মা হওয়ার পথে কী কী বাধা আসতে পারে? কী এর চিকিৎসা?

Feature Image

নিউজ ডেস্ক : সমীক্ষা বলছে, ৬য়ের মধ্যে এক দম্পতি সন্তানধারণ সমস্যায় ভুক্তভোগী। পুরুষের তরফে অক্ষমতা দেখা দিতে পারে। আবার সমস্যা থাকতে পারে মহিলার তরফেও। মহিলাদের তরফে অক্ষমতা তৈরি হলে সেটিকে ডাক্তারি ভাষায় বলে ফিমেইল ইনফার্টিলিটি বা নারীর বন্ধ্যাত্ব। ফেলোপিয়ান টিউবে ক্ষতি, ডিম্বস্ফোটনে (ওভিউলেশন) সমস্যা কিংবা সার্ভিক্সে কোনও সমস্যা দেখা দিলে তা গর্ভধারণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

শুধু তাই নয়, আরও অনেক কারণে নারীর প্রেগন্যান্সিতে সমস্যা হতে পারে। যেমন –

 

১]হরমোনের সমস্যা – মহিলাদের সেক্স হরমোন এস্ট্রোজনের নিঃসরণে হেরফের দেখা দিলে নারীশরীর সন্তানধারণের উপযুক্ত অবস্থায় থাকে না। সুতরাং, এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সবার আগে হরমোনের সমস্যাকে মেটাতে হবে। স্ত্রীরোগবিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে সঠিক ওষুধ খেলে এস্ট্রোজেন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে আসবে।

২]টিউমার বা সিস্ট – অনেক মহিলার ওভারিয়ান সিস্ট বা পলিসিস্টিক ওভারি থাকে। এতে ঋতুস্রাবে যেমন সমস্যা তৈরি হয়, তেমনই প্রেগন্যান্ট হওয়ার ব্যাপারেও গোলমাল দেখা দেয়। এই সমস্যা নির্মূল করা সম্ভব। ডাক্তারের কাছে যান। তিনি আপনাকে ওষুধ খেতে দেবেন। অনেকসময় সিস্টকে গলিয়ে শরীর থেকে বের করে দেওয়া হয়। একবার যদি সিস্ট বা টিউমার শরীরের বাইরে বেরিয়ে যায় সন্তানধারণে কোনও বাধাই থাকে না।

৩]অ্যানোরেক্সিয়া বা বুলেমিয়া – রোগা থাকার জন্য অনেক মহিলা খেয়েদেয়ে সেই খাবার বমি করে দেয়। এই পদ্ধতি দীর্ঘদিন মেনে চললে বুলেমিয়া হয়ে যায়। মানে, খেলেই বমি। এতে শরীর খুব দুর্বল হয়ে যায়। ওজন কমতে কমতে অ্যানোরেক্সিয়ায় পরিণত হয়। হাড় গিলগিলে হয়ে যায় শরীরটা। আর সেই কারণেই সন্তানধারণে সমস্যা শুরু হয়। সুস্থ বাচ্চা জন্ম দেওয়া মতো পরিস্থিতিতে আর থাকে না শরীর।

৪]অ্যালকোহল ও ড্রাগস্ – পুরুষ ও নারী দু’জনের ক্ষেত্রেই অ্যালকোহল সন্তানধারণে বাধা। মা হতে চাইলে আগে মদ্যপান ছাড়ুন। এতে ক্ষতি আপনারই। সন্তান জন্মানোর জন্য শরীরকে অ্যালকোহলমুক্ত করা একান্ত জরুরি। না হলে সুস্থ বাচ্চার জন্ম দিতে পারবেন না কোনওমতেই।

৫] থাইরয়েড – সন্তানধারণের ক্ষেত্রে থাইরয়েড গ্রন্থির কর্মক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই হরমোনের নিঃসরণ যদি সমস্যামুখর হয় তা হলে প্রেগন্যান্সিতে বাধা হয়ে দাঁড়াবেই। থাইরয়েডের সমস্যা থাকে আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিঃসরণে স্বাভাবিকতা নিয়ে আসুন। না হলে প্রেগন্যান্ট হতেই পারবেন না।

৬] অতিরিক্ত ওজন – সন্তানধারণে সমস্যা তৈরি হয় যদি বাচ্চার মায়ের শারীরিক ওজন বেশি হয়। এর জন্য নিয়মিত এক্সারসাইজ় ও পর্যাপ্ত আহারের সাহায্যে ওজন কমিয়ে ফেলুন।

৭] হতাশা – কাজের চাপ, মানসিক অশান্তি, দুশ্চিন্তা করলে মহিলাদের মধ্যে মা হওয়ার ক্ষমতা ধীরে ধীরে হারাতে থাকে। ফলত, প্রেগন্যান্ট হতে চাইলে প্রথমেই মানসিক চাপ কমিয়ে ফেলুন। হাসিখুশি হয়ে উঠুন।

৮] অত্যাধিক এক্সারসাইজ় – শরীরের মেদ কমানোর জন্য অনেক মহিলাকেই জিমে দেহ কসরত করতে দেখা যায়। যেমন – ওয়েট লিফটিং, কার্ডিও। এতে শরীরে চাপ হয় খুব। সন্তানধারণের ক্ষমতা কমে যায়।

৯] ঋতুস্রাবে সমস্যা – অনিয়মিত পিরিয়ডস্ও কিন্তু সন্তানধারণের পথে বাধা হয়ে উঠতে পারে। অনিয়মিত পিরিয়ডসের সমস্যাকে যদি মেটাতে পারেন, তবে প্রেগন্যান্ট হওয়ার সমস্যাও মিটে যেতে পারে।

 

ফিমেইল ইনফার্টিলিটি শনাক্ত করার উপায়?
পরীক্ষার মাধ্যমে চেনা যায় সমস্যা। এব্যাপারে স্ত্রীরোগবিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন। পরিবারে ফিমেইন ইনফার্টিলিটির ইতিহাস থাকলে সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

নারীর বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা কী?
এই সমস্যা আজীবনের নয়। একবার ধরা পড়লে মোটেও ভাববেন না, যে আপনি সারাজীবন মা হওয়ার সুখ থেকে বঞ্চিত থাকবেন। এর জন্য আপনাকে চিকিৎসার মধ্যে দিয়ে যেতে হতে পারে। যেমন –

১] হরমোন ট্যাবলেট খেতে হতে পারে (চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ নিন)। এতে হরমোনের অসামঞ্জস্য, এন্ডোমেট্রিওসিস ও অনিয়মিত পিরিয়ডসের সমস্যা মিটে যেতে পারে।

২] ডিম্বস্ফোটন বা ওভিউলেশন যাতে হয়, তার জন্য ওষুধ খেতে হতে পারে (চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ নিন)।

৩] ঊর্বরতা বাড়ানোর জন্য সাপ্লিমেন্ট খেতে হতে পারে।

৪] অনেকসময় জরায়ুতে সংক্রমণ হওয়ার কারণে গর্ভধারণে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।

৫] ফেলোপিয়ান টিউব, জরায়ু বা পেলভিক অংশে কোনও বাধা থাকলে ছোটো একটি অস্ত্রোপচারের সাহায্য সেটি দূর করা যেতে পারে।

আরো খবর »