ছাতকে হাদাটিলায় পাথর খেকোদের তান্ডব অব্যাহত

Feature Image

ছাতক (সুনামগঞ্জ) থেকে আমির হামজা জীবনঃ  ছাতকের ইসলামপুর ইউনিয়নের হাদাটিলাসহ এলাকার শতাধিক ছোট-বড় টিলায় পাথর উত্তোলনে মরিয়া হয়ে উঠেছে পেশাদার পাথর খেকোচক্র।

 

এতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২২আগষ্ট এসিল্যন্ডকে প্রধান করে ৫সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এসব টিলায় দীর্ঘদিন থেকে পাথর খেকোদের অব্যাহত তান্ডব লক্ষ্য করা গেলেও রহস্যজনক কারনে এতোদিন প্রশাসনের ভূমিকা ছিল সব সময়েই রহস্যজনক।

 

এখানে পাথর খেকোদের তান্ডবে উপড়ে পড়ছে ছাতক-ভোলাগঞ্জ ও সিমেন্ট কারখানা-কুমরা রোপওয়ের একাধিক ট্রেসেল। জানা গেছে, হাদাটিলা এলাকায় ১৯৯৫সালের পর থেকে পাথর উত্তোলনের মহোৎসব শুরু হয়। স্থানীয় নওশাদ মিয়া নামের একব্যক্তি টিলায় পাথর উত্তোলন শুরু করেন। ২০০১সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর পাথর উত্তোলনে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।

এরপরও উত্তোলন বন্ধ না হওয়ায় অবশেষে সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন শতাধিক উপকারভোগিদের নিয়ে হাদাটিলা এলাকায় সরকারের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে যৌথ বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন। এতে বনায়নকৃত টিলাগুলো পাথর খেকোদের লোলুপ দৃষ্টি থেকে রক্ষা পেয়েছে। সরকার বদলের পর একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বনায়নকৃত টিলার পার্শ্ববর্তী টিলাগুলোতে আবারো শুরু হয় পাথর খেকোদের বেপরোয়া তান্ডব।

এসময় তারা উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, বনও পরিবেশ বিভাগ, রাজনৈতিক নেতা, এসিল্যান্ড ও ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারি সংস্থার সদস্যদের কৌশলে ম্যানেজ করে টিলা কেটে পাথর উত্তোলন অব্যাহত রাখে। প্রতিদিন এসব উত্তোলন কা হয় লাখ লাখ টাকা লাল পাথর। এসব বিষয় প্রশাসনের নজর না কাড়লেও রহস্যজনক কারনে তারা কোন আইনগত পদক্ষেপ নেননি। একটি সূত্র জানায়, সরকার দলের কতিপয় নেতাও তাদের আত্মীয়-স্বজন হাদাটিলা এলাকায় ফকিরটিলা-চাইরগাঁও সড়কের পশ্চিম ও পূর্বদিকের ছোট-বড় শতাধিক টিলায় পাথর উত্তোলন করে যাচ্ছে।

 

অনেকে পাথর উত্তোলনের সময় প্রশাসনিক ঝুট-ঝামেলা এড়াতে টিলা ভূমিকে নিজের মালিকানা দাবি করছেন। অবশেষে ২২আগষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নাছির উল­াহ খানের কার্যালয়ে এসিল্যান্ড সাবিনা ইয়াসমিনকে আবায়ক, বিট অফিসার সালা উদ্দিন, ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হেকিমও ওয়ার্ড মেম্বারসহ ৫সদস্যের মাধ্যমে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। হাদা টিলার সরকারি বনায়ন প্রকল্প ও পরিবেশ রক্ষায় আইনী পদক্ষেপ হিসেবে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে কমিঠির নেতৃবৃন্দের টিলা কাটা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি করছেন এলাকাবাসি। কমিঠি গঠনের পর ২৩আগষ্ট এসিল্যান্ড সাবিনা ইয়াসমিনের নেতৃত্বে টিলার আড়াইশ’ ঘনফুট টিলার পাথর বোঝাই একটি ইঞ্জিন নৌকা জব্দ হয়।

আরো খবর »