কালীগঞ্জে শ্রমিকদের বকেয়া আদায়ের দাবিতে মানববন্ধন

Feature Image

জেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

গাজীপুর থেকে আলমগীর হোসেন: গাজীপুরের কালীগঞ্জে মসলিস কটন মিলের সাবেক শ্রমিকদের বকেয়া আদায়ের দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় ছাত্র-শ্রমিক-জনতা ঐক্য পরিষদ। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার থেকে দুপুর পর্যন্ত বর্তমান হা-মীম গ্রুপের রিফাত গার্মেন্টসের ১নং গেইটের সামনে অবস্থান নেয় তারা। তবে এ সময় শান্তিপূর্ণ অবস্থানের কারণে কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা ঘটেনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ মসলিন কটন মিলের প্রবীন শ্রমিকদের প্রাপ্য বকেয়া বেতন ও অন্যান্য ন্যায্য পাওনাদি অবিলম্বে মিলের বর্তমান কর্তৃপক্ষ হা-মীম গ্রুপ পরিশোধ কর, করতে হবে শ্লোগান সম্বলিত ব্যানার হাতে নিয়ে বর্তমান রিফাত গার্মেন্টসের ১নং গেইটে অবস্থান নেয় স্থানীয় ছাত্র-শ্রমিক-জনতা ঐক্য পরিষদ নামের একটি সংগঠন। এ সময় তাদের হাতে-‘ছিলাম যুবক হয়েছি বৃদ্ধ-আর কত অপেক্ষা?, ছাত্র-শ্রমিক-জনতার এক দাবি-পাওনা টাকা কখন দিবি? আমরা ছাত্র-শ্রমিক-জনতা-দিতে হবে প্রাপ্য বেতন ভাতা’ শ্লোগান সম্বলিত নানা ফেস্টুন ছিল। শুরুতে সংখ্যাটা কম হলেও ছাত্র-শ্রমিক-জনতা পরিষদের এ দাবিতে একাত্ব হয়ে শত শত সাধারণ মানুষও যোগ দেন মানববন্ধনে।

এতে বক্তব্য রাখেন, ছাত্র-শ্রমিক-জনতা ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মো. সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, মসলিন কটন মিলের সাবেক শ্রমিকদের সকল প্রকার বকেয়া পরিশোধ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। বর্তমানে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিলেও, দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন তিনি। এ সময় সদস্য আবুল বাশার কাজল, তানভীর মোল্লা, তৌহিদুল ইসলাম তাওহিদ, এম.আই লিখন, আরিফ মোাড়ল, সাজিদ শরীফ, পোষন হোসেন, তৌকির আহমেদ অভি, শাহীন শেখ, মাসুম আহমেদ রকি, মোন্না হোসেন, ফারদিন আল-হাসান অর্পূব ছাড়াও প্রায় ৩ শতাধীক ছাত্র-শ্রমিক-জনতা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বক্তারা আরো বলেন, ২০১৩ সালের আগস্টে মসলিন কটন মিলটি হা-মীম গ্রুপের সত্ত্বাধীকারি এ.কে আজাদের নিকট তৎকালীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী সাবেক শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ শর্তে হস্তান্তর করেন। কিন্তু চার বছর অতিবাহিত হলেও এখনো পরিশোধ হয়নি মিলটির সাবেক শ্রমিকদের বকেয়া। মাঝখানে মাত্র কয়েকজন শ্রমিকের কিছু অংশ পরিশোধ হলেও সংখ্যাগরিষ্ট সাবেক শ্রমিকের এখনো বকেয়া পরিশোধ হয়নি। ফলে ওই শ্রমিক এবং তাদের সন্তানদের মাঝে বিরাজ করছে চরম অসন্তোষ। আর এতে ফুলে-ফেঁপে ঘটতে পারে যে কোন ধরণের দুর্ঘটনা।

এ ব্যাপারে রিফাত গার্মেন্টসের ব্যববস্থাপক মোবারক হোসেন শামীম জানান, আসলে এটা এমন কোন ঘটনা না। শুনেছি সাবেক শ্রমিকদের বকেয়ার দাবিতে গেইটের বাহিরে মানববন্ধন করছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

হা-মীম গ্রুপের কনসালটেন্ট একেম মাহফুজুল হক জানান, ইতিমধ্যে ওই মিলের ৩৪১ জনের শ্রমিকের বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে। আর বাকীটা প্রক্রিয়াধীন সরকারের কাছে আছে। এটা দেওয়ার কথা সরকারের। হা-মীম গ্রুপ মিলটি কিনার সময় শ্রমিকদের বকেয়া সরকারকে পরিশোধ করেছে। তাই ওটা সরকারই পরিশোধ করার কথা।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »