রাম রহিমের ডেরায় গোপন সুরঙ্গ ও বিস্ফোরক কারখানা

Feature Image

ধর্ষণের দায়ে ভারতের স্বঘোষিত ধর্মীয়গুরু গুরুমিত রাম রহিম সিংকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তিনি এখন কারাগারে বন্দী।
এদিকে গুরুর বিশাল সাম্রাজ্যে শুক্রবার থেকে কমান্ডো তল্লশি শুরু করেছে পাঞ্জব ও হরিয়ানা রাজ্যের পুলিশ।

শনিবার ছিল সিরসার ডেরা সচ্চা সৌদার সদর দফতরে পুলিশি তল্লাশির দ্বিতীয় দিন। এ দিনের তল্লাশিতে বিশাল একটি বিস্ফোরক কারখানার খোঁজ মিলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে ৮০ কার্টনের বেশি বিস্ফোরক।

সূত্র জানায়, তল্লাশি অভিযান শুরুর ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই খোঁজ মেলে কারখানাটির। পুলিশের প্রাথমিক ধারনা যে, এখানে বহু দিন ধরে তৈরি করা হত বিস্ফোরক। কারখানাটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। তদন্তের কাজে লাগানো হয়েছে রুরকি থেকে আসা ফরেন্সিক দলকে।

বিস্ফোরকের প্রকৃতি এবং তা কতটা শক্তিশালী সে সব পরীক্ষা করা দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি কারখানায় তৈরি বিস্ফোরক বাইরে বিক্রি করা হত কি না সে বিষয়টিরও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ দিনের তল্লাশিতে দুইটি গোপন সুরঙ্গের খোঁজ মিলেছে।

বিপুল এ তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ এবং সরকারি নানা বিভাগের ১০টি দল। রয়েছে ৪১ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী, ফরেন্সিক দলও। পুরো বিষয়টি ভিডিও করে রাখতে লাগানো হয়েছে ৬০টিরও বেশি ক্যামেরা।

প্রথম দিনের তল্লাশিতে মিলেছিল ১ টাকার নীল, ১০ টাকার কমলা রঙের প্লাস্টিকের কয়েন। মিলেছে ১২০০টা নতুন নোট। বাতিল পাঁচশো-হাজারের ৭০০০টা নোট। পাওয়া গিয়েছে ১৫০০ জোড়া জুতো, ৩ হাজারেরও বেশি ডিজাইনের জামাকাপড়! বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে অজস্র ল্যাপটপ, হার্ড ড্রাইভ। ডেরার সদর দফতরে বহু লাশ কবর দেয়া রয়েছে বলেও খবর মিলেছে। সে জন্য ইতিমধ্যেই জেসিবি মেশিন এনে মাটি খোঁড়া শুরু করেছে পুলিশ।

নিরাপত্তার খাতিরে এ দিনও তল্লাশির সময়ে জেলায় মোতায়েন রয়েছেন পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ। গতকালের মতো এ দিনও ডেরা সদর দফতরের বাইরে রয়েছে ডগ স্কোয়াড। রয়েছে বম্ব স্কোয়াড, দমকল, অ্যাম্বুল্যান্সও।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

আরো খবর »