বিট খাটাল দিয়ে কতটি গরু আসবে। সে অনুযায়ী বিজিবির বিওপি ক্যাম্পে ম্যাজেস দিতেন। কিন্তু এবার বিজিবির সদর দপ্তর থেকে কোন বিট খাটালের মাধ্যমে গরু-মহিষ আসনে তা নির্ধারণ করে ম্যাসেজ পাঠানো হচ্ছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন বিট খাটাল মালিকরা।

আরো খবর »