‘রাম রহিমের আচরণ জন্তুর মতো, তার ক্ষমা নেই’

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, ‘গুরমিত সিং রাম রহিমের আচরণ বন্য জন্তুর মতো, তার ক্ষমা নেই।’

ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) বিশেষ আদালতের বিচারক জগদীপ সিং সোমবার ধর্ষণের মামলায় দোষী প্রমাণিত বিতর্কিত ধর্মগুরু রাম রহিমকে ২০ বছর কারাদণ্ড দেন।

রায়ের আগে রাম রহিম আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, রাম রহিম তার সেবায় নিয়োজিত স্বাধ্বীদেরও (নারী সেবিকা) ছাড় দেয়নি এবং তাদের সঙ্গে বন্য জন্তুর মতো আচরণ করেছে। ফলে গুরমিত ক্ষমা পাওয়ার কোনো যোগ্যতা রাখে না।

রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, উভয় বাদী (দুই নারী) গুরমিতকে ঈশ্বর মানতো এবং সেভাবে তার সেবা করতো কিন্তু সে তাদের সঙ্গে জন্তুর মতো ব্যবহার করেছে। এমন যৌন নিপীড়নকারী সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও সেবামূলক কাজের সঙ্গে থাকতে পারে না।

বিচারক বলেন, অপরাধীকে ক্ষমা করলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থাহীনতা তৈরি হবে। পাপীদের সাজা দেওয়ায়ই আদালতের কাজ।

২০ বছর কারাদাণ্ডের পাশাপাশি রাম রহিমকে ৩০ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে। সাজা ঘোষণার পর তার ভক্ত-অনুসারীরা বিক্ষোভের চেষ্টা করলেও নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানে তা সম্ভব হয়নি।

গুরমিত সিং থেকে রাম রহিম নাম ধারণকারী এই ভণ্ড ধর্মগুরু নিজের আশ্রমে নারী ভক্তদের ধর্ষণ করতেন। গুরুর এই অন্যায়-অত্যাচার ভক্তরা মেনে নিতেন। কিন্তু নির্যাতিত দুই নারী এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে মামলা করেন।

রাম রহিম কেতাদুস্তর থাকতে পছন্দ করেন। মুখভরা দাড়ি-গোঁফ, ঝাঁকড়া চুল, বর্ণিল পোশাক-পরিচ্ছদ, বিলাসি জীবন-যাপন তার জীবনকে রহস্যাবৃত্ত করে রেখেছিল। সংগীতপ্রিয় ধর্মগুরু দুটি সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ছিলেন, যেখানে ৭-৮ হাজার লোক কাজ করতো। তার অনুসারীদের মধ্যে অধিকাংশই প্রান্তিক ও অশিক্ষিত। দরিদ্রদের জন্য তিনি সেবামূলক কিছু কার্যক্রম চালাতেন। যে কারণে ভারতের হরিয়ানা ও পাঞ্জাব রাজ্যের গরিব মানুষদের মধ্যে তিনি জনপ্রিয় ছিলেন।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »