একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন লালমনিরহাটে লড়াই হবে ত্রি-মুখী

Feature Image

লালমনিরহাট  থেকে জিন্নাতুল ইসলাম জিন্নাঃ  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এরই মধ্যে লালমনিরহাট ১, ২ ও ৩ (সংসদীয় আসন ১৬, ১৭ ও ১৮)-তে শুরু হয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ। বইতে শুরু করেছে লালমনিরহাটে নির্বাচনের আগাম হওয়া।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের মধ্যে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এসব দলে সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ অঞ্চলে জনপ্রিয় জাতীয় পার্টি কোনো জোটে যাবে কি না, তা নিয়ে যেন সাধারণ মানুষের জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের মধ্যে আলাদা একটা উৎসাহ দেখা দিয়েছে। হাটবাজার ও চায়ের আড্ডায় আলোচনায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এবং সাবেক বিরোধী দল বিএনপির কর্মকান্ডের নানা বিষয় আলোচনায় উঠে আসছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে একাধিক প্রার্থী থাকলেও বিএনপি ও জাতীয় পার্টিতে একক প্রার্থী প্রায় নিশ্চিত রয়েছেন। লালমনিরহাট-৩ সদর আসনে জাসদ ছাড়া অন্য দলের কারও তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। দলীয় টিকিট পেতে ইতিমধ্যে অনেকেই ঢাকায় তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত নির্বাচনে অংশ না নেয়া বিএনপি দলীয় কোন্দলের কারণে লালমনিরহাটে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে আছে। তবে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা একাধিক ভাগে বিভক্ত থাকলেও সবাই কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর অনুসারী। ক্ষমতার মসনদে প্রতিষ্ঠিত আওয়ামীলীগ লালমনিরহাটে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে গণসংযোগে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এদিকে জোর প্রচার প্রচারণায় নেমেছে লালমনিরহাটে জাতীয় পার্টিও। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের ছোট ভাই ও পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের কম বেশি লালমনিরহাটে সফরে করছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীও ঘরে বসে নেই। তারা জেলার হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম লালমনিরহাট-১ আসনটি পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। যদিও সেখানে তাদের যোগ্য প্রার্থী নেই। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্ব›িদ্বতাপূর্ণ হবে বলে জেলাবাসী মনে করছেন।

৩টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট জেলায় সব দলের অর্ধশতাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম শোনা যাচ্ছে। নির্বাচনের এখনো অনেক সময় বাকি থাকলেও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন এমপি পদ প্রার্থীরা।

এবার লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেনের পাশাপাশি পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুলের নামও আলোচিত হচ্ছে। সেই সাথে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মকবুল হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে পরপর চার চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় মোতাহার হোসেনের পাল্লাই ভারী। মনোনয়ন দৌড়ে তিনি অনেকটাই এগিয়ে। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধানের। পাশাপাশি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জয়নুল আবেদীন সরকার, তার ছেলে সাইদুজ্জামান কোয়েল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা সাজেদুল ইসলাম পাটোয়ারী উজ্জ্বল, হাতীবান্ধা বিএনপির সভাপতি মোশারফ হোসেন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা শাহীন আকন্দের প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে।

জাতীয় পার্টি থেকে গণসংযোগ করছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এমজি মোস্তফা। এলজিইডি প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গার নাম শোনা যাচ্ছে এই আসনে। তবে এ আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ নিজেও প্রার্থী হতে পারেন বলে অনেকেই ধারনা করছেন। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন এরশাদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও কেন্দ্রীয় জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর (অব.)খালিদ হোসেনের।

রররলালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহম্মেদ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে অনেকটাই নিশ্চিত। দলের এককপ্রার্থী হিসেবেই তার নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ও আওয়ামীলীগ নেতা শহীদ সুরুজের ছেলে ইমরুল কায়েস ফারুক প্রার্থী হিসেবে তাদের নাম শোনা যাচ্ছে। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাবেক এমপি সালেহ উদ্দিন আহম্মেদ হেলাল। তবে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর নামও নেতা-কর্মীর মুখে মুখে। কোন বাধ্যবাধকতা না থাকলে দুলু এ আসনেও প্রার্থী হবেন এটা অনেকটা নিশ্চিত করে বলা যায়। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা রোকন উদ্দিন বাবুলের প্রার্থিতা অনেকটাই নিশ্চিত। জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী তিনি প্রতিনিয়ত গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
লালমনিরহাট-৩ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবু সাঈদ দুলাল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. মতিয়ার রহমান, মহিলা এমপি সফুরা বেগম রুমী ও গোলাম মোস্তফা স্বপনসহ একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। এ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির সংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। জাতীয় পার্টিতে এরশাদের ছোট ভাই সাবেক মন্ত্রী জিএম কাদের ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা জাপার সাধারন সম্পাদক অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম মিঠুও প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন।

 

এই আসনে তিনি জাপার প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে জেলা জাপা সুত্র জানিয়েছে। তবে সদর আসনে জনপ্রিয়তার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। সদর আসনে তিনি বিএনপির একক প্রার্থী। তিনি এরই মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কমিটি গঠনের কাজসহ দুর্নীতিবিরোধী সাইকেল র‌্যালি করে নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করছেন। তার বিপরীতে লড়তে প্রস্তুত বর্তমান আওয়ামী লীগের এমপি ইঞ্জিনিয়ার আবু সালেহ মো. সাঈদ (দুলাল)। অন্যদিকে কার্যত বিএনপি ও জাতীয় পাটির দুই অধ্যক্ষের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দিতায় থাকতে পারেন নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী আবু সাঈদ দুলাল। আর এই আসনে মশাল প্রতীক নিয়ে এবারও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলা জাসদ সভাপতি এম খোরশেদ আলম।
লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন এমপি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারাদেশের মতো লালমনিরহাটেও ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আগামী দিনে এ জেলার মানুষ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আগামী দিনেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকবেন বলে তিনি বিশ^াস করেন।
লালমনিরহাট জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি এমজি মোস্তফা বলেন, জাতীয় পার্টি আগের চেয়ে এ জেলায় অনেক শক্তিশালী, তাই আগামী নির্বাচনে এখানের (লালমনিরহাট) তিনটি আসনেই জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগীয়) অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, আগামী নির্বাচনে এ জেলার মানুষ ধানের শীর্ষে ভোট দিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবেন। সেই সাথে এই জেলার তিন আসনেই বিএনপি প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরো খবর »