কু্ষ্টিয়ার কামার পাড়ায় চলছে ছুরি চাকুর ধবল ধোলাই

Feature Image

জেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

কুষ্টিয়া থেকে হুমায়ুন কবির: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন কুষ্টিয়া জেলার কামাররা।দিনরাত সমান তালে তারা এখন হাসুয়া, ছুরি, চাপাতি,দা,বটি তৈরী ও শান দেওয়ার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

কয়লার দাম বেশি হওয়ায় অন্যবারের চেয়ে এবারে দা-বঁটি, ছুরি ও চাপাতির দাম কিছুটা বেশি বলে জানা গেছে। তবে এখনো পুরোদমে বিক্রি শুরু না হলেও চলছে দিন- রাত টুং-টাং শব্দে জিনিস তৈরির কাজ। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে কামারদের ব্যস্ততা। ক্রেতারা তাদের পছন্দের হাসুয়া, ছুরি, চাপাতি, ভোজালী, কুড়াল, মাংস কাটার জন্য গাছের গুলের টুকরো কিনার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

কুষ্টিয়ার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছেন তারা। অনেকের হাতে বেশি অর্ডার থাকায় নতুন কোন অর্ডারও নিচ্ছেনা। সারা বছর কাজ না থাকলেও কোরবানীর ঈদের এ সময়টা বরাবরই ব্যাস্ত থাকতে হয় তাদের।

পশু জবাইর সরঞ্জামাদি কিনতেও লোকজন ভীড় করছেন তাদের দোকানে। কামারের দোকান গুলোতে শোভা পাচ্ছে গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন পশু জবাইয়ের উপকরণ। প্রতি বছর কোরবানির ঈদ উপলক্ষে হাসুয়া, দা, ছুরি, চাপাতি, ও ধামার ব্যাপক চাহিদা বাড়ে যায়।

দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি গ্রামের গনি কর্মকার জানান, সারা বছর কাজ খুব কম থাকে কোরবানি এলে কাজ বেড়ে যায়। বর্তমানে ছোট ছুরি থেকে শুরু করে বড় ছুরি ও ধামার সান দেয়ার জন্য ৩০টাকা থেকে শুরুকরে কাজের গুণাগুণের ভিত্তি করে ৪০ থেকে ৭০টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া প্রতিটি দা বিক্রি হচ্ছে ৩শ’ টাকা, হাসুয়া ১৫০টাকা, ছোট ছুরি ৫০টাকা, বটি ২০০শ’ টাকা, চাপাতি ২৫০-৩০০ টাকা করে। মিরপুর উপজেলার সদরপুর গ্রামের আবদুল্লাহ কামার বলেন, সারা বছর আমাদের মোটামুটি বিক্রি হয়। তবে এই সময় বিক্রি হয় সবচেয়ে বেশি। তবে উৎপাদন ও প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় লাভ আগের চেয়ে কম।

তিনি আরও জানান, কুষ্টিয়ার বড়বাজার, মিরপুর, খোকসা, কুমারখালী, দৌলতপুর ও ভেড়ামারার বিভিন্ন জায়গায় কামারদের জমজমাট ব্যবসা থাকলেও সদরের রাজারহাটের মতো কোথায়ও নেই।

পশু জবাইয়ের ছুরি কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, কোরবানীর ঈদের আর মাত্র কয়েদিন বাকী তাই আগেই পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কিনার কাজটি সেরে ফেলছেন। তবে অন্যান বছরের চেয়ে এবার ছুরি, চাকু, চাপাতির দাম একটু বেশী বলে জানান তারা। লোহার পাশাপাশি এদিকে স্টিলের ছুরি চাকুও লোকজনকে আকৃষ্ট করছে। দৌলতপুরে শাণ দেওয়া কামার বিশনুর কাছে শাণ দেওয়ার মজুরি জানতে চাইলে তিনি বলেন, দা- ছুরি অনুযায়ী ৩০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে।

তবে ঈদ ছাড়া অন্য সময় একটু কম রাখা হয় বলে স্বীকার করেন তিনি। এদিকে যারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শাণ দেন তাদের অবস্থা মোটামুটি ভাল বলে জানাগেছে। যারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করেন তাদের একজনের সাথে কথা বলে জানাগেছে তাদের কমবেশি সারা বছরই কাজ থাকে। কারণ মহিলাদেরতো সারা বছরই হাসুয়া, দা- ছুরি দিয়ে কাজ করতে হয়। কয়েকজন কামার শিল্পী জানান, কামার শিল্পের অতি প্রয়োজনীয় জ্বালানি হচ্ছে কয়লা।

কিন্তু এই কয়লা এখন প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। গ্রাম- গঞ্জে ঘুরে কয়লা সংগ্রহ করতে হয়। বর্তমানে সেই তুলনায় কয়লার দামও অনেক বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে লোহার দামও। লোহা ও কয়লার দাম বাড়লেও সে তুলনায় কামার শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়েনি।

এছাড়া আধুনিকতার ছোঁয়ায় এসব পণ্য তৈরির বেশ কিছু আবার প্রযুক্তি নির্ভর হাওয়ায় কামার সম্প্রদায় আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়ছে। এ কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে পৈত্রিক পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন বলে জানায়।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »