ডোমারে বন্যায় মৎস্যখাতে অপুরনীয় ক্ষতি, সর্বশান্ত জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত মৎস্যচাষী

Feature Image

নীলফামারী থেকে আব্দুর রাজ্জাকঃ  নীলফামারীতে এ বছরের বন্যায় কৃষি, মৎস্য, প্রানী সম্পদ, শিক্ষা, যোগাযোগ সহ সকল ক্ষেত্রে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে অনেক ক্ষতি রয়েছে যা অপুরনীয় বলে দাবী স্থানীয়দের। এ বছরের বন্যায় জেলার ৬ টি উপজেলার মধ্যে ডোমার উপজেলায় মৎস্য খাতেই তেমনি অপুরনীয় ক্ষতি হয়েছে। জানা যায়, বন্যায় ডোমার উপজেলায় ১০৫০ জন মৎস্য চাষীর ১৩২.১৩ হেক্টর আয়তনের ১১৮৬ টি পুকুরের প্রায় ২৫০ মেট্রিক টন পরিমানের বিভিন্ন জাতের মাছ নষ্ট হয়েছে।

 

স্থানীয় বাজার মুল্য ২ কোটি টাকারও বেশী। এ ক্ষতির অর্ধেকের বেশীটাই রয়েছে বাদশা আজিজ মৎস্য হ্যাচারী’র মালিক হাবিবুল ইসলাম বাদশা নামের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এক মৎস্য চাষীর। এ উপজেলায় ব্যাপকভাবে মৎস্য চাষ না হলেও মৎস্যচাষের দিকপাল এ উপজেলার রয়েছে জেলার অন্যতম জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত মৎস্য চাষী। দেশের মৎস্য চাষে যাদের অবদান অনস্বীকার্য। বন্যায় এমন মৎস্যচাষীরাই হয়েছে সবচেয়ে বেশী ক্ষতির শিকার। উপজেলা মৎস্য অফিস সুত্র জানায়, এ উপজেলায় রয়েছে হাবিবুল ইসলাম বাদশা নামের জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত একমাত্র মৎস্য চাষী।

 

প্রায় কুড়িটি পুকুরে তিনি কার্প সহ বিভিন্ন দেশী মাছের চাষ ও রেনু, ডিম উৎপাদন করে থাকেন। তার উৎপাদিত মাছের ডিম, রেনু নীলফামারী ছাড়াও পাশর্^বর্তী লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁ সহ আরো একাধিক জেলার চাহিদা মিটিয়ে আসছেন। তিনি মুলত ডিম ও রেনু উৎপাদন করে থাকেন। ডিম উৎপাদনে তার পুকুরে রয়েছে রুই, কাতলা, মৃগেল সহ বিভিন্ন কার্প জাতীয় মাছ সহ বিভিন্ন জাতের দেশীয় প্রজাতির হাজার হাজার ব্রæড মাছ। কার্প জাতীয় প্রতিটি ব্রæড মাছের এক একটির ওজন ৬/৮ কেজি পর্যন্ত। দেশীয় প্রজাতির মাছগুলোও বেশ বড়।

 

এ মাছ হতেই তিনি ডিম সংগ্রহ করে থাকেন আর তার উৎপাদিত মাছের ডিম নীলফামারী ছাড়াও পার্শ^বর্তী জেলাগুলোর চাহিদা পুরন করে থাকে। চলতি বছরের বন্যায় তার সবকটি পুকুর ভেসে যাওয়ায় বেরিয়ে গেছে তার পুকুরের অন্তত ২ টন ওজনের হাজার হাজার ব্রæড মাছ। যার স্বাভাবিক বাজার মুল্য কোটি টাকারও বেশী। কিন্তু তার অর্থনৈতিক মুল্য রয়েছে শত কোটিরও বেশী। ব্রæড মাছ না থাকায় ক্ষতির মধ্যে পড়েছে তিনি সহ অনান্য মৎস্য চাষীরা। মুলত এমন ব্রæড মাছ হতেই আসে ডিম। আর ব্রæড মাছের অভাবে সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জেলার মৎস্য খাত।

 

বন্যার পানিতে মাছ ভেসে যাওয়ায় সর্বশান্ত এ মৎস্য চাষীর বর্তমানে চোখের জলে ভাসছে মৎস্য খাত। সর্বশেষ সান্তনার ভাষাটুকুও নেই কারো কাছে। এ ব্যাপারে ডোমার উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা শামসুল ইসলাম জানান, উপজেলার সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্থ জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত মৎস্যচাষী হাবিবুল ইসলাম বাদশার ক্ষতি শুধু তার একার নয় এ ক্ষতি পুরো মৎস্য খাতের জন্য অপুরনীয় এক ক্ষতি। এ ক্ষতিকে তিনি মৎস্যখাতের অশনি সংকেত বলে দাবী করেন।
সাথে ছবি আছে* ভেসে যাওয়া পুকুরে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত মৎস্য চাষী বাদশা।

আরো খবর »