গাড়ি যে চলছে না, অবর্ণনীয় দুর্ভোগ

Feature Image

জেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

মাদারীপুর: ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের ঢল নেমেছে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের যাতায়াতের প্রধান পথ মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটে। কাঁঠালবাড়ি ঘাট এলাকায় প্রায় চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট।

আজ বৃহস্পতিবার ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করে লঞ্চ, স্পিডবোট এবং ফেরিতে। অনেকেই জায়গা না পেয়ে ঝুঁকি নিয়ে গাড়ির ছাদে চড়ে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছেছেন।

মাদারীপুরগামী যাত্রী সাব্বির আহম্মেদ বলেন, ‘অনেক কষ্টে বেশি ভাড়া দিয়ে গাড়ি পেয়েছি। কিন্তু গাড়ি যে চলছে না। কাঁঠালবাড়ি ঘাটের জ্যামে আটকে আছে। কখন যে বাড়ি ফিরব আল্লাহ্ জানে।’

সরেজমিনে দেখা যায়, কাঁঠালবাড়ি চারটি ফেরিঘাটের প্রতিটিতেই যাত্রীদের ঢল নেমেছে। ফলে গাড়ির জন্য অপেক্ষা না করে ব্যাগ হাতে নিয়ে গন্তব্যে ছুটছেন অনেকে। কেউবা আবার ঝুঁকি নিয়ে বাসের ছাদে চড়ে বাড়ি ফিরছেন। প্রতিটি পরিবহনের ছাদে যাত্রী উঠতে দেখা গেছে। লঞ্চঘাটেও ছিল যাত্রীদের ভিড়। তবে তীব্র স্রোত থাকার পরেও যাত্রীরা লাইফ জ্যাকেট ছাড়া পদ্মা নদী পাড়ি দিচ্ছে।

বরিশালগামী যাত্রী আয়েশা বেগম বলেন, ‘ঘাটে অনেক জট। গাড়িতে ওঠা কষ্টের। মাইক্রোবাসগুলোতেও গাদিয়ে গাদিয়ে নিচ্ছে যাত্রী। তাই লোকাল বাসে করেই বাড়ি ফিরছি। আর ঈদ উপলক্ষে এতটা পথ যে আসতে পেরেছি এটাই হচ্ছে ঈদের বড় আনন্দ।’

খুলনাগামী যাত্রী জাকির হোসেন বলেন, ‘অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই লঞ্চে। তবুও লঞ্চে করেই পদ্মা পাড়ি দিতে হয়েছে। গাড়ি পাইনি তাই এখন বাসের ছাদে করেই বাড়ি ফিরব।’

মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটের ট্রাফিক পরিদর্শক উত্তম কুমার শর্মা বলেন, অতিরিক্ত গাড়ির চাপে ঘাট এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে। তাই থেমে থেমে গাড়ি চলছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে ঘাট এলাকায় কাজ করছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সদস্যরা। এ ছাড়াও নৌপথে দুর্ঘটনারোধে সব সময় নৌপুলিশ টহল দিচ্ছে।

এই নৌরুটে স্বাভাবিক সময়ে ১৭টি ফেরি চললেও ঈদে আরও তিনটি ফেরি যোগ হয়েছে। এখন চলছে ২০টি ফেরি। এ ছাড়া ৮৭টি লঞ্চ ও শতাধিক স্পিডবোট নিয়মিত কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটে চলাচল করে।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »