আঁধারের অভাগীরা- শাহানা পারভিন রেখা।

Feature Image

এক ফাল্গুনে তোমাদের ঘুম ভাঙলে
দেখতে পাবে,
পৃথিবীর সবচেয়ে নরম,উজ্জ্বল ঘাসগুলো নারীদের কবরের উপরই জন্মায়।

যুগে যুগে আমি আসি স্বপ্নহীনতার পানসি বেয়ে তোমাদের পৃথিবীতে ফিরে ফিরে,
ধূসর চরাচরে তোমাদের কাছে
কন্যা,নারী,মাতা রুপে;
ঠিক খোলা জানালার ওপাশে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকে আমার অধিকার গুলো।

মেঘ রোদ্দুর ঘর,
হৃদয় স্তদ্ধ
অনীহা আমাকে অধিকার করে
আকাশের দিগন্তে আকাশ রয়ে যায়!

একচিলতে আকাশ আমার
ভরা জ্যোৎস্নাতে রাতজাগা পাখিদের গান
স্বপ্নের পায়রা ছুঁয়ে গেছে মন
চারপাশে ছড়ানো আকাশ
না এর কিছুই আমার জন্য না কারন আমার জন্ম “নারী” হয়ে।
নিমর্মতার অপারগতা নিয়ে
আমার আঁচলে অস্তাচলের সন্ধ্যা নামে
অধিকারের সীমারেখার ছলে
গ্যালিলিওর যুগ থেকে আজ অবধী
আমাকে বেঁধে রাখেছো।

সবটা দুপুর,সবটা রাত্রির গাঙচিল
বুনোপাখি
নিশ্চন্ত গভীর ঘুমে তোমার চুলে খেলা করে রৌদ্দুর
সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারে
পরবার রক্ত প্লাবন জীবনের পথে বিরহভূমি
একফোঁটা জল মনের সীমান্তে সুখ জমে গাঢ় বুকের ভাজে রক্ততিলক!!

পরাজিত প্রেম তীব্র আগুন
রাত কাটে অভিলাষী স্বপ্নে
অবিশ্বাসী ছায়া দ্বিধার আগুনে নিজেকে পোড়ায়
সবটা ভুলকি আমারই ছিল
মাধবী প্রত্যাখ্যান আমার আর কিছুই করার নাই
নষ্ট যুবতী অরন্য আর মরুভূমি
সুদূরপ্রসারী কি ভয়ংকর একাকীত্ব
বিশ্বাসঘাতক কি যে ভীষন যন্ত্রণাদায়ক
ইরাক থেকে প্যালেস্টাইন
সব দেশে আমার একটিই পরিচয় “নারী ”
মেঠো পথ মাঠে ঘাট নিভৃত বাসনা
দুঃখচেতা নীলপাখিরা।

বুনো পথ বুনো হাওয়া
ভয়ানক অনিশ্চয়তার মুখে
ছুড়ে ফেলেছি নিজেকে যুগে যুগে
রক্তাক্ত দেহ শরীরে একচুমুক দুঃখ।

স্রোতে ভেসে দীর্ঘশ্বাসের সমুদ্র
পথে পথে অকাল মৃত্যু, মৃত্যুর গান
এবার ঘর ছেড়ে বাইরে এসো
দেখবো জ্যোৎস্নার বালুচর।

সব দুঃখকে পেছনে ফেলে জেগে ওঠো তুমি
ধর্ষনের অপরাধী ওরা
লজ্জিত হওয়া,আত্মহত্যা করবে তো ওরা।
সেই শাস্তি “নারী” তুমি কেন মাথা পেতে নিবে?

আঁধারের বন্দিনী অভাগীরা এবার জেগে ওঠো
ওদের জানিয়ে দাও…
সামনের ফাল্গুনে আমরা বরফ গলা নদী দেখবো,
কোটি বছরের অনিয়ম ভেঙে নিয়ম গড়বো,
এবার লিখবো নতুন কবিতা।

আরো খবর »