নীলফামারীতে তিস্তায় ভাঙ্গন আতংকে ডাঁনতীরে অর্ধ শতাধিক পরিবার

Feature Image

জেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

নীলফামারী থেকে আব্দুর রাজ্জাক: তিস্তা নদীর পানি কমে গেলেও এখনও তিস্তা পাড়ে ভাঙ্গন আতংক কমেনি এই জনপদের মানুষের। সরেজমিনে দেখা যায়, বাধটি ক্রমাগত ভাবে ধ্বসে গিয়ে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাাচ্ছে। সেই সাথে ভাঙ্গন আতংকে পড়েছে তিস্তার কিনারে বসবাসরত পরিবারগুলোর। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেই কোন ভাবনা। নেওয়া হয়নি কোন স্থায়ী পরিকল্পনা।

জানা যায়, উজানের ঢলে গেল বন্যায় তিস্তার ডানঁতীরে তিস্তা রক্ষা স্বপন বাঁধটি ভেঙ্গে গিয়ে তিস্তাপাড়ের বাড়ীঘর নদী গর্ভে বিলীন হলেও এখন ভাঁঙ্গন আতংকে রয়েছে ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের পূর্বখড়িবাড়ী গ্রামের প্রায় অর্ধ শতাধিক পরিবার। এলাকাবাসী শুকুর আলী, জবেদা বেগম, আবেদা বেগম, রহিমা বেগম আলিম বেগম ও ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম জানান, তিস্তার ডাঁনতীরে স্বপন বাঁধটির প্রায় ৫’শ মিটার ধ্বসে গিয়ে ২৭টি পরিবারের বসতভিটা ও বাড়ীঘর নদী গর্ভে বিলীণ হয়ে যায়। নদীগর্ভে বিলীন হওয়া বাঁধটি ভাঙ্গন রোধে যদি স্পার কিংবা পাইলিং করা না হয় তাহলে তিস্তার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে বাঁধটি আরো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গ্রামের আরো অর্ধ শতাধিক পরিবারের বসতভিটাসহ বাড়ীঘর তিস্তার গর্ভে চলে যাবে।

অপরদিকে ২৭টি পরিবারের বসতভিটা নদী গর্ভে চলে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে ভাঙ্গনের শিকার পরিবারের মানুষজন। যে কোন মূহুর্তে বাড়ীঘর বিলীন হতে পারে আতংকে দিনাতিপাত করছে নদীর কিনারে বসবাসরত এসব পরিবার। ভাঙ্গন আতংকে বাড়ীঘর সরিয়ে নিতে দেখা গেছে বেশ কিছু পরিবাররের সদস্যদের। টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন জানান, ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত স্বপন বাঁধটি অব্যাহত ভাবে ধীরে ধীরে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেলেই নদীর কিনারে থাকা পরিবারগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে। তিনি বাঁধটি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে । নীলফামারী জেলা প্রশাসক খালেদ রাহীম জানান, বাঁধটি যাতে আর ভাঙ্গতে না পারে সে জন্য বালুর বস্তা ও সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধটি রক্ষার ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য আমি পাউবো কর্তপক্ষকে বলেছি।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »