জমে ওঠেনি রাজধানীর পশুর হাট

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঢাকা: রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটগুলোতে বেচাবিক্রি শুরু হয়েছে। ক্রেতাদের আনাগোনাও চোখে পড়ার মতো। কিন্তু ইজারাদারদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি রয়েছে। কারণ প্রত্যাশা অনুযায়ী পশু বিক্রি হচ্ছে না। তবে হতাশ নন তারা। তাদের বিশ্বাস, অন্যান্যবারের মতো এবারও ঈদের আগে বিক্রি জমে উঠবে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ৭টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ১৬টি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দিয়েছে। এর বাইরে মহানগরীর অলিগলিতে বহু অবৈধ হাট বসানো হয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলর ও সরকারদলীয়দের মদদে এসব হাট বসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, কামরাঙ্গীরচর অস্থায়ী হাটে প্রচুর পশু উঠেছে। কিন্তু বিক্রি জমে না ওঠায় ব্যবসায়ীরা কিছুটা হতাশ। বড়গ্রাম চেয়ারম্যান বাড়ী হতে বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটারজুড়ে এ হাট। মোহাম্মদ জাবেদ ও মোহাম্মদ ইসমাইল নামের দুই ব্যবসায়ী ফরিদপুর থেকে মাঝারি সাইজের ১২টি গরু কিনে এ হাটে উঠিয়েছেন।

এর মধ্যে দুটি গরু ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। হাটের ইজারাদার ও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন সরকার বলেন, ‘গতবারের তুলনায় হাটের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় বিক্রি এবার ভালো হবে।’

গাবতলী-বাবুবাজার বেড়িবাঁধ সংলগ্ন হাটে দেখা গেছে, খালি জায়গা ভরে সড়কের ওপর কিছু পশু রাখা হয়েছে। কুষ্টিয়া থেকে সায়মন নামের এক ব্যবসায়ী ১৫টি গরু নিয়ে এসেছেন এ হাটে। এর মধ্যে ২টি গরুর দাম হাঁকিয়েছেন ১৩ লাখ টাকা। ৯ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিং হাটে দেখা যায়, ১০টি গেট দিয়ে হাটে পশু ঢুকছে। দুপুর পর্যন্ত হাটে ৭ হাজার গরু, ছাগল ও মহিষ উঠেছে। এ হাটে পশুর ধারণক্ষমতা রয়েছে ২০ হাজার। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি। এ কারণে এই আকারের গরুর দাম তুলনামূলক বেশি। আর বড় আকারের গরুর চাহিদা কম হওয়ায় দামও তুলনামূলক কম। কুষ্টিয়ার এ ব্যবসায়ী এ হাটে পাঁচটি গরু এনেছেন। প্রতিটির দর হেঁকেছেন ১২ লাখ টাকা করে।

কুড়িল ৩০০ ফুট হাটে ১০ হাজারের বেশি গরু ওঠে মঙ্গলবার। আশানুরূপ বিক্রি হয়নি। স্বল্প পরিসরে কিছু গরু, ছাগল বিক্রি হয়েছে। ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুর ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন ৩৪টি গরু নিয়ে এসেছেন এ হাটে। মঙ্গলবার পর্যন্ত তার কোনো গরু বিক্রি হয়নি।

মোহাম্মদপুর বছিলা হাটে দেখা গেছে, কানায় কানায় গুরুতে ভর্তি। মঙ্গলবার পর্যন্ত ওই হাটে ২০ হাজার গরু উঠেছে বলে ইজারাদাররা জানান। তিনি বলেন, সোম ও মঙ্গলবার দুই দিনে ৫০০’র বেশি গরু বিক্রি হয়েছে। গাবতলী হাটে দেখা গেছে, হাটের সীমানা পেরিয়ে বেড়িবাঁধ সড়কের খালি জায়গায়ও পশু বেঁধে রাখা হয়েছে। স্বল্প পরিসরে বিক্রি শুরু হয়েছে।

হাসিল কাউন্টারে দেখা যায়, দীর্ঘক্ষণ কোনো পশু হাসিল কাটার জন্য আনা হয়নি। এ হাটের হাসিল আদায়কারী মনিরুল ইসলাম বলেন, বিক্রির অবস্থা খুবই খারাপ। আশা করি, বুধবার (আজ) বিক্রি জমে উঠবে।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »