‘নারীদের ‘পবিত্র’ ও ‘ক্ষমা’ করতেই ধর্ষণ’

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

অার্ন্তজাতিক ডেস্ক: অতীতের পাপ মার্জনা করে পবিত্র করার জন্যই নারী শিষ্যদের ধর্ষণ করেন বলে অনুসারীদের কাছে দাবি করতেন ভারতের কথিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিং।

আর এ কথা বলে নারী শিষ্যদের মধ্যে যারা ‘সাধ্বী’ হতে ইচ্ছুক তাদের ধর্ষিত হওয়ার জন্য প্ররোচিত করতেন ধর্ষকগুরু গুরমিত।

তিনি বলে বেড়াতেন, যেহেতু নারী শিষ্যরা সাধ্বী হওয়ার জন্য তাকে তাদের মন ও শরীর সমর্পণ করেছেন, সেহেতু তিনি যেভাবে ইচ্ছা তাদের ব্যবহার করার অধিকার রাখেন।

গত ২৫ আগস্ট দুই সাধ্বীকে ধর্ষণের অপরাধে গুরমিতকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন  আদালত।

এ মামলায় একজন ধর্ষিতা সাধ্বী পঞ্চকুলার বিশেষ সিবিআই বিচারক জগদীপ সিংয়ের আদালতে দেয়া ১৬৭ পৃষ্ঠার জবানবন্দিতে গুরমিতে ধর্ষণের বিশেষ পদ্ধতির কথা তুলে ধরেন।

আদালতের রায়ে ওই সাধ্বীর জবানবন্দিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়,  কিছু ‘সাধ্বী’ প্রায় সময়েই তাকে জিজ্ঞাস করতেন যে পিতাজি (গুরমিত) তাকে ‘মাফি’ দিয়েছেন কিনা? কিন্তু তিনি এ কথার মানে বুঝতেন না। যখনই তিনি ‘মাফি’ সম্পর্কে জানতে চাইতেন তার দিকে তাকিয়ে তারা হাসতেন।

১৯৯৯ সালের ২৮ ও ২৯ আগস্ট ওই সাধ্বীকে গুরমিতের ডেরা বা গুহায় নিয়ে যান আশ্রমপ্রধান।

এরপর জবানবন্দিতে ওই নারী বর্ণনা দেন, যে গুরমিতকে প্রভু মনে করতেন, তিনি কীভাবে তাকে ধর্ষণ করেছিল।

আর এ ধর্ষণের ঘটনার পর তিনি বুঝতে পারেন ‘মাফি’র মানে আসলে কী।

গুরমিত সিং ওই নারীর কাছে প্রথমে তার অতীত জীবন ও ভুলত্রুটি সম্পর্কে জানতে চান।

পরে তাকে একটি ছেলের লেখা চিঠি দেখানো হয়, যাকে ছেলেটি তাকে বলছে তার দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। কারণ গুরু তার শরীরকে পবিত্র করে তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।

এরপর ওই সাধ্বী অন্য সাধ্বীদের কাছে জানতে পারেন, এভাবেই মেয়েদের নিজের গুহায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন গুরু গুরমিত সিং।

প্রথমবার ধর্ষণ করার প্রায় এক বছর পর ওই সাধ্বীকে ফের নিজ কক্ষে ডেকে পাঠায় গুরু। প্রথমবারের অভিজ্ঞতার কারণে আতঙ্কিত হয়ে তিনি আর যেতে চাননি। পরে লঙ্গরখানা থেকে খাবার বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিলে বাধ্য হয়ে তাকে যেতে হয়।

এবার গুরমিত তাকে ধর্ষণ করলে আশ্রমে থাকা তার আপন ভাই রণজিত সিংয়ের কাছে তিনি সবকিছু ফাঁস করে দেয়ার হুমকি দেন।

কিন্তু গুরমিত বলেন,  তোমার ভাই ডেরার একনিষ্ঠ অনুসারী,  সে এ কথা বিশ্বাস করবে না। আর যদি বিশ্বাস করে, তাহলে তাকে খুন করে ডেরার ভেতরেই পুঁতে ফেলা হবে।

ওই সাধ্বী বলেন, দ্বিতীয় ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর তৃতীয়বারের মতো তাকে ফের গুরমিতের কক্ষে ডাকা হয়। তবে এবার তিনি ওই কক্ষ থেকে দৌড়ে বেরিয়ে তার ভাইকে সবকিছু খুলে বলেন।

পরে তিনি, ভাই রণজিত ও তার দুই মেয়ে আশ্রম থেকে পালিয়ে যান।

২০০২ সালের জুলাই মাসে গুরমিত সিংয়ের বিরুদ্ধে সাধ্বীদের ধর্ষণ করার অভিযোগে একটি উড়ো চিঠি প্রচারের পর কুরুক্ষেত্র জেলার নিজ গ্রামে রণজিতকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ওই চিঠিটি স্থানীয় সাংবাদিক রামচন্দ্র ছত্রপতি তার সম্পাদিত পুরা সাচ-এ প্রকাশ করেন। এরপর তিনিও নিহত হন।

দুই সাধ্বীকে ধর্ষণের দায়ে ২০ বছরের জন্য দণ্ডিত ধর্ষকগুরু গুরমিত রণজিত ও রামচন্দ্র হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত। সূত্র: ট্রিবিউন ইন্ডিয়া।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »