এক বছরেও কান্না থামেনি স্কুলছাত্রী রিশার মায়ের

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঢাকা: ‘স্কুল থেকে ফিরেই আম্মু বলে জড়িয়ে ধরত। গত এক বছর মেয়ের মুখে আম্মু ডাক শুনি না। ওর কণ্ঠে আম্মু ডাক শুনতে ইচ্ছে করে।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন উইলস লিটেল ফ্লাওয়ারের শিক্ষার্থী সুরাইয়া আক্তার রিশার মা তানিয়া হোসেন।

গত বছরের ২৪ আগস্ট স্কুলের বাইরে রিশার পেটে ও হাতে ছুরিকাঘাত করে টেইলার্স কর্মচারী ওবায়েদুল। তিনদিন পর ২৮ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মারা যায় রিশা। তবে মৃত্যুর এক বছরেও কান্না থামেনি রিশার মায়ের।

বাড়িতে ঢুকতেই চোখে পড়লো দেয়ালে টাঙানো রিশার ছবি। রিশার ঘরের টেবিলে বই, খাতা, কলম-পেন্সিল আর জ্যামিতি বক্স গোছানো। আলমারির ভেতর রিশার রক্তমাখা খাতা রেখে দেয়া হয়েছে। মেয়ের কথা মনে পড়লে এসব জিনিসপত্রের মাঝেই রিশাকে খোঁজেন তার বাবা-মা।

রিশা হত্যার বিচার কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা তানিয়া হোসেন। তবে তিনি শুধু মেয়ের কথাই বলছিলেন। বলেন, ‘রিশা ছিল আমাদের বড় সন্তান, কত স্মৃতি ওকে নিয়ে। মেয়ের পড়ার শব্দে এখন আর ঘুম ভাঙে না। এমন কোনো দিন নেই, ওর কথা মনে পড়ে না। আমি মেয়ে হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রিশার মা আরও বলেন, ‘মেয়ে পড়াশোনায় খুবই ভালো ছিল। ওর স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হবে। কিন্তু ঘাতকের ছুরিকাঘাতে সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেল।’

২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট দুপুরে মারা যায় রিশা। তবে রিশা আহত অবস্থায় রমনা থানায় দণ্ডবিধির ৩০৭ (হত্যার উদেশ্যে আঘাত) ধারায় মামলা দায়ের করেন তার মা। রিশার মৃত্যুর পর দণ্ডবিধির ৩০২ (হত্যা) মামলায় রূপান্তরিত হয়।

পরে ৩১ আগস্ট ঘাতক টেইলার্স কর্মচারী ওবায়েদুলকে নীলফামারী থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবীবের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয় ওবায়দুল। জবানবন্দিতে ওবায়দুল বলেন, ‘আমি রিশাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু সে আমার প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। তাই আমি তাকে ছুরিকাঘাত করি।’

তবে মামলার রায় না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন রিশার বাবা-মা। রিশার বাবা রমজান হোসেন বলেন, মামলার ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ। গত এক বছরে মামলার কার্যক্রম ভালোভাবেই চলছিল। এ মাসের (আগস্ট ২০১৭) শেষে ২৭ তারিখে রায় ঘোষণার কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে এসে রায় পেছাল, বিচার কার্যক্রম আবার ঝুলে গেল।

তিনি আরও বলেন, রায় ঘোষণার কয়েকদিন আগে এভাবে আদালত পরিবর্তন করায় আমি হতাশ। আমি আর মামলা চালাব না। আমি মেয়ে হত্যার বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করি।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »