মানিকগঞ্জে গোপাল চন্দ্র উচ্চ বিদ্রালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচনী সভায় হামলা

Feature Image

মানিকগঞ্জ থেকে জালাল উদ্দিন ভিকুঃ  মানিকগঞ্জের গোপাল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচনী সভায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক প্রতিনিধি ও শিক্ষক প্রতিনিধিরা আহত হয়েছে। সোমবার বেলা ১২ টার দিকে মহাদেবপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি বাবুল আক্তার খাজা এবং তার অনুসারীরা এই ঘটনা ঘটান। আহতদের মধ্যে চারজনকে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পেøক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়ন করা হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লুৎফর রহমান জানান গত ২৩ আগষ্ট বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে অভিভাক প্রতিনিধি পদে বিজয়ী হয় আব্দুল আলীম, শরিফুল ধ্বনি, একেএম ফজলুল হক ও মো. সোহরাব হোসেন। শিক্ষক প্রতিনিধি পদে বিনা প্রতিদ্ব›দ্বীতায় নির্বাচিত হয় মো. মোন্নাফ আলী, মো. রফিকুল ইসলাম ও চিনু রাণী বসাক। দাতা সদস্য হিসেবে সাবেক সভাপতি আক্তারাজ্জামান বাবুল ও সংরক্ষিত নারী অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে হোসনে আরা বেগম নির্বাচিত হয়। বিদ্যালয়ের নতুন সভাপতি নির্বাচনে জন্য সোমবার নব নির্বাচিতদের নিয়ে সভার আয়োজন করা হয়। সকাল ১১টায় শিবালয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খবির উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচিত সকল প্রতিনিধি এবং প্রধান শিক্ষক। সভাপতি পদে প্রার্থী হিসেবে সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামাীগের কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রহিম খানের নাম প্রস্তাব করেন অভিভাবক প্রতিনিধি একেএম ফজলুল হক। আরেক অভিভাক প্রতিনিধি মো. সোহরাব হোসেন সর্মথন করে।

 

সভাপতি পদে আর কোন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব না করায় আব্দুর রহিম খান সভাপতি পদে নির্বাচিত হন এবং খসড়া রেজুলিশনে তা লিপিবদ্ধ করা হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্যের মতামতের ওপর ভিত্তি করে নির্বাচিত সভাপতি আব্দুর রহিম খানকে পত্র দেয়া হবে মর্মে সিদ্ধান্ত হয়। এসময় বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন মহাদেবপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি বাবুল আক্তার খাজা এবং তার লোকজন। সভাপতি পদে তার নাম প্রস্তাব না করে আব্দুর রহিম খানের নাম প্রস্তাব করায় তিনি এবং তার লোকজন সোহরাব হোসেনকে মারধর করে। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তারা অন্যান্য প্রতিনিধি ও সহকারী প্রধান শিক্ষক আছির উদ্দিনকে মারধর করে। এই খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক জালাল সরকার এবং তার সমর্থকরা ঘটনাস্থলে গেলে তারা জালাল সরকার, তার ছেলে ফরিদ সরকার, আফজাল সরকারসহ বেশ কয়েকজনকে মারধর করে। আহতদের দ্রæত শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পেøক্সে নেয়া হয়। সেখানে জালাল সরকার, তার ছেলে ফরিদ সরকার, আব্দুর রাজ্জাক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক আছির উদ্দিন চিকিৎসাধীন আছে।
শিবালয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খবির উদ্দিন বলেন তিনি প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে গত ২৩ আগষ্টের নির্বাচনটি তিনি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেছেন। সভাপতি পদে নির্বাচনের ধার্যদিনে তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং হামলার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাবেন বলে জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত মহাদেবপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি বাবুল আক্তার খাজা বলেন, তিনি কোন হামলা করেননি। তবে তাদের সাথে তার লোকজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শিবালয় থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। ঘটনা শুনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

 

আরো খবর »