বিনোদনের নগর কুমারখালী-গড়ে উঠতে চলেছে হাসিমপুর পদ্মা পার্ক

Feature Image

আজ বিকালে(০৬.০৮.১৭) হাসিমপুর রক্ষা বাঁধে বকুল ফুল ও কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপন করে হাসিমপুর পদ্মা পার্ক আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করলো। ইতিপূর্বে এলাকার যুবকেরা কয়েকটি বসার বেঞ্চ নির্মাণ করেছে। গত দুই/তিন বছর ধরে বিকাল শুরু হতেই এলাকার মানুষ তথা পাশ্ববর্তী শিলাইদহ, মহেন্দপুর এমনকি কুমারখালী শহরেেথেকে অনেকেই এই বাঁধ বেড়াতে আসেন।

 

এখানকার প্রকৃতি সমান দুইভাগে পদ্মা কোল ভাগ করে মাঝখানে রক্ষা বাঁধ চলে গেছে প্রায় ১ কিলোমিটার উত্তরে। দুধারে পদ্মার শাখা জলজোছনায় ওষ্ঠাগত গরমে প্রকৃতির হিমেল হাওয়া এলাকার মানুষদের প্রাণকে শীতল করে। বিনোদনের বড় অভাব। লক্ষ লক্ষ মানুষ এই কুমারখালীতে। সংষ্কৃতি নগরী সেই সুপ্রাচীণ কাল থেকে।

 

কিন্তু বর্তমানে বেশ কিছ জায়গায় সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে বিনোদন পার্ক নির্মিত হওয়ায় বিনোদনপ্রেমিদের মনে উজাড় করা আনন্দধারা বইতে দেখা যাচ্ছে। তারই ধারাবহিতকতায় হাসিমপুর এলাকার কৃতিসন্তান ফারুক আজম হান্নান ও আতিনুর রহমান মার্শাল সহ এলাকার স্থানীয় বয়ো:বৃদ্ধ, তরুন, যুবকদের উপস্থিতিতে হাসিমপুর পদ্মাপার্ক দর্শনার্থীদের বিনোদন দিতে দুটি বৃক্ষরোপন করে শুভ সূছনা করেন। এখানে দর্শনার্থীদের বসবার মতো পর্যাপ্ত বেঞ্চ বা গোলছাতা না থাকায় একদিকে যেমন বসবার সংকুলান হচ্ছেনা অন্যদিকে দৃষ্টিনন্দনেও খানিকটা ঘাটতি থাকায় এলাকার কৃতিসন্তান অ্যাপ্রোজ একসেসসরিজ লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আতিনুর রহমান মার্শাল ২০ হাজার টাকা প্রদান করে। এলাকার শিক্ষক আব্দুর রহিম আগামী শুক্রবার থেকে একটি বেঞ্চ নিজ উদ্যোগে নির্মাণ কতরবেন বলে জানিয়েছেন। ফারুক আজম হান্নান বলেন, কাজ শুরু হলে এলাকার গন্যমান্য সকলকে সাথে নিয়ে এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সহ উর্দ্ধথন কর্তৃপক্ষের নজরে এনে তাদেরকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই বিনোদন পার্কে তাদের সহযোগিতা চাওয়া হবে। এই এলাকার অনেক মানুষ ঢাকা সহ দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকেন তাদের প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

 

আতিনুর রহমান মার্শাল বলেন, আমাদের এলাকার বিত্তবানেরা এগিয়ে আসতে হবে পাশাপাশি কুমারখালী সহ অন্যান্য এলাকার সমাজপ্রেমিদের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন তাদের সহযোগিতাও আমরা প্রত্যাশা করি। হাসিমপুর পদ্মা পার্ক নির্মাণ বিষয়ে উপস্থিত থেকে কুমারখালী ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাট্যকার লিটন আব্বাস বলেন, বিনোদন দৈনন্দিন জীবনযাপনের মতো প্রুধান একটি অনুষঙ্গ বিনোেনের অভাবে মানুষ দিনদিন মস্তিষ্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও মানসিক ভারসাম্য হারানোর একটি অন্যতম উপাদান হলো নির্মল ও বিশুদ্ধ বিনোদন না থাকা। বিশুদ্ধ বিনোদন হলো প্রকৃতিপ্রধান।

 

যেখানে বড়অংশের প্রকৃতি না থাকে সেখানে সত্যিখার বিনোদন পাওয়া সম্ভব নয়। হাসিমপুর পদ্মাপাড়া দুখন্ডে বিভক্ত হয়ে মাঝখানে রক্ষা বাঁধটি একদিকে দর্শনার্থীদের হাঁটাচলাচল ও বসবার যোগান দিচ্ছে অন্যদিকে এলাকাও ভাঙন থেকে মুক্তি পাচ্ছে। সুতরাং এই বাঁধে হাসিমপুর পদ্মা পার্কটি নির্মাণ হলে এই এলাকা সহ কুমারখালীর অন্যান্য অঞ্চলের মানুষেরাও বিনোদন উপভোগ করতে আসতে পারবে। বেশি বেশি বিনোদন মানেই বিশুদ্ধ মনন এর উপস্থিতি। হাসিমপুর বিনোদন পার্কে আরো উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক দীপু মালিক, মাহবুবুল আহসান উল্লাস, আব্দুস সালাম অন্তর ও রাকিবুল ইসলাম। এলাকার মানুষের উপস্থিতি ও উল্লাস দেখে এই আশা করা যায় অচিরেই বাস্তবায়িত হতে চলেছে হাসিমপুর পদ্মা পার্ক। সকলের সহযোগিতা দরকার।

আরো খবর »