কুমারী মা ও বকনা বাছুর-দেবশ্রী চক্রবর্তী

Feature Image

মেয়েটি পেট দিন দিন বেড়েই চলে ,
আনকড়া ব্যাথার প্রাবল্যে মুখ ঢাকে ছেঁড়া কাঁথার ভেতরে ।
দুধে ভারী হয়ে আসে বুক-যেন পৃথিবী চাপা ভার।
দুটি গোলার্ধের মাঝে বয়ে যাওয়া ষোলটি বসন্ত পার করে
বমিবমি ভাব মেয়েট প্রার্থনায় রত মূর্তাবেতের পাটিতে ।
সন্ধে মিলানোর সাথে সাথেই আনকোড়া ব্যথার প্রাবল্য
ছড়িয়ে পরে গোয়াল ঘরে ।

গোয়ালঘর থেকে বকনাটির হাম্বা হাম্বা ডাক ।
গাঢ় হয় যন্ত্রণার রং অন্ধকারে রক্তিম সাজে ,
রক্তিম জাবর কাটার মাঝে বকনাটা ফোঁস ফোঁস করে
পেছনে আঠালো পদার্থ জড়ানো বাছুরটিকে চেয়ে দেখে ।
লাল আঠালো পদার্থ মাখা মানবশিশু নেমে আসে
ভেজা শব্দের সাথে সাথে।

তারপর দ্বিতীয় দফা ঘোষণার প্রাকমূহুর্তে শিশুটির কোমল গলা
চেঁপে ধরে-সর্বশক্তি বিনিয়োগে অদ্ভুত গোঙ্গানি বাতাসে মিলিয়ে যায় ।
শরতের মধ্য রাতে বিন্দু বিন্দু কুয়াশা ঝরায় কাঙ্খিত নাড়ীটি
বেরিয়ে সদ্য শিশুর কবরের ওপর ডালপালা মেলে ।
ভরাট ওলানের বোঁটায়-গুতি মেরে বাছুরটি বোঁটা চুষতে শুরু করে।

আরো খবর »