ট্রেনে যাত্রায় উপচে পড়া ভিড়

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঢাকা: ঈদের দুইদিন আগের ট্রেন যাত্রায় উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদ, ইঞ্জিন ও দুই বগির সংযোগস্থলে বসে এবং দাঁড়িয়ে শত শত মানুষ ঘরে ফিরছেন।

পরিবহন ক্ষমতার প্রায় প্রায় তিনগুণ যাত্রী নিয়ে চলছে একেকটি ট্রেন। বেহাল সড়কের কারণে ট্রেনে যাত্রীর চাপ পড়ছে বেশি।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন প্লাটফর্ম যাত্রীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠে। যাত্রার দিন কাউন্টার থেকে ১৫ শতাংশ আসনবিহীন টিকিট বিক্রি করার কথা থাকায় যাত্রীর চাপ বাড়ছে। কয়েকদিন আগেও যারা বাসে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার কথা ভেবেছিলেন, তারাও এখন রেলওয়ে স্টেশনে ভিড় করছেন। এক ধরনের জোর করেই সাধারণ যাত্রীরা স্টেশনে প্রবেশ করছেন।

পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় হলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি, সিডিউল বিপর্যয় হয়নি, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে ধীরগতিতে ট্রেন চালাতে হচ্ছে। আর যাত্রীরা বলছেন, কয়েক ঘণ্টা দেরিতে ট্রেন ছাড়লেও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছতে পারলেই তারা খুশি।

এ বিষয়ে রেলপথ সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন জানান, রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সবকিছু দেখভাল করছেন। তবে ঘরমুখো মানুষকে কিছুতেই ছাদে উঠা থেকে বিরত রাখা যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় জোর করে ছাদ থেকে তাদের নামানোও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই কিছু কিছু ট্রেন ধীরগতিতে চালাতে হচ্ছে। যথাযথ গতি বাড়িয়ে ট্রেন চালাতে গেলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

তিনি বলেন, ঈদযাত্রায় সিডিউল বিপর্যয় নিয়ে যতটুকু না ভাবা হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে নিরাপত্তা নিয়ে। যাত্রীদের সুষ্ঠুভাবে নিজ নিজ গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেয়াই আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

উত্তরাঞ্চলে চলাচলকারী ছয়টি ট্রেন এক থেকে আড়াই ঘণ্টা বিলম্বে চলাচল করার কথা স্বীকার করে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী যুগান্তরকে জানান, এটি সিডিউল বিপর্যয় নয়। আমরা যাত্রীদের মঙ্গল চাই। এজন্য যাত্রীরা যাতে সুষ্ঠুভাবে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলা ট্রেনগুলোর ছাদ, ইঞ্জিন ও দুই বগির সংযোগস্থলে যাত্রীরা মৌমাছির মতো বসে যাচ্ছেন। এতে ট্রেনচালক ও গার্ড ঠিকমতো সামনের অংশও দেখতে পান না। এ কারণে নির্ধারিত গতিতে ট্রেন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলা ট্রেনগুলো যথাযথ গতি তুললে ট্রেন কাঁপতে থাকে। যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। গতি কমিয়ে ট্রেন চালাতে গিয়ে কিছু ট্রেন বিলম্বে কমলাপুরে আসছে এবং দেরি করে ছাড়তে হচ্ছে।

চট্টগ্রামে ট্রেনের ছাদে উঠে ও দরজায় ঝুলে যাত্রা : ট্রেনের অগ্রিম টিকিট না পেয়ে ছাদে উঠে ও দরজায় ঝুলে ঘরে ফিরতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। বুধবার দুপুরের পর চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোয় ঈদ উপলক্ষে বাড়িফেরা যাত্রীদের চাপ বেড়ে যায়। রেলওয়ে সূত্র জানায়, রোববার থেকে ট্রেনে বাড়িফেরা শুরু হয়েছে। তবে যাদের খুব বেশি কাজকর্ম নেই, তারা আগেই বাড়ি চলে গেছেন। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্ধারিত সময়েই ট্রেনগুলো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে বলে রেলওয়ে সূত্র জানায়। এদিকে মঙ্গলবার থেকে ঈদ স্পেশাল ৩ ও ৪ যাত্রা শুরু করেছে। এ ট্রেন দুটি ঈদের আগের দিন পর্যন্ত চলবে। একইভাবে ঈদের পরদিন রোববার থেকে সাত দিন এ ট্রেন দুটি চলবে বলে সূত্র জানায়।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »