ঈদ উপলক্ষে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস শুরু

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঢাকা: ঈদুল আজহা উপলক্ষে দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখী লাখো যাত্রীদের আরামদায়ক সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে শুরু হয়েছে লঞ্চের বিশেষ সার্ভিস। প্রতি বছরের মতো এবারও নিয়মিত লঞ্চের পাশাপাশি চলবে অতিরিক্ত লঞ্চগুলো।

এবারে ঈদুল আজহায় ঢাকা-বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ২৮টি নৌরুটে সরাসরি দিন ও রাত্রিকালীন সার্ভিস মিলিয়ে ২২টি লঞ্চের পাশাপাশি ঈদ বিশেষ সার্ভিসে আরো ২৪ থেকে ২৬টি লঞ্চ ঢাকা-বরিশাল রুটে সরাসরি যাতায়াত করবে। তবে বিশেষ লঞ্চগুলো অতিরিক্ত যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনা করে চলাচল করবে।

বিআইডব্লিউটিএ-এর সূত্র জানায়, ঈদ সার্ভিসের লঞ্চগুলোর মধ্যে সুন্দরবন-৮, ১০, ১১, ১২, সুরভী-৭, ৮, ৯, পারাবত-২, ৯, ১০, ১১, ১২, এমভি টিপু-৭, এমভি ফারহান-৮, কীর্তনখোলা-১, ২, দীপরাজ, কালাম খান-১, তাসরিফ-১, ৪, অ্যাডভেঞ্চার-১, দেশান্তর ও গ্রিনলাইন ২ ও ৩ সহ ২৪টি লঞ্চ থাকবে।

লঞ্চের পাশাপাশি অতিরিক্ত সার্ভিস দেওয়ার জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুত রাখা ৬টি স্টিমারগুলো হলো- পিএস টার্ন, এমভি মধুমতি, পিএস মাহসুদ, এমভি বাঙ্গালী, পিএস অস্ট্রিচ ও পিএস লেপচা। প্রথমবারের মতো বহরে রাত্রিকালীন সার্ভিসে যুক্ত হবে অ্যাডভেঞ্চার-১ ও আধুনিকায়ন শেষে সুন্দরবন-১১ লঞ্চ।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিটিএ-এর যুগ্ম পরিচালক (ট্রাফিক) জয়নাল আবেদিন বলেন, নিয়মিত লঞ্চ সার্ভিসের পাশাপাশি প্রতিদিন ৫ থেকে ৭টি বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সাধারণত দুই ঈদেই যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড় থাকে। তবে কোরবানির ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভিড় কম থাকে।

তিনি বলেন, আজ থেকে ঘরমুখী যাত্রীদের জন্য বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালু করা হবে। নিয়মিত লঞ্চগুলোর পাশাপাশি বিশেষ সার্ভিস চলাচল করবে। তা ছাড়া ঈদের সময় ছোট-বড় মিলিয়ে লঞ্চগুলো প্রতিদিন ১৩০ থেকে ১৩৫টি ট্রিপ দিয়ে থাকে। যাত্রী বাড়লেও অতিরিক্ত ভিড় নেই। আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার থেকে অতিরিক্ত ভিড় শুরু হবে। যাত্রী ভোগান্তি দূর করতে নতুন পন্টুন, নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা, বিশেষ টিমসহ সার্বিক প্রস্তুতি শেষ।

দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ফিটনেস বিহীন লঞ্চ চলাচলের বিষয়ে তিনি বলেন, ফিটনেস বিহীন কোনো লঞ্চ চলাচল করে না। সদরঘাট থেকে এরূপ কোনো লঞ্চ যেতে পারে না। এর বাইরেও যদি কোনো লঞ্চ চলাচল করে তার জন্য আমাদের বিশেষ মনিটরিং টিম রয়েছে। এ ছাড়া লঞ্চে অতিরিক্তি যাত্রী বিষয়ে আমরা সচেতন রয়েছি। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটির কয়েকটি টিম তদারকি করবে।

এদিকে অতি বর্ষণ ও ঠিকাদারের সমন্বয়হীনভাবে কাজ করার কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ৩৫ কিলোমিটার জুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও পিচ ধুয়ে মুছে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানায়। এ কারণে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা এবার আগেভাগেই লঞ্চের অগ্রিম টিকিটের দিকে ঝুঁকে পড়ে। বিলাসবহুল লঞ্চ কোম্পানিগুলো গত ১৫ আগস্ট থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে। গত ২৩ আগস্ট মালিকানাধীন এসব লঞ্চের ঈদের দুদিন আগের ও দুদিন পরের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে।

পিরোজপুরের হুলারহাট ঈদ করবেন এমন এক ব্যবসায়ী আহাদ আলী বলেন, ঈদের সময় পরিবার নিয়ে বাড়ি যাব চিন্তা করলে একদিকে ভালো লাগে, অন্যদিকে আতঙ্কে থাকি। সেই চিন্তা করে পরিবারের সদস্যদের একটু আগে-ভাগে বাড়ি পাঠাচ্ছি। ঈদের দিন আমি বাড়ি যাব।

লঞ্চে ভাড়ার বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা যায়, আসন ব্যবস্থাপনা অনুসারে ছোট-বড় লঞ্চসমূহে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। বড় আকারের লঞ্চগুলোতে ডুপ্লেক্স ও ভিআইপি কেবিনের ভাড়া ৩ হাজার টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা হয়ে থাকে। যেখানে দুটো বেড, এসি, রেফ্রিজারেটর, টিভি, ডাইনিং সুবিধা রয়েছে।

দুই বেড সুবিধায় ডাবল কেবিনের ভাড়া ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা, এক বেডের সুবিধায় সিঙ্গেল কেবিন ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, সোফা-কাম-বেডের ক্ষেত্রে ৫০০ থেকে থেকে ৭০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়ে থাকে। এখানেও এসি কিংবা ফ্যান ও টিভির সুবিধা রয়েছে।

এ ছাড়া লঞ্চের ডেকেও (লঞ্চের খোলা স্থান) যাত্রা করা যায়। বড় অনেক লঞ্চে কার্পেট দেওয়া রয়েছে। তবে চাদর-বালিশ যাত্রীকে সঙ্গে বহন করতে হয়। এখানে ভাড়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »