ফুচকা পর্ব ৮ দেবশ্রী চক্রবর্তী

Feature Image

মায়ের জ্বর হয়েছে, মা আজ আসতে পারে নি বাস স্টপে । আজ বাস থেকে নেমে ফুচকার দেখা হয় তিনটে হনুমানের সাথে হনু গুলো লাইট পোস্টের নীচে বসে পটল খাচ্ছিল । শম্ভুর সবজীর দোকান লাইট পোস্টের পাশে , দোকানের সামনে রোজ কিছু সবজী সে রেখে যায় ষাঁড় এর খাবার হিসেবে । বুদনের ঠাকুমার পোষা ষাঁড়টা রোজ এসে ওখানে খাওয়াদাওয়া করে । ষাঁড়ের ভয়ে মা কোন দিন লাল শাড়ি পরে আসে না । কিন্তু আজ অন্য রকম চিত্র দেখে ফুচকার খুব অবাক লাগলো । কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ওদের খাওয়া দেখছিল সে । তিনটের মধ্যে একটা হনু পটলটা টপ করে মুখে পুরে ল্যাম্প পোস্টটাকে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল । যেন সে কিছু বোঝাতে চাইছে । ফুচকার একটু সন্দেহ হলো । সে ল্যাম্প পোস্টটাকে ভালো করে তাকিয়ে দেখল তাতে একটা পোস্টার লাগান আছে । নদাদুর মুখটা জ্বল জ্বল করছে তাতে । নীচে লেখা আগামী ২২ এ জৈষ্ঠ স্বয়ম্ববর । বিবাহ ইচ্ছুক পাত্রীরা যোগাযোগ করুন । নদাদুর স্বয়ম্ববর হচ্ছে, তার জন্য আবার পোস্টার পড়েছে এবং হনুরা সেই খবর জেনে খিল্লি করে মনের সুখে পটল খাচ্ছে, ব্যাপারটা যথেষ্ট গুরুত্বপুর্ন বলে ফুচকার মনে হল । সে ভাবতে ভাবতে বাড়ির দিকে পা বাড়াল ।

 

ব্যাপারটা কি হয়েছে , সটু বুড়োর সাথে যে অমানবিক আচরণ নদাদু করেছে তা পাড়া প্রতিবেশী কেউ মেনে নিতে পারে নি । যেমন করেই হোক এর প্রতিশোধ তো নিতেই হবে । কন্তু কি ভাবে এই নিয়ে জ্বল্পনা কল্পনা বহু দিন ধরে চলছিল । সুযোগটা করে দেয় পেটো মেছো । পেটোর ছেলে টনি হচ্ছে হাড়হাবাতে ।যেখানে যা দেখবে, সব তার খাওয়া চাই । টনির জ্বালায় লোকের গাছে আম পেয়ারা কিছু রাখার জো নেই । একদিন টনির চোখে নদাদুর সবেদা পড়ল, সে পাঁচিল টপকে ঢুকে পড়ল নদাদুর সবেদা বাগানে । তারপর এক সপ্তাহের মধ্যে সবেদা বাগান সাবাড় । কাঙ্গালের চোখে শাগের ক্ষেত পড়লে যা হয় আর কি । তবে টনির শেষ রক্ষা হয় নি । গাছ থেকে সবেদা সব সরে যাচ্ছে, কিন্তু কে নিচ্ছে তা বুঝতে পারছিল না নদাদু । চোরকে ধরবে বলে এক এক দিন এক এক সময় সে বসেছিল বাগানের ভেতরে । শেষ দিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা নাগাদ টনিকে সে হাতে নাতে ধরে ফেলে । তারপর কান ধরে নিয়ে যায় টনির বাবা পেটো মেছোর কাছে । পেটো সন্ধ্যে বেলা বট তলায় নেতাজির মূর্তির নিছে বসে মাছ বিক্রি করে । ন দাদু সেদিন পেটোকে কিছু বলার সুযোগ দেয় নি । দাদুর খ্যান খেনে গলার চীৎকার শুনে পথচলতি মানুষ দাঁড়িয়ে পড়েছিল । দাদুর মুখে একটাই কথা শুধু বাবা মায়ের শিক্ষার অভাব, চুরি করা শিখিয়েছে । ছেলেকে লোকের বাড়ি চুরি করতে পাঠায়… চি চি চি …। কি রে পেটো আজকাল রোজগার পাতি কম হচ্ছে নাকি ! পাশে রিক্সার স্ট্যান্ডের রিকশাওয়ালারা সেদিন পেটোর পাশে দাঁড়িয়েছিল । তাঁরা নদাদুকে চেনে । নদাদু রিক্সায় উঠে টাকা দিতে চায় না । তাঁরা নদাদুকে বলেছিল, আপনি তো রিক্সায় উঠে টাকা দেন না, ভাইপো গিয়ে ফল খেয়ে এসেছে , ভেবে নিন এই ভাবে টাকাও শোধ হয়ে গেছে । কালু রিক্সাঅ্যালার বৌটা হচ্ছে এ পাড়ার মক্ষীরানি । সে সাইকেলে চচালিয়ে যাচ্ছিল বাজার করতে । সে বলল , ও দাদু , ছেড়ে দাওনা গো, ছেলে মানুষ ভুল করে ফেলেছে , তুমি চিন্তা করো না, আমি তোমার বাড়ি গিয়ে সবেদা খাইয়ে আসব । বুড়ো মানার পাত্র না । সে ক্ষতিপূরণ নিয়ে তবে এখান থেকে যাবে । শেষে পেটো বলে, আমি কিভাবে আপনাকে ক্ষতিপূরণ দেবো বলুন । নদাদু ভাবে ব্যাটা পেটো জীয়ন্ত মাছ বিক্রি করে । তাছাড়া অনেক দিন জীয়ন্ত মাছ খাওয়া হয় না । এখন বয়েস বাড়ছে এ সব মাছ খেলে শরীরটা ধরে রাখা যাবে । সে মওকা পেয়ে পেটোকে বলে সাড়া বাগান সাবাড় করেছে তোমার ছেলে, হাজার হাজার টাকার ফল । এখন যত দিন না টাকা পুরোন হচ্ছে আমি তোমার থেকে জিয়ন্ত মাছ নেবো । ব্যাস সেদিন থেকে দাদুর জীয়ন্ত মাছ খাওয়া রুটিনে দাঁড়িয়ে যায় ।

সোমবার করে খুঁড়ির শিবের ব্রত থাকলেও দাদুর সব ব্রত উঠে যায় । সে বাজার ব্যাগ হাতে সবে ভোর থাকতে হাজির হয় পেটোর দোকানে , পাছে ভালোমাছ গুলো অন্য কেউ নিয়ে নেয় । সে দিন পেটো জ্যন্ত কই মাছ নিয়ে বসেছে । দূর থেকে দাদুকে আসতে দেখে সে একটা ঝুড়ি চাঁপা দিয়ে মাছ গুলোকে রেখে দেয় । দাদুর চোখে পড়ে ঝুড়িটা সরে সরে চলে যাচ্ছে । ভালো করে তাকিয়ে দেখে একটা কই উঁকি মারল মনে হল যেন । ব্যাস , দাদু ব্যাগ খুলে বলে কই মাছ গুলো দিয়ে দে । দেখো কি সুন্দর উঁকি দিচ্ছে আমাকে দেখে । এত টাকার কই বিক্রি করলে কত লাভ , অগত্যা টনিকে মনে মনে শাপশাপান্তর করতে করতে সে কই গুলোকে তুলে দেয় বুড়োর ব্যাগে । সে দিন থেকে সে ঠিক করে যেমন করেই হোক বুড়োর খাঁই বন্ধ করতেই হবে । খুব তাড়াতাড়ি সুযোগও এসে যায় । সেদিন সন্ধ্যে বেলায় পেটো বটতলায় বসে মাছ বিক্রি করছিল । কালু রিক্সাওয়ালার বৌ টুকটুকি সাইকেলে চড়ে এসেছে মাছ কিনতে । টুকটুকি তার মিশুকে ব্যবহারের জন্য বেশ জনপ্রিয় । মাছ কিনতে কিনতে সে তাকিয়ে ছিল পেটোর দিকে । তারপর নিজে থেকেই বলল , জানো দাদা এলোমেলো ক্লাবের পল্টুদা সে দিন বলছিল জানিস টুকটুকি এই বুড়ো টাকে আমরা জব্দ করতে চাই, কিন্তু কি ভাবে বুঝতে পারছি না রে । তুই যদিন একটু বুদ্ধি দিস খুব ভালো হয় । আমি তাই বললাম ও পল্টু দা এমন করলে কেমন হয় গো , বুড়ো আবার বিয়ে করছে এই ঘোষণা যদি চারিদিকে করে দেওয়া যায় । আমার এই বুদ্ধি শুনে পলটি দা লাফিয়ে ওঠে, বলে ঠিক বলেছিস ট এই জন্য বলি আমাদের টুকটুকির মাথায় বুদ্ধি একেবারে গিজগিজ করছে । পেটোর এই প্রস্তাব খুব ভালো লাগে , সে আর কাল বিলম্ব না করে রিক্সাস্ট্যান্ডের সবাইকে ডেকে ঠিক করে দাদুর বিয়ে পোস্টার ছাপা হবে । রাতারাতি চাঁদাও উঠে যায় । টনি আর টনির বন্ধু বুদন মিলে সেই পোস্টার সারা পাড়ায় লাগায় নিজের দায়িত্বে । বুদন তার ঠাকুমার প্রিয় ষাঁড়টাকে আজকাল কোথাও বের হতে দেয় না এই ভয়ে যদি হাবাতে ষাঁড় ভুল করে পোস্টার গুলো খেয়ে ফেলে । নদাদুর বাড়ির সামনে দুটো পোস্টার মারা হয় যাতে দাদুর চোখে পরে । সকাল সকাল এই পোস্টার দেখে দাদু ট টেনসানে পরে যায় । পেটো বাজার থেকে কয়েক দিনের জন্য ঢুব মারে আর দাদু খালি হাতে বাজার থেকে ফেরে ।

 

দাদুর স্বয়ম্বর হচ্ছে এই খবর পোস্টার দেখে যত লোক জেনেছে, তার থেকে বেশি জেনেছে দাদুর কাছ থেকে । দাদু যাকে সামনে দেখেছে, তাঁকেই দায়িত্ব নিয়ে জানাচ্ছে যে তার নাকি স্বয়ম্বর হচ্ছে , কিন্তু সে নিজেই কিছু জানে না ।

দাদু ভয় পেয়ে গেলে তার ছ্যাঁচড়ামি গেলো না । এক দিন বাগানে বসে কি ভাবছে চোখ পড়ে কয়েকটা আঁচারের বয়ম রোঁদে মজছে । দাদু চারপাশে তাকিয়ে দেখে কেউ নেই , দুপুরের দিকে বাড়ির সবাই ভাত ঘুম দেয় । দাদু সুযোগ বুঝে ভাঙ্গা চেয়ারটার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ছুটে আসে বয়ম গুলোর দিকে । নাগ বৌঠানের মোড়বার হাত খুব ভালো , আগে দিতেন এখান দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে । দাদু বয়ম থেকে মোরব্বা বার করে মুখে দিতে যাচ্ছে এমন সময় তার মনে হল কেউ তার মাথায় একটা চাঁটি মারল । দাদু পেছন ফিরে তাকাতে গিয়ে আরেকটা চাঁটি গালে এসে পড়তেই সে পরে যায় । সে তাকিয়ে দেখে গোদা হনুটা তাকিয়ে আছে দাদুর দিকে । বিভীষিকাময় দৃষ্টি । দাদু বলে ফেলে এ ট খুনির দৃষ্টি । দাদু উঠে দাঁড়াতে যায় গোদা দাদুর ধূতই এক হাতে চেপে ধরে , দাদু পেছন ফিরে দৌড় দিতে গিয়ে দাদুর ধূতই যায় খুলে । পড়িমরি করে ছুটদিয়ে সিঁড়িতে উঠতে গিয়ে নাগ গিন্নীর সাথে ধাক্কা , নাগ গিন্নী আসছিলেন মোরব্বা গুলো নিয়ে যেতে । দাদুকে ওই অবস্থায় দেখে গিন্নী চোখ মুখ ঢেকে চীৎকার করে ওঠে …। ছি ছি ছি বুড়ো বয়স্যা ভীমরতি , এ ও দেখার ছিলো । দাদু ততক্ষণে ওপরে উঠে গেছে , নাগ গিন্নী এসব দেখে বলে সবাই কে বলে দেবো আপনার বদামীর কথা । আপনিই তাহলে পোস্টার টা লাগিয়েছিলেন । সবাই ঠিকই বলে ।

 

২২ এ জ্যৈষ্ঠ নদাদুর বিয়ে, তার আগের দিন কালু রিক্সা অ্যালার্ম রিক্সায় চেপে একটা হাড়ভাঙ্গা বুড়ো মাথায় টোপর পরে হাতে মাইক নিয়ে প্রচার করতে বেড় হয় , শুনুন শুনুন শুনুন , আসছে কাল বটতলায় অস্থায়ী মঞ্চে আমাদের প্রিয় নদাদুর বিয়ে অনুষ্ঠিত হবে । বিবাহ ইচ্ছুক কন্যার পিতারা স্বত্বর যোগাযোগ করুন । টুকটুকি ফুরুর বাঁশি বাজিয়ে সাইকেলে চেপে কাগজ বিলি করতে থাকে । নদাদুর অজান্তে সাড়া পাড়া থেকে চাঁদা তোলা হয় ।

 

২২ এ জ্যৈষ্ঠ সকাল থেকে মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয় । মঞ্চে নদাদু অনেক রকম ছবি বিভিন্ন সময় তোলা , সেই ছবি গুলো কোলাজ করে বিশাল একটা পোস্টার তৈরি করা হয় । তারপর গেঁদা ফুলের মালা দিয়ে সাজান হয় সেই মঞ্চ । সন্ধ্যে বেলায় টুকটুকির সাইকেলকে গেঁদা ফুলের মালা দিয়ে সাজিয়ে তাঁকে পাঠান হয় বর আনতে । সঙ্গে এলোমেলো ক্লাবের দুজন জাঁদরেল ছেলে যায় । ওদের দেখে দাদু ভিজে বেড়ালের মতন বসে থাকে । টুকটুকি দাদুকে চন্দন, ফুলের মালা টোপর পরিয়ে সাইকেলে চাপিয়ে বটতলায় নিয়ে আসে । দাদু ভেবেছিল হয় ট মেয়েদের লাইন লেগে যাবে , কিন্তু একি গিজগিজ করছে লোকজন । আশেপাশের গ্রাম থেকেও লোক এসেছে দাদুর বিয়ে দেখতে । দাদুকে আসতে দেখে সিডিতে সানাই বেজে ওঠে । দাদুকে মঞ্চে নিয়ে গিয়ে একটা প্লাস্টিকের চেয়ারে বসান হয় , এবার অপেক্ষা সেই মুহুর্তের । গিন্নীর কথা বারবার মনে হতে থাকে, কিন্তু গিন্নীটা আজকাল বড্ড বুড়ি হয়ে গেছে । নদাদুর মাসতুতো দাদা ৮০ বছর বয়স্যা বাড়ির ২৩ বছরের কাজের মেয়েটাকে নিয়ে পালিয়েছে , তাহলে নদাদুরই বা কি বয়স হয়েছে । চৈত্রে ৬৫ তে পা দিয়েছেন সবে । গিন্নীর ট থাকা আর না থাকা এক , আরেকজন এলে ক্ষতিই বা কি ?

 

পাশ থেকে সবাই বলাবলি করছে কোনে তৈরি তো ? আরেকজন বলল , হ্যাঁ কোনে তৈরি । দাদুকে মঞ্চের মাঝে দয়ার করা । দাদুকে আর মঞ্চের মাঝে দাড়করাতে হল না , দাদু নিজেই দাঁড়িয়ে পরলেন । তারপর শাঁখ বাজিয়ে, উলু দিয়ে পিরিতে বসিয়ে কনেকে হাজির করা হল মঞ্চে । কোনের দুই চোখ পান পাতা দিয়ে ঢাকা, তাই মুখ দেখা যাচ্ছে না , দাদু হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে, কন্যাকে সাতপাক ঘোরান হচ্ছে । পাশ থেকে টুকটুকি হুইসিল বাজিয়ে বলে উঠল আরে দাদুর হাসি যে আর ধরে না দেখছো । সাতপাক ঘোরার পর এবার শুভ দৃষ্টির সময় এলো । দাদু বৌয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে ।

আসতে আসতে মুখ থেকে পান পাতা সরে গেলো । দাদু যেন ভিমরি খেলো । কে চিনু না ?

 

 

চিনু দিদিমণির জীবনে ৫০ টি বসন্ত সে পার করেছে, এখন আর বিয়ের তোঁ সম্ভাবনাই তার নেই । পারাপ্রতিবেশি সব মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়, চিনুর আর হয় না । যখন প্রায় সব আশা শেষ, তখন এলোমেলো ক্লাবের তরফ থেকে এই প্রস্তাব আসে তার কাছে । এ তো হাতে চাঁদ পাওয়ার সময় । হোক না বুড়ো , আইবুড়ো নামটা তো খণ্ডন হবে । সে নিজেই বা কি ছুকরি । চিনু সাড়া জীবন টিউশান করে যা জমিয়েছে এবার তা খরচ করার সময় হোল । প্রথমে বিউটি পার্লারে গিয়ে সে মাথার চুল কালো করে, মুখটা ভালো করে ঘষে মেজে আসল । তারপর টুকটুকিকে সঙ্গে নিয়ে বিয়ের কেনাকাটি করলও । সুযোগ বুঝে টুকটুকি একটা দামী সিল্ক শাড়ি আদায় করে নিয়েছে ওর কাছ থেকে । টুকটুকি বলে, দিদি আমি সব সময় তোমার পাশে আছি তুমি ভেবো না । চিনু বলে ওরে কিছু নিয়ে ভাবি না, শুধু সতীনকে নিয়ে ভাবি, সতীনের ঘর করা কি সোজা কথা । টুকটুকি বলে ও তুমি চিন্তা করো না ন খুঁড়ি মাটির মানুষ , তাছাড়া খুঁড়োর ভালোবাসায় তুমি সব ভুলে যাবে । চিনু এসব শুনে লজ্জা পায় । আজকাল চিনুর হাবভাবই পাল্টে গেছে । ইদানীং খুব লজ্জা করে কথা বলে ।

 

নদাদুকে সবাই যখন বলে দাদু মালা পড়ান , দাদু বিরক্তিকর মুখ করে কাঠের মতন দাঁড়িয়ে থাকে । এই চিনুকে কোন দিন দাদুর পছন্দ না । ভাঙ্গা শামুকে পা কাটতে এই বয়স্যা সে প্রস্তুত না । পাশ থেকে এলোমেলো ক্লাবের দুটো ষণ্ডাগুণ্ডা ছেলে এগিয়ে এসে বলে বুড়ো , ভালো চাস তো মালা পড়া । আইবুড়ো মেয়ের জীবন নষ্ট করার মতলব আঁটছিস নাকি ?

মালা না পরালে যে নির্ঘাত মাড় খেতে হবে, তা বুঝে যায় সে, তাই ভয়ে ভয়ে মাল্যয়দান করে । এই দিকে নাগ গিন্নী নদাদুর বুকে সঙ্গে নিয়ে চীৎকার করতে করতে হাজির হয় মঞ্চে । নাগ গিন্নী বলে এই বিয়ে হবে না , এক বৌ জীবিত থাকা কালীন আরেক বিয়ে অপরাধ । আমি পুলিশে খবর দিয়ে আসছি । পুলিশ এলো বলে । নদাদু সুযোগ বুঝে এক লাফে তার গিন্নীর পেছন গিয়ে দাঁড়াল । কিছুক্ষণ পর পুলিশ এলো , কিন্তু পুলিশ বাবাজি কেস টা হাত দেওয়ার আগে ফিক্সিং করে মালকড়ি নিয়ে কেটে পড়ল । নদাদু যখন চলে যাচ্ছে, চিনু শুধু একটা কথাই বলল , মাল্যদান তো হয়ে গেছে, এবার আমার কি হবে । নগিন্নী বলল, সিঁদুর দান তো হয় নি , এই বলে সে নদাদুর হাত ধরে বলল চলে এসো । তারপর হাঁটতে শুরু করল । সেই প্রথ এবং সেই শেষ গ্রামের লোক ন খুঁড়ির কথা শুনল । মঞ্চ ছাড়ার সময় পেটো মেছো রাস্তা আগলে দাঁড়িয়ে বলল , দাঁড়াও , এত দিন আমার কাছ থেকে বিনে পয়সায় মাছ গিলেছ , আজ সবার সামনে কান ধরে উঠবোস করে বল আর কোন দিন কোন গরীব মানুষকে ঠকাবে না ।

 

নদাদু মঞ্চে কান ধরে উঠবস করছে, সে দৃশ্য সত্যি দেখার মতন । ক্লাব থেকে সেই ছবি তুলে বাধিয়ে রাখল ক্লাবের বারান্দায় আর পল্টু সেই দৃশ্য ভিডিও করে ফেসবুকে শেয়ার করল । যা ভাইরাল হয়ে গেলো ।

আরো খবর »