সাত খুন মামলার পিপির মেয়ের মুখে ‘বিষ’ ঢেলে হত্যাচেষ্টা

Feature Image

জেলা প্র‌তি‌নি‌ধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের মামলার সরকারি কৌঁসুলি ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়েকে মিষ্টি খাওয়ানোর কথা বলে জোর করে বিষজাতীয় কিছু একটা খাওয়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ শহরের নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের বিপরীতে একটি কোচিং সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তার নাম মাইশা ওয়াজেদ প্রাপ্তি। সে ও-লেভেলে পড়ে।

ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, ‘আমাদের বাসা শহরের (হাজী মঞ্জিল) থেকে কাছেই একটি কোচিং সেন্টারে ক্লাস করতে যায় মাইশা। কোচিং শেষে চারতলা ভবনের ওই কোচিং সেন্টারের নিচে নামার পর কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বলে, সাত খুনের মামলায় তোমার বাবা তো অনেক ভালো কাজ করেছেন। এ জন্য আমরা তোমাকে মিষ্টি খাওয়াতে এসেছি, এই নাও মিষ্টি খাও। তখন মাইশা তাদের বলে যে চাচা আমি বাইরে কিছু খাই না, তারা জোর করতে চাইলে মাইশা তাদের বলে যে আমি খাব না। তখন তারা বলেন, আমরা তোমার বাবার পরিচিত। এরপরই ওই তিন ব্যক্তি জোর করে বিষজাতীয় কিছু একটা তার মুখে পুরে দেয়। এরপরই তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। জোর করে খাওয়ানোর কিছুক্ষণ পরই অসুস্থ হয় পড়লে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আমাদের ঢাকা মেডিকেল প্রতিনিধি জানান, বুধবার রাত সোয়া আটটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় মাইশা ওয়াজেদ প্রাপ্তিকে। এরপর চিকিৎসকেরা তার পাকস্থলী পরিষ্কার করেছেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে মাইশার সঙ্গে আছে মা সেলিনা ওয়াজেদ মিনু।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সাত খুনের মামলার সরকারি কৌঁসুলি ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়েকে মিষ্টি খাওয়ার কথা বলে বিষ খাওয়ানোর অভিযোগ আমরা শুনেছি।’

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মঈনুল হক রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি ওই এলাকার আশপাশের মানুষের সঙ্গে এ ঘটনা নিয়ে কথা বলেছেন।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের লিংক রোডের লামাপাড়া এলাকায় র‍্যাবের সদস্যরা চেকপোস্ট বসিয়ে কাউন্সিলর নজরুলের গাড়ি থামান। র‍্যাবের সদস্যরা গাড়ি থেকে নজরুল, তাঁর তিন সহযোগী ও গাড়িচালককে তুলে নিয়ে যান। এ সময় ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন আইনজীবী চন্দন সরকার। তিনি অপহরণের বিষয়টি দেখে ফেলায় তাঁকে ও তাঁর গাড়িচালককেও র‍্যাব তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁদের সবাইকে হত্যা করে ওই রাতেই পেট কেটে এবং ইটের বস্তা বেঁধে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। ৩০ এপ্রিল ছয়জন ও পরদিন একজনের লাশ ভেসে ওঠে। সাতজন হলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তাঁর বন্ধু মনিরুজ্জামান, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তাঁর গাড়িচালক ইব্রাহিম। এর এক সপ্তাহের মধ্যে এ ঘটনায় র‍্যাব-১১-এর অধিনায়ক তারেক সাঈদসহ তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার তথ্য প্রকাশ পায়, টাকার বিনিময়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। একসঙ্গে সাতজনকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা ও গুমের নৃশংসতায় শিউরে ওঠে দেশের মানুষ।

এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়। একটির বাদী নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম এবং অপরটির বাদী আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল। এসব মামলায় সরকারি কৌঁসুলি ছিলেন ওয়াজেদ আলী খোকন।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »