ফরিদপুরে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু

Feature Image

ফরিদপুর জেলার মাটি ও আবহাওয়া ড্রাগন ফল চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় বানিজ্যিক ভাবে শুরু হয়েছে ড্রাগন ফল চাষ। বাজারে ফলের ভাল দাম ও চাহিদা থাকায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এই ড্রাগন ফলের আবাদ। সব ধরনের উঁচু জমিতেই ড্রাগন ফলের চাষ করা যায। উচ্চ ফলনশীল ও প্রচুর পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে এখন জেলার নগরকান্দা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। মিষ্টি ও টক-মিষ্টি স্বাদের ড্রাগন ফলে প্রচুর স্বাস্থ্য উপকারিতা ও প্রসাধনী গুণ থাকায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

ভিয়েতনামের জাতীয় ফল ড্রাগন হলেও সম্প্রতি সময়ে বাংলাদেশে ব্যাপক ভাবে এই ফলের আবাদ শুরু হয়েছে। ক্যাকটাস প্রজাতির বিদেশি এ ফলের আবাদ ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ভাবে শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই ১৬টি বাগান স্থাপিত হয়েছে। অনেকে বাড়ির সামনে ও বাড়ির ছাদে ড্রাগন ফলের বাগান করছেন। চলতি বছর ড্রাগন ফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে ভাল দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাঁসি ফুটেছে। একই জমিতে ড্রাগন চাষের পাশা-পাশি তিল, মুশুড়ী ও মাসকালাইয়ের চাষ করে অধিক লাভবান হচ্ছেন তারা। ড্রাগনের চারা রোপনের ১৩ মাসের মধ্যেই ফল তুলা যায়। এপ্রিল-মে মাসে ফুল আসে আর শেষ হয় নভেম্বর মাসে। ফুল আসার ৩৫ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে ফল সংগ্রহ করা যায়। নভেম্বর মাস পর্যন্ত ফুল ফোটা ও ফল ধরা অব্যাহত থাকে। শীত কালে ড্রাগন ফুল ও ফল হয় না। শুধুমাত্র শীত মৌসুম ছাড়া বছরের সব সময় ড্রাগন ফল পাওয়া যায়। বর্তমানে ফরিদপুরে এক কেজি ড্রাগন ফল বিক্রি হচ্ছে ৫শ থেকে ৬শ টাকায়। ফরিদপুরের চাষীদের উৎপাদিত একটি ফলের ওজন ২৫০গ্রাম থেকে ৩শ গ্রাম পর্যন্ত হয়েছে।

নগরকান্দা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর এর সহযোগিতায় উপজেলার কৃষক বিমল রায়, জাকির হোসেন, ওহিদ সরদার, তুহিন শেখ, জাহাঙ্গীর মোল্য্,া বাবর আলী শেখসহ ১৬জন কৃষক বানিজ্যিক ভাবে শুরু করেছেন ড্রাগন ফলের চাষ। এক একটি ফলের ওজন ২৫০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। একটি পূর্ণাঙ্গ গাছ থেকে ১শ থেকে ১৩০টি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। সঠিক পরিচর্যা করতে পারলে একটি গাছ হতে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাবে।
বাউ ড্রাগন ফল-১ (সাদা) ও বাউ ড্রাগন ফল-২ (লাল)। এ দুটি জাত বাংলাদেশে চাষ করা হচ্ছে। বীজ ও কাটিং পদ্ধতিতে ড্রাগন ফলের চাষ করা যায়। উপযুক্ত যতœ নিলে একরপ্রতি ৬ থেকে ৭ টন ফলন পাওয়া যায়।

নগরকান্দা উপজেলার মহিলা রোড এলাকার চাষী বিমল রায় বলেন, গত আড়াই বছর আগে নগরকান্দা উপজেলা কৃষি অফিসারের পরমর্শে আমার বাড়ির পাশে ১০শতাংশ জমিতে ড্রাগন চাষ শুরু করি। নিয়মিত পরিচর্যা করার কারনে চারা রোপনের ১৩মাসের মধ্যেই আমার বাগানে ফল ধরেছে। আমি প্রথম বছরেরই সাফল্য পেয়েছি। ফল বাজারে নিয়ে বিক্রির ঝামেলা নেই। ফল ছেড়ার আগেই ফল বিক্রি হয়ে যায়। চলতি বছর এ পর্যন্ত ১৪-১৫ হাজার টাকার ফল বিক্রয় করেছি। আশা করছি সামনে নভেম্বর পর্যন্ত আরও ৫-৬হাজার টাকা বিক্রয় করতে পারব। একই জমিতে আমি বিভিন্ন রবি ফসলেরও আবাদ করছি। অল্প খরচ অধিক লাভ ড্রাগণ ফল চাষে।
বাংলাদেশ টেলিভিশন এর ফরিদপুর সংবাদদাতা সাজ্জাদ হুসাইন বলেন, আমার ছেলে ড্রাগন ফল খুব পছন্দ করে। আমি মঙ্গলবার রাতে জানতে পারি মহিলা রোডের কৃষক বিমল রায় তার বাগানের ড্রাগন ফল তুলে বিক্রয় করছে। আমি ঐ রাতেই কৃষক বিমল রায়ের বাতি থেকে কিনে আনি। অত্যান্ত পুষ্টিকর এই ফল।

নগরকান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আশুতোষ কুমার বিশ্বাস বলেন, এটি ভিয়েত নামের জাতীয় ফল। কিন্তু বাংলাদেশেএর সম্ভাবনা খুব বেশী। কৃষকরা এ ফল চাষ করে খুশি। এই ফল বর্তমানে ডাক্তাররাও পেসক্রাই করছে ডায়াবেটিকস ও ব্লাড কোলেষ্ট্রোল উচ্চ তাদেরকে এই ফল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। বাজার ব্যাপক চাহিদা থাকায় গত আড়াই বছরে নগরকান্দা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৬টি বাগান স্থাপিত হয়েছে। অনেকেই এই ফল বাগান করার আগ্রহ প্রকাশ করছে।
সরকারি সহযোগিতা ও সঠিক মূল্য পেলে আগামী এঅঞ্চলে ড্রাগন ফল চাষ আও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।

আরো খবর »