কোরবানির করণীয় আমল

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ইসলাম: সামর্থবানদের জন্য কোরবানি পূর্ব কিছু করণীয় এই প্রবন্ধের মূল উদ্দেশ্য। কোরবানি হতে হবে মনের ঐকান্তিক আগ্রহ সহকারে। একমাত্র মহান আল্লাহর আদেশ পালন ও সন্তুষ্টির জন্য এবং ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী। এ দুটোর অনুপস্থিতিতে বা যে কোন একটির অনুপস্থিতিতে কুরবানি বা যে কোন ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। এ ব্যাপারে  সতর্ক করার জন্য মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে আমাদের জানিয়েছেন, “এবং তাদের যথাযথভাবে শুনাও আদমের দুই পুত্রের (হাবিল ও কাবিলের) কাহিনী। যখন তারা কুরবানি করল তখন তাদের এক জনের কুরবানি কবুল করা হয়েছিল এবং অপর জনের কবুল করা হয়নি। (সুরা আল মায়িদা : ২৭)

নিচে কোরবানির পূর্ব করণীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলো।

শরীক নির্বাচন : সামর্থবানদের জন্য একাকি কোরবানি দেয়াই নিয়ম। প্রয়োজনে ছোটো গরু বা ছাগল কোরবানি দেয়া যেতে পারে। এতে ইখলাসের সঙ্গে এবং শরীয়তের নিয়ম অনুযায়ী কুরবানি করা আল্লাহরৃ রহমতে সম্ভব ও সহজ হয়। শরীকে কোরবানি দেয়ার ক্ষেত্রে যাচাই বাছাই করে শরীক নির্বাচন করতে হবে। শরীকদের কেউ যদি আল্লাহর হুকুম পালনের উদ্দেশ্যে কোরবানি না করে অন্য উদ্দেশে কোরবানি করে, এরকম লোককে শরীক বানালে কারো কুরবানি কবুল হবে না। একইভাবে শরীকদের কারো পুরো বা অধিকাংশ উপার্জন যদি হারাম হয় তাহলে কারো কুরবানি শুদ্ধ হবে না।

ওয়াজিব রেখে নফল কোরবানি : উপার্জনকারী ছেলে সামর্থের অধিকারি হলে নিজের নামে কোরবানি দিতে হবে। মা-বাবা সামর্থবান হলে তাদের নামেও কোরবানি দিতে হবে। ছেলে সামর্থবান কিন্তু মা-বাবা সামর্থবান নয় এ ক্ষেত্রে, ছেলে নিজের নামে কুরবানি অবশ্যই করতে হবে এবং সুযোগ থাকলে মা-বাবার নামে বা যে কোন একজনের নামেও করবে। নিজের ওয়াজিব কুরবানি আদায় না করে মা বাবার নামে কোরবানি করলে অথবা মা-বাবা মনে কষ্ট নেবেন ভেবে মা বাবার নামে কোরবানি করা ভুল। সামর্থ না থাকলে নিজের ওয়াজিব কোরবানি আদায়ের ক্ষেত্রে মা বাবাকে ছওয়াব পৌঁছানোর নিয়ত করা যাবে ।

কোরবানি নয় আকিকা : “আকিকা যেহেতু আগে দেয়া হয়নি, এ বছর কোরবানি থাকুক, এ বছর আগে আকীকা দিয়ে নেই, পরের বছর থেকে কুরবানি দেওয়া যাবে” এরকম কিছু কিছু অমূলক ধারণা আমাদের সমাজে প্রচলিত রয়েছে। কোরবানির সময়ের এরকম একটি অমূলক ধারনা হচ্ছে আকিকা না দিয়ে থাকলে কুরবানি দেয়া যায় না। অথচ ইসলামি শরিয়তের নিয়ম হচ্ছে আকিকা দেয়া না হলেও কুরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকলে কুরবানি অবশ্যই দিতে হবে।

চুল ও নখ কাটা : কোরবানির নিয়তকারী নখ, চুলসহ অন্যান্য লোমের ব্যাপারে রাসূল (সা.) বলেন, “যদি তোমাদের কেউ কুরবানির নিয়ত করে তবে জিলহজ মাসের নতুন চাঁদ দেখার পরে সে যেন কুরবানি না দেওয়া পর্যন্ত চুল ও নখ স্পর্শ না করে (না কাটে)” (সহীহ মুসলিম)

যারা কোরবানী করতে সক্ষম নয়, তারাও চুল, নখ ও গোঁফসহ অন্যান্য লোম কাটবে না। বরং তারা কুরবানির দিন ঈদের সালাতের পরে কাটবে।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »