নাসির মাষ্টারে বেত্রাঘাতে শিশু তারিকুলের পিঠে পঁচন ধরেছে

Feature Image

কুষ্টিয়া: পিঠে শিক্ষকের বেত্রাঘাতের দগদগে ক্ষত, গায়ে প্রচন্ড জ্বর তার মধ্যে শিশু শিক্ষার্থী তারিকুলের পিঠে ড্রেসিং চলছে। শিশুটির আত্ম চিৎকারে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগসহ আশেপাশের বাসতাস ভারি হয়ে উঠেছে। ডাক্তার জানালেন আঘাতের ক্ষতে পঁচন লাগায় অবস করার ইনজেকশন কাজ করছে না।

কেওয়া গ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেনির ছাত্র তারিকুল (১২) শিক্ষকের নির্যাতনে অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে বিছানায় কাতরাচ্ছে। গত ২২ আগস্ট স্কুলে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ক্লাস শুরু পর পরই শিক্ষক নাসির উদ্দিন খিপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে শ্রেনী কক্ষের উপস্থিত ছাত্রদের বাঁশের টেপন দিন মার পিট করতে থাকে। শিক্ষকের বেত্রাঘাতে আঘাতে গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে তারিকুল বাড়ি ফিরে যায়। আহত ছাত্রকে তারিকুলকে পরিবারের লোকেরা তিন দফায় গ্রাম্য ডাক্তার কে দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। অবশেষে পিঠের ব্যথায় শিশুটি অসুস্থ হয়ে পরলে তাকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ইতোমধ্যে শিশু শিক্ষার্থী তারিকুলের পিঠে অস্ত্রপাচার করা হয়। তার ক্ষত স্থানে প্রতিদিনই ড্রেসিং করা হচ্ছে। আর এ সময়ে শিশুটির আত্ম চিৎকারে গোটা হাসপাতাল এলাকা ভারি হয়ে ওঠে। আহত শিশুটি পাংশা উপজেলার কেওয়াগ্রামের কৃষক শুকুর আলী মালের ছেলে।

জরুরী বিভাগে কত্যব্যরত চিকিৎসক ডাঃ আশরাফুল জানান, বেত্রাঘাতের ফলে শিশুটির পিঠে জমাট বাঁধা রক্ত এ্যাপসেজের সৃষ্টি করেছে। এখন প্রতিদিন ড্রেসিং ও উচ্চ ক্ষমতা সম্পর্ন এন্টিবাওটিক ইনজেকশন ও ওষুধ চলছে। শিশুটির উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জানান।
শিক্ষকের নির্যাতনে অসুস্থ্য ছেলের চিৎকার শুনে দূরে দাঁড়িয়ে হতদরিদ্র কৃষানী মা জরিনার দুই চোখ বেয়ে জল পরছিল। তিনিও শ্রেনী কক্ষে শিশুদের উপর নির্যাতন কারী শিক্ষক নাসির উদ্দিনের বিচারের দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, নাসির স্যারের কাছে প্রাইভেট না পরলেই সেই ছাত্রের আর রক্ষা নেই। ইতিপূর্বে উক্ত শিক্ষক একাধিক শিশু শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করেছে বলে অভিযোগ করেন এই অভিভাবক।

ছাত্র নির্যাতন কারী শিক্ষক নাসির উদ্দিরেনর সাথে মুঠোফোনে কথা বলা হলে তিনি বলেন, দৌবিক (হঠাৎ) লেগে গেছে কি আর করার আছে। শিশুটির নিকট বড় ভাই ৫ম শ্রেনীর ছাত্র শাহাদতের সাথে তিনি কথা বলেছেন। শিশুটির পিঠে অস্ত্রপাচার হয়েছে এমন সংবাদ তিনি শুনেছেন।
প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান আহত শিশু তারিকুলের পিঠে অস্ত্র পাচার লাগবে এ খবর গ্রাম্য ডাক্তারের মুখে শুনেছিলেন। তিনি গ্রাম্য চিকিৎসকের ওষুধের দামও দিয়েছেন। ছাত্রদের নির্যাতনের বিষয়ে স্কুলের এসএমসির সভাপতির সাথে আলোচনা করেছেন।

সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুজন আলীর সাথে কথা বলার জন্য ফোন করা হয় কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আরো খবর »