জেলার আভ্যন্তরীণ উৎপাদন যথেষ্ট

Feature Image

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে জাকির হোসেন পিংকুঃ  কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদী সীমান্ত পেরিয়ে প্রচুর পরিমানে ভারতীয় গবাদিপশু আসছে দেশে। এদিকে জেলার খামারীরাও চাহিদারও বেশী যোগান দিতে সক্ষম ঈদে। ফলে জেলার হাটগুলিতে দেশী ও ভারতীয় উভয় ধরনের কোরবানী পশু সরবরাহ প্রচুর।

 

দামও নাগালের মধ্যেই। শিবগঞ্জ উপজেলার সরকার অনুমোদিত ওয়াহেদপুর ও রঘুনাথপুর ( বিশরশিয়া ও খাকচাপাড়া) বিট/খাটাল পথে দেশে প্রবেশ করছে ভারতীয় গরু-মহিষ। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ হাজার গরু আসছে বিট-খাটাল দিয়ে। ঈদ এড়িয়ে আসায় গরু আমদানির পরিমান বেড়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৯’বিজিবি পরিচালক লে. কর্নেল আবুল এহসান জানান, বিট/খাটালের মাধ্যমে ভারতীয় গরু আসায় কমেছে গরু চোরাচালান।

 

সীমান্ত হত্যাকান্ড বন্ধ প্রায়। পশু ব্যবসার সবক্ষেত্রেই সরকারী নজরদারী যথেষ্ট। ব্যবসায়ীরা জানান, বিগত বছরের তুলনায় এবার কয়েকগুন বেশি ভারতীয় গরু আসায় দেশে এবছর কোরবানীর গরুর দাম লাগামের মধ্যে। ভারত থেকে বাংলাদেশে গরু আমদানির অন্যতম প্রধান একটি রুট হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত। প্রায় সারা বছরই জেলার সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত পথে বাংলাদেশে ঢোকে ভারতীয় গরু। এখন ঈদকে সামনে রেখে গরু আমদানির পরিমান অনেক বেড়েছে।

 

শুল্ক ফাঁকি রোধ ও গরু আমদানির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা রাখতে আনতে চার বছর পূর্বে জেলার বিভিন্ন সীমান্তে ১০টির মত বিট/খাটালের অনুমোদন দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সীমান্তের শূণ্য রেখায় ভারতীয় রাখালরা গরু বাংলাদেশি রাখালদের কাছে হস্তান্তর করবে। সেই গরুগুলো বিটে রাখা হবে। এরপর সরকারি শুল্ক বাবদ (করিডোরে প্রদত্ত শুল্ক) গরু প্রতি ৫শ টাকা ও বিট কর্তৃপক্ষকে ৫০ টাকা (ব্যবস্থাপনা খরচ বাবদ) পরিশোধ করে গরু দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাবেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু গরুর সাথে মাদক ও অস্ত্র আসার অভিযোগ এবং এদেশের রাখালদের অর্থলোভে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে এবছর সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা সীমান্তে বাকের আলী, আলাতুলী’র বকচর, নারায়রপুরের জোহরপুর, জোহরপুর টেকসহ শিবগঞ্জ, ভোলাহাট ও গোমস্তাপুরের বেশিরভাগ বিট-খাটালের অনুমোদন দেয়নি সরকার। শুধু শিবগঞ্জের ওয়াহেদপুর ও রঘুনাথপুর বিটের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ দুটি বিটের মাধ্যমে জুলাই-আগষ্ট মাসে প্রচুর গরু ঢুকেছে বলে জানিয়েছে কাস্টম্স কর্তপক্ষ।

 

ওয়াহেদপুর বিট পরিচালক মনিরুল ইসলাম জানান, দু’দেশের ব্যবসায়ীদের সমঝোতায় গরু চোরাচালান কমেছে ও আমদানি বেড়েছে। রঘুনাথপুরের গরু ব্যবসায়ী আনারুল ইসলাম বলেন, করিডোর শুল্ক পরিশোধ করে গরু বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হয় সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুরহাট, শিবগঞ্জের মনাকষা,তত্তিপুর প্রভৃতি বড় হাটে। তবে ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেট,রাজশাহীর বিভিন্ন হাটসহ দেশের বিভিন্ন জেলাতেই বেশীরভাগ আমদানীকৃত ভারতীয় গরু বিক্রি হয়। তত্তিপুর হাটের ইজারদার রাসেল হোসেন বলেন, ভারতীয় গরু আমদানির পরিমান বাড়ায় কোরবানির গরুর দাম স্বাভাবিক। তবে পদ্মায় পানি বেশী থাকায় বড় গরু প্রবেশ করতে অসুবিধে হচ্ছে। বিটগুলিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে ব্যবসায়ীদের। তবে বিট মারিকরা তা অস্বীকার করেছেন। গত মঙ্গলবার জেলার অন্যতম বৃহৎ শহরের বটতলা হাটে গরুর মূল্য দুসপ্তাহব্যাপী কিছুটা কম থাকার পর কিছুটা বেড়েছে।

 

বুধবার বিকেলে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও) ডা.আনন্দ কুমার অধিকারী জানান, জেলায় গত বছর ১ লক্ষ ৫৬ হাজার পশু কেরাবানী হয়েছে। এর মধ্যে ৫৪ হাজার ছিল গরু। এবছর এর ৫ শতাংশ বেশী কোরবানী হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। জেলায় ৫ উপজেলায় খামারীদের উৎপাদন এই চাহিদার তুলনায় কিছু বেশী (প্রায় পৌনে দু’লক্ষ)। এর মধ্যে কিছু পশু জেলার বাইরে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ভারতীয় পশু আসায় দেশীয় খামারিরা তেমন ক্ষতিগ্রস্থ হবেন না। তবে লাভ কম হতে পারে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সহ দেশব্যাপী বন্যা ও সড়ক পথের বেহাল দশাও এবারে কোরবানীর পশু বাজারে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন তিনি। বিভিন্ন জেলার পাইকার কম এসেছে। সব মিলিয়ে শেষ মূহুর্তে জমে উঠেছে জেলার পশু হাটগুলি।

আরো খবর »