রোমাঞ্চের অপেক্ষায় চতুর্থ দিন

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ক্রীড়া ডেস্ক: জয়ের জন্য চাই ২৬৫ রান। টেস্টের বিবেচনায় অস্ট্রেলিয়া দলের কাছে লক্ষ্যটা খুব বড় নয়। তবে মিরপুরের উইকেট বিবেচনা করলে কথাটা বলা ততটা সহজ নয়। কারণ স্লো ও টার্নিং উইকেটে স্পিনারদের মোকাবিলা করাটা প্রায় অসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে বিষয়টি আবার প্রমাণ করেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। মিরাজ-সাকিবদের বিরুদ্ধে খেলতে গলদঘর্ম হয়েছেন ম্যাট রেনশ-উসমান খাজারা। তবে হারার আগেই হেরে যাওয়ার দল তো অস্ট্রেলিয়া নয়। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ম্যাচটা জমিয়ে দিলেন ডেভিড ওয়ার্নার ও অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। সাকিব-মিরাজ-তাইজুলের অবাধ্য ও অবোধ্য স্পিনগুলোকে দারুণভাবে খেলেছেন এই দুই অসি ক্রিকেটার। তাতেই জমে উঠল মিরপুর টেস্ট। আগামীকাল প্রথম দুটি সেশনেই বোঝা যাবে মিরপুরে শেষ হাসি কে হাসবে।

২৬৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ছিল বাজে। ২৮ রানের মধ্যেই দুই উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা। সেখান থেকে ৮১ রানের দারুণ একটা জুটি গড়ে বাংলাদেশকে অপেক্ষায় রাখলেন ওয়ার্নার-স্মিথ। তৃতীয় দিন শেষ শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ২ উইকেটে ১০৯ রান। ডেভিড ওয়ার্নার ৭৫ ও স্মিথ ২৫ রানে অপরাজিত রয়েছেন।

শুরুতেই অসি ওপেনার ম্যাট রেনশকে ফিরিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। পরের ওভারে উসমান খাজাকে ফেরান সাকিব আল হাসান। ইনিংসের শুরুতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলছিলেন ম্যাট রেনশ। তবে নবম ওভারে মিরাজের নিচু হয়ে আসাটা বলটা ঠেকাতে পারেননি অসি ওপেনার। বল গিয়ে লাগে তাঁর প্যাডে। ফিল্ডারদের আবেদনে সাড়া দিতে দেরি হয়নি আম্পায়ারের। পরের ওভারে সাকিবকে উড়িয়ে মারতে যান উসমান খাজা। স্পিনের বিপক্ষে কখনই সাবলীল ছিলেন না এই ব্যাটসম্যান। ফিরতে পারতেন ডেভিড ওয়ার্নারও। তবে স্লিপে ক্যাচ ছেড়েছেন সৌম্য সরকার।

এর আগে জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সামনে ২৬৫ রানের লক্ষ্য রাখে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২২১ রান তোলে মুশফিকের দল। প্রথম ইনিংসে ২৬০ রান করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে ২১৭ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া।

দ্বিতীয় দিনের এক উইকেটে ৪৫ রান নিয়ে আজ তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। দিনের ষষ্ঠ ওভারে নাথান লায়নের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন তাইজুল ইসলাম। খুব বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি ইমরুল কায়েসও। সাজঘরে ফিরেছেন মাত্র ২ রান করে। তাঁর উইকেটটিও গেছে নাথান লায়নের ঝুলিতে। তবে এরপর দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যাচ্ছিলেন তামিম ও মুশফিক।

পঞ্চাশতম টেস্টের প্রথম ইনিংসে তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান খেলেছিলেন অর্ধশতকের ইনিংস। তামিম পূর্ণ করেছেন আরো একটি অর্ধশতক। তবে সেঞ্চুরিটা হয়নি। ৭৮ রান করে প্যাট কামিন্সের বলে উইকেটরক্ষক ম্যাথু ওয়েডকে ক্যাচ দেন তামিম। তামিম ফেরার পর সাকিব বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। নাথান লায়নকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে এসেছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। প্রথম ইনিংসে ৮৪ রান করা সাকিব দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন মাত্র ৫ রান।

তামিম-সাকিব আউট হওয়ার পর লিডটাকে বাড়ানোর পুরো দায়িত্বটাই নিয়েছিলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। দারুণ ছন্দে মনে হচ্ছিল দলনেতাকে। তবে ভাগ্যটা সহায় হয়নি তাঁর। রানআউট হয়ে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ৪১ রান করেন মুশফিক। নাথান লায়নের বলটা জোরের ওপরই মেরেছিলেন সাব্বির রহমান। সোজা গিয়ে লাগে স্টাম্পে। এর আগে বলে হাত ছোঁয়াতে সক্ষম হয়েছিলেন লায়ন।

মুশফিক আউট হওয়ার পরের ওভারেই ফিরে আসেন নাসির হোসেন। অ্যাগারের বলে উইকেটের বলে ক্যাচ দেন তিনি। নাসির ফেরার পর ব্যাটিং করতে এসেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বেশিক্ষণ টেকেননি সাব্বির রহমানও। নাথান লায়নের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান সাব্বির। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজের ২৬ রানের ছোট ক্যামিও ইনিংসে স্কোরটা ২০০ পার হয় বাংলাদেশের। শেষ পর্যন্ত ২২১ রানে শেষ হয় লাল-সবুজের ইনিংস। বাকি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মুশফিক ৪১ ও সাব্বির রহমান করেন ২২ রান। অজি বোলারদের মধ্যে নাথান লায়ন ছয় ও অ্যাশটন অ্যাগার নিয়েছেন দুই উইকেট।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »