হারিয়ে যাচ্ছে বর্ষার বাহারি ফুল ঝুমকোলতা

Feature Image

উপজেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

মঠবাড়িয়া  থেকে এস.এম. আকাশ:দেখতে কানের ঝুমকার মতো বলেই এ ফুলের পরিচিতি ঝুুমকোলতা। হালকা বেগুনি রঙের আভায় ফোটা ঝুমকোলতা সত্যি বাহারী এক ফুল। স্থানীয়ভাবে এর আরের নাম রাধিকা নাচোন। বাগানের ঝোপঝাড়ে এক সময় এ লতা জাতীয় ফুলটি বেশ চোখে পড়ত। এখন তেমন একটা দেখা মেলেনা। সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ঝুমকোলতা ফুল ফোটে।

তবে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সদরের থানাপাড়া বাসস্টান্ড এর কাছে গুলিসাখালী সড়কের পাশে ঝোঁপ আকড়ে ধরে বেড়ে ওঠা নয়নাভিরাম ঝুমকোলতা গাছে ফুল ফুটেছে । পাতার গোড়া থেকে গজানো লতায় ফুলকলি ধরেছে ফোটার অপেক্ষা নিয়ে।

ঝুমকোলতার বৈজ্ঞানিক নাম: Passiflora Incarnata এটি একটি লতা জাতীয় উদ্ভিদ। প্রাায় ৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এ গাছের পাতা দেখতে হাতের তালুর মতো। পাতায় তিনটি খাঁজ আছে এবং প্রতিটি অংশ দেখতে আগুল সদৃশ। পাতার অগ্রভাগ সুচালো। পাতার কক্ষ থেকে লতা বের হয়। ফুল একক, সুগন্ধযুক্ত। বাতাসে একটা মৌতাতানো সুবাসিত গন্ধ ছড়ায়। হালকা বেগুনি রঙের পাপড়ি বাইরের দিকে সজ্জিত থাকে। এ গাছের ঔষধিগুণ আছে যা বিভিন্ন প্রকার রোগ-প্রতিরোধ ও নিরাময়ে ব্যবহার হয়ে থাকে।

ঝুমকোলতা বা প্যাশন ফ্লাওয়ার ফুলটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকা, মেক্সিকো, ক্যারাবিয়ান, সেন্ট্রাল আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকায় জন্মে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং হাওয়াইয়ের মতো নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলেও জন্মে ঝুমকোলতা। তবে আমাদের দেশে এর বিস্তার লাভের সঠিক তথ্য জানা নেই।

এ গাছের পাতা ছিড়লে কিছুটা গন্ধ বের হয়। ফুলের ব্যসার্ধ ৫-৬ সেন্টিমিটার। ঝুমকোলতার ফলও হয়। ফলের আকৃতি গোলাকার। ব্যসার্ধ ২-৩ সেন্টিমিটার। পাকার সময় ফলটি হলদে কমলা থেকে লাল রঙ ধারণ করে। ফল বহুবিচিযুক্ত। ফুলটির মঞ্জরিপত্র থেকে এক ধরনের আঠালো পদার্থ নিঃসৃত হয়। ঝুমকো লতায় প্রচুর পরিমাণে স্যাপনিনস থাকায় এটি নাকি সাবানের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয় ডিটারজেন্ট তৈরিতে।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »