ঈশ্বরদীতে রাবি’র শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষানীয় প্রযুক্তি হস্তান্তর

Feature Image

উপজেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঈশ্বরদী (পাবনা) থেকে সেলিম আহমেদ: ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের আড়কান্দি গ্রামে বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটি কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক ছিদ্দিকুর রহমান কূল ময়েজের খামারে গতকাল সোমবার দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোনমি এন্ড এগ্রিকালচারাল এক্্রটেনশন তৃতিয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষানীয় প্রযুক্তি হস্তান্তর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষানীয় প্রযুক্তি হস্তান্তর মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগি অধ্যাপক ড. রুহুল আমিন।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাসান ইমামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক মিসবাউস সালেহিন, বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটি কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক ছিদ্দিকুর রহমান কূল ময়েজ, বঙ্গবন্ধু জাতিয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক হাবিবুর রহমান মৎস্য হাবিব, বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক আব্দুল বারী, সাংবাদিক সেলিম আহমেদ, পোল্ট্রি চাষি আলহাজ্ব আব্দুল হাকিম, মৎস্য চাষি আবু তালেব জোয়াদ্দার, উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আলিউজ্জামান জিয়া, উপ-সহকারি উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা এখলাছুর রহমান, কৃষক আব্দুল হাই ও সামসুল আলম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ জন শিক্ষার্থী শিক্ষানীয় প্রযুক্তি হস্তান্তর মতবিনিময় সভায় প্রশ্ন উত্তর পর্বে অংশ নেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন শেখ মেহেরুল্লাহ স্কুলের প্রধান শিক্ষক আলি শাহান।

বক্তারা বলেন, কৃষির উপর এদেশ নির্ভরশীল। একমাত্র কৃষিই দেশকে একধাপ এগিয়ে নিয়েছে। আধুনিক কৃষির কারণে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ। কৃষি মানেই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা। কৃষকেরা দেশের মানুষের জন্য খাদ্য তৈরি করেন এবং আমিষের জোগান দেন। দেশে নতুন নতুন ফসলের চাষ ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। এ বছর বজ্রপাতে অনেক কৃষক মাঠে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে। এর পরেও এদেশের কৃষকেরা আজ অবহেলিত। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে কৃষকেরা রাত-দিন শ্রম বিনিময় করে মাঠে ফসল ফলানোর পর বাজারে তার সঠিক মূল্য পায়না। এতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ফসলের সঠিক মূল্য না পাওয়াতে ইতোমধ্যে অনেক কৃষক পথে বসে গেছেন। তাদের খামার বন্ধ হয়ে গেছে।

বক্তারা আরও বলেন, ৩০ বছরের কৃষির প্রযুক্তি মাত্র ৩০ মিনিটে আপনাদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে, এতে আপনারা উপকৃত হবেন। বাজারে মেয়াদ উর্ত্তীর্ণ রাসায়নিক সার ও কীটনাষক অহরোহ বিক্রি হচ্ছে এ থেকে সকল কৃষককে সাবধান হতে হবে। কৃষির উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য না পাওয়াতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অনেক কৃষক তা পরিশোধ করতে পারছেন না। ব্যাংকের সুদ মওকুফ করে নতুন ভাবে ঋন দিয়ে খামার পরিচালনার জন্য সভা থেকে বক্তারা সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন। এছাড়া কৃষি পণ্য সংরক্ষনের জন্য কৃষি হিমাগার ও কৃষি বিমার দাবি তোলেন।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »