রাণীনগরে চুরির অপবাদে কিশোরকে দুই দিন ধরে আটক রেখে অমানুষিক নির্যাতন গৃহকর্তা গ্রেফতার

Feature Image

রাণীনগর (নওগাঁ) থেকে কাজী আছিুর রহমান: নওগাঁর রাণীনগরে চুরির অপবাদ দিয়ে দুই দিন ধরে আটক রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় শরিফুল ইসলাম (১৫) নামের এক কিশোরকে অমানষিক নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতনকারিরা পায়ের নখের ভিতরে সুচ ঢুকানো, হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে শরীরিরে বিভিন্ন স্থানে সহ বেধর লাঠি পেটা করার অভিযোগে ঘটনার দুই দিনের মাথায় রাণীনগর থানায় নির্যাতনকারি চার জনের নাম উলে­খ্য করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এঘটনা গৃহকর্তা আব্দুল খালেক (৪০)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। খবর পেয়ে ঘটনার প্রথম দিন রাতে এসআই শফি ওই কিশোরকে উদ্ধার না করে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও নির্যাতনকারিদের সাথে ঘন্টাব্যাপী দেন-দরবার করে রহস্যজনক কারণে চলে আসেন ।

জানা গেছে, উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিপুর গ্রামের মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে আব্দুল খালেকের বাড়িতে গত শুক্রবার দুপুরে বাড়ীতে কেউ না থাকার সুযোগে নগদ টাকা সহ স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনা ঘটে। চুরি ঘটনায় একই গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে এঘটনায় শরিফুল ইসলাম (১২) কে এই চুরির সাথে জড়িত থাকার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে গত ২৫ আগষ্ট শুক্রবার অনুমান বিকাল ৩ টার দিকে শফিকুল তার বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় খালেক সহ তিন/চার জন মিলে তাকে ডেকে এনে খালেকের বাড়ির গোয়াল ঘরে আটক রেখে হাত-পা বেঁধে এলোপাতারি লাঠি পেটা করে। এক পর্যায়ে শরিফুল জ্ঞান হারিয়ে ফেললে নির্যাতনকারি খালেকসহবেশ কয়েকজন শরিফুলের হাতে-পায়ে সুচ ঢুকিয়ে উল­াস বসত আতœহারা হয়ে নানা কায়দায় কিশোরকে দফায় দফায় দুই দিন ধরে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালায়।

 

ঘটনার প্রথম দিন শুত্রবার রাত ৮ টার দিকে তার মা আয়শা বেগম জানতে পারেন যে তার ছেলেকে খালেকের বাড়ির গোয়াল ঘরে আটক রেখে চুরির অপবাদ দিয়ে মারপিট করে অচেতন অবস্থায় আটক রাখা হয়েছে। বার বার তাদের কাছ থেকে ছেলে উদ্ধারের চেষ্টা করে নির্যাতনকারী খালেক, মিজানুর, জিয়া ও টিপু’র মন গলাতে না পেরে অনেকটা বাধ্য হয়ে শুক্রবার রাতেই রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ কে বিষয়টি জানালে ঘটনাস্থলে এসআই শফিকুর রহমান শফি’কে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে এসআই শফি গুরুত্বর আহত কিশোর শফিকুল ইসলামকে উদ্ধার না করে স্থানীয় চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু মন্ডল ও খালেকের লোকজনের সাথে ঘন্টাব্যাপী দেন-দরবার করে রহস্যজনক কারণে আইনগত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করে ঘটনাস্থল থেকে চলে আসেন। এরপর থেকে শুরু হয় আবারও কিশোরের উপর অমানবিক নির্যাতন।

 

এক পর্যায়ে শনিবার রাতে কিশোরের মা আয়শা বেগম অফিসার ইনচার্জকে তার ছেলে বাঁচানোর আকুতি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শনিবার রাত ১২ টার দিকে কিশোর শরিফুল কে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে রবিবার নওগাঁর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। কিশোরের শারীরিক অবস্থা ক্রমশ অবনতি ঘটলে এক পর্যায়ে রাণীনগর থানাপুলিশ ঘটনার মূলহোতা খালেক সহ চার জনকে আসামী করে শনিবার রাতেই একটি মামলা হলে খালেককে পুলিশ গ্রেফতার করে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ এসএম নাজমুল আহসান জানান, কিশোর শরিফুলকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আমরা যথাসাধ্য চিকিৎসা সেবা প্রদান করি। বেধর মারপিটের কারণে তার শরীরিরে একাধিক ক্ষত চিহৃ দেখা গেছে। ভাল চিকিৎসার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চুরির মিথ্যা অপবাদে শরিফুল ইসলামকে মারপিটের কারণে তার মা আয়শা বেগম বাদি হয়ে চার জনের নাম উলে­খ্য করে থানায় মামলা করলে এজাহার নামীয় গৃহকর্তা খালেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদেরকে গ্রেফতার অভিযান অব্যহত রয়েছে।

আরো খবর »